Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

ফ্যাশন সিটির বকেয়া পাওনা পরিশোধের দাবিতে ডিসিকে স্মারকলিপ

Icon

প্রকাশ: ১৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০৫:১৩ পিএম

ফ্যাশন সিটির বকেয়া পাওনা পরিশোধের দাবিতে ডিসিকে স্মারকলিপ

বকেয়া পাওনার দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে কুনতং এ্যাপারেলস লি. এর ফ্যাশন সিটির শ্রমিকরা।

Swapno

 

বকেয়া পাওনার দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে কুনতং এ্যাপারেলস লি. এর ফ্যাশন সিটির শ্রমিকরা। সোমবার (১৩ ডিসেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে তারা।  

 

এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি আবু নাঈম খান বিপ্লব, জেলা গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি সেলিম মাহমুদ, জেলা রি-রোলিং স্টিল মিলস শ্রমিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক এস.এম.কাদির , জেলা গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরীফ, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সভাপতি রুহুল আমিন সোহাগ, কাচঁপুর শিল্পাঞ্চল শাখার সহ-সভাপতি আনোয়ার খান, কারখানার শ্রমিক সীমা,  সাবিনা , রিনা , বিনু ও তহুরা প্রমুখ। স্মারকলিপি প্রদান শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা বলেন, ফ্যাশন সিটি মালিক কর্তৃপক্ষ গত ১২ সেপ্টেম্বর’২০ তারিখে কারখানাটি হঠাৎ লে-অফ করে। বেপজা আইন লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত আরো ৩ মাস লে-অফ করে রাখে।

 

জানুয়ারী’২১ শেষ সপ্তাহে এসে মালিক কর্তৃপক্ষ জানায় কারখানাটি ১ জানুয়ারী’২১ তারিখ থেকে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। উল্লেখ্য ডিসেম্বর’২০ মাসের বকেয়া বেতন গ্রহন করতে  শ্রমিকরা কারখানায় গেলে পুলিশ ও সন্ত্রাসীরা শ্রমিকদের উপর হামলা চালায় এবং অর্ধশতাধিক শ্রমিক আহত হয়। ১৬ জানুয়ারি’২১ বেপজা কতৃপক্ষ শ্রমিক নেতৃবৃন্দর সাথে কুনতং এ্যাপারেলস লিঃ এর সংকট নিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আলোচনা করেন। তখনো বলা হয়েছে কারখানাটি লে-অফ। বাস্তবে কারখানাটি ব্যাক ডেটে বন্ধ করা হয়েছে। শ্রমিকরা আইন মেনে দীর্ঘদিন লাগাতার আন্দোলন কর্মসূচি করার ফলে গত ১৫,১৬ ও ১৭ ফেব্রুয়ারী ’২১ শ্রমিকদের আইনগত প্রাপ্য পাওনা থেকে মাত্র ৩৬ শতাংশ পরিশোধ করা হয়েছে। বেপজা কর্তৃপক্ষ থেকে বলা হয় অবশিষ্ট ৬৪ শতাংশ পাওনাদি অচিরেই পরিশোধ করা হবে।

 

কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ মাস অতিক্রান্ত হলেও শ্রমিক-কর্মচারীদের বকেয়া ৬৪ শতাংশ পাওনাদি পরিশোধ করা হয় নাই। বিভিন্ন মাসের বিভিন্ন তারিখে বেপজা কর্তৃপক্ষ পাওনাদি পরিশোধের মৌখিক তারিখ দিলেও পাওনা পরিশোধ করে নাই । বরং শ্রমিকরা তারিখ মোতাবেক ইপিজেড গেইটে জড়ো হলে উপস্থিত শ্রমিকদের উপর হামলা করা হয় এবং শত শত অজ্ঞাত শ্রমিকদের নাম উল্লেখ করে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়।

 

বক্তারা আরও বলেন, শ্রমিকদের প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি, অর্জিত ছুটি, টার্মিনেশন ও মার্তৃত্বকালীন সুযোগ সুবিধার টাকা শ্রমিক কাজ করা অবস্থায় মালিকের নিকট আইন অনুযায়ী জমা থাকে, তাহলে টাকা পরিশোধে এত গড়িমসি, অজুহাত দেখিয়ে বিলম্ব কেন? শ্রমিকদের বকেয়া প্রাপ্য পাওনা আত্মসাৎ প্রচেষ্টাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে বিচার করার দাবি জানান। ইপিজেডস্থ শ্রম আইন আলাদা করেছে সরকার মালিকদের রক্ষা করার জন্য এবং শ্রমিকেরা নিরাপদ কর্মপরিবেশ, শ্রম অধিকার নিশ্চিতভাবে যাতে পায় সেজন্য। এই ১০ মাসে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির কারনে বাসাভাড়া গ্যাস বিল বেড়ে যাওয়ায় শ্রমিকেরা মানবেতর জীবন যাপন করছে। তাদের সন্তানদের লেখাপড়া, পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা করতে না পারার সঞ্চয় না থাকার কারনে বিপদ থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইপিজেড এর সমস্ত ভালোমন্দ দেকভাল করেন, তাহলে এই শ্রমিকরা

 

আজকে রাজপথে বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করছে তাদের খবর কি রাখেন না? ৬৪ শতাংশ বকেয়া প্রাপ্য পাওনা আদায় করে দেওয়ার জন্য গত ১২ নভেম্বর২১’ তারিখে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ও.সি  এবং গত ২৮ নভেম্বর’২১ জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, আদমজী বেপজা কতৃপক্ষ ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ সুপার-৪ বরাবর স্মারকলিপি পেশ করেছে। এখনো সংকট সমাধান করতে কোনো কতৃপক্ষ এগিয়ে আসেনি। আমরা অবিলম্বে শ্রমিকদের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং বকেয়া ৬৪ শতাংশ প্রাপ্য পাওনা পরিশোধ করার আহ্বান জানাচ্ছি। অন্যথায় শ্রমিকেরা কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন