নির্বাচনী সহিংসতায় কিশোর অপরাধীরা
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ০৪:৩৬ পিএম
# মাঠ দখল ও প্রভাব বিস্তারে কিশোরদের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে অবৈধ অস্ত্র
# দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপের ২৪টির মধ্যে সিংহভাগ ইউনিয়নেই কিশোরদের দৌরাত্ন
# স্বরলতার সুযোগ নিয়ে কিশোরদের ব্যবহার করছে রাজনৈতিক নেতা ও প্রার্থীরা : নুরুদ্দিন
সমাজে কিশোর অপরাধীদের দৌরাত্ন নতুন নয়। এলাকায় বিভিন্ন সেক্টর দখল প্রভাব বিস্তারে উঠতি বয়সি এই কিশোরদের ব্যবহার করে থাকে এক শ্রেণির রাজনৈতিক নেতা ও তাদের কর্মীরা। সম্প্রতি কিশোর অপরাধীদের অস্ফালন যেন বেড়েছে কয়েকগুন। সরেজমিনে দেখা গেছে, কেবল অবৈধ সেক্টরে প্রভাব বিস্তারই নয়, উঠতি বয়সি কিশোরদের ব্যবহার করা হচ্ছে নির্বাচনি প্রভাব বিস্তার ও মাঠ দখলের দুঃসাহসিক কাজেও।
সমাজ বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন দুঃসাহস লালন করা কিশোর অপরাধীদের পরিচালনা করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেয়া প্রার্থীরাও। প্রভাব বিস্তার ও মাঠ দখলের লড়াইয়ে কিশোরদের সামনে রেখে তাদের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে অবৈধ অস্ত্রও।
ঘটনা সূত্রে দেখা যায়, গত ১১ই নভেম্বর দ্বিতীয় ধাপে নারায়ণগঞ্জ জেলার ১৬টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর গতকাল ২৭ নভেম্বর তৃতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত হয় সোনারগা উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে নারায়ণগঞ্জের মোট ২৪টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের মধ্যে সিংহভাগ ইউনিয়ন পরিষদের একাধিক ভোট কেন্দ্রে হয়েছে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। এসব সংঘর্ষের অগ্রভাগে দেখা গেছে কিশোর অপরাধীদের। যাদের হাতে বিস্ফোরক ককটেল বোমাসহ ছিলো দেশীয় ধারালো অস্ত্রও।
সরেজমিনে দেখা যায়, গত ১১ই নভেম্বরের নির্বাচনে ফতুল্লার এনায়েতনগরে মেম্বার প্রার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই সংঘর্ষে দেশীয় ধারালো অস্ত্রধারী একাধিক কিশোর অপরাধীকে অংশ নিতে দেখা যায়। একই ভাবে গোগনগর, আলীরটেক, বন্দরের ধামগড়, কলাগাছিয়া, রূপগঞ্জের মুড়াপাড়া, ভোলাবো, কায়েতপাড়া এবং সবশেষ গতকাল সোনারগাঁয়ের জামপুর ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি এলাকায় নির্বাচনী সহিংসতায় উঠতি বয়সী কিশোরদের অংশ নিতে দেখা গেছে। যাদের অনেকেই হাতেই ছিলো দেশীয় অস্ত্র, ককটেল। বিশেষ করে, গতকালের সোনারগাঁ ইউনিয়ন পরিষদের জামপুরসহ যেসকল ইউনিয়নে নির্বাচনি সহিংসতা হয়েছে, সেখানেও দেখা গেছে অস্ত্রধারী কিশোর অপরাধীদের।
অভিযোগ উঠেছে, এসব ইউনিয়নগুলোর চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীরাই আধিপত্য বিস্তারের জন্য ব্যবহার করেছেন এমন অস্ত্রধারী কিশোরদের। এমনকি তাদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে অস্ত্র।
সচেতন মহল বলছে, স্থানীয় রানৈতিক ব্যক্তিরা তাদের মিটিং মিছিলে লোক বাড়াতে এবং এলাকার আধিপত্য ধরে রাখতে এযাবৎ যেই কিশোর অপরাধীদের আশ্রয়-পশ্রয় দিয়েছে, সেই কিশোর অপরাধীরাই ক্ষমতালোভী কিছু রাজনৈতিক নেতাদের হাত ধরে স্থানীয় নির্বাচনের সহিংসতায় লিপ্ত হয়েছে। ভবিষ্যতে এই কিশোর অপরাধীরা তাদের আস্ফালনের মাত্রা দিনকে দিন ছাড়িয়ে যাবে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করছেন সচেতন মহল। তা প্রতিরোধে অভিভাবক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের যেমন সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরী, তেমনই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরও সদস্যদেরও কঠোরতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই বলে মত প্রকাশ করেছেন বোদ্ধামহল।
এই বিষয়ে সামাজিক সংগঠন ‘আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী’র সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা নুরুদ্দিন দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘কিশোরদের ভালো-মন্দ বুঝার মত পরিপক্ক জ্ঞান থাকে না। রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং নির্বাচনে আসা প্রার্থীরা কিশোরদের এই স্বরলতার সুযোগ নিয়ে তাদের ব্যবহার করছে। সেল্টার দেয়ার কথা বলে প্রভাব বিস্তারের জন্য তারাই কিশোরদের অস্ত্র হাতে তুলে নেয়ার জন্য উৎসাহিত করছে। মূলত, কিশোররা পারিবারিক ও ধর্মীয় অনুশাসন না পাওয়ায় কিশোর অপরাধীতে পরিণত হচ্ছে। এই জন্য তাদের পারিবারিক ও ধর্মীয় অনুশাসন শিক্ষা দেয়া সহ আমাদের রাজনৈতিক ব্যক্তিদের উচিৎ তাদের আস্কারা না দেয়া। কারণ, এক সময় তাদের লালিত কিশোর অপরাধীরাই তাদের সমাজতো বটেই ওই সকল রাজনৈতিক নেতাদের জন্যেও হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।’


