Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

ত্বকী হত্যার বিচারের দাবি জোরদার

Icon

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০২২, ০৪:২৯ পিএম

ত্বকী হত্যার বিচারের দাবি জোরদার

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তৃতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৬ জানুয়ারি। এই নির্বাচনের মাত্র ৮দিন আগে ত্বকী হত্যা ও বিচারহীনতার ১০৬ মাসে আলোকপ্রজ্বালনের আয়োজন করে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট।

Swapno

 

# এবারের সিটি নির্বাচনে অনেক অজানা  তথ্য সংগহ করেছেন আ’লীগ নেতারা  
 

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তৃতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৬ জানুয়ারি। এই নির্বাচনের মাত্র ৮দিন আগে ত্বকী হত্যা ও বিচারহীনতার ১০৬ মাসে আলোকপ্রজ্বালনের আয়োজন করে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট। সারাদেশে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে যেমন আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু থাকে, তেমনি ত্বকীর হত্যাকারীদের শাস্তির আওতায় নিয়ে আসার দাবিতে গোটা বিশ্বের লাখো মানুষ নারায়ণগঞ্জের দিকে তাকিয়ে আছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের হ্যাট্রিক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীও নানা সময়ে বক্তব্যে স্পষ্ট বলেছেন, ত্বকীর হত্যাকারীদের সাথে কোন আপোষ নয়। তাদের বিচার অবশ্যই তিনি চান।



এদিকে সূত্র জানিয়েছে, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তৃতীয় নির্বাচনের পর আবারো নতুন করে দাবি উঠেছে ত্বকীর হত্যাকারীদের আইনের আওতায় দ্রুত নিয়ে আসার। সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ  সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘনিয়ে এলেই ত্বকীর হত্যার বিষয়টি আরো মোটা দাগে সবার চোখের সামনে উঠে আসে। ২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে বাস ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে জোরালো ভূমিকা এবং তখন স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করার কারণে ত্বকী বাবা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বির উপর ক্ষিপ্ত ছিল ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়া পরাজিতরা। এর জের ধরেই পরবর্তীতে ত্বকী হত্যার ঘটনা ঘটে বলে মত নগরবিশ্লেষকদের। আর সেই মহলটি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন এলেই আইভীর প্রত্যক্ষ বিরোধিতা করে থাকে। নাসিকের দ্বিতীয় ও তৃতীয় নির্বাচনের আগেও এর ব্যতিক্রম কিছু ঘটেনি। আইভীকে দমানো অথবা থামিয়ে দেয়া গেলেই ত্বকী, চঞ্চল, বুলু, আশিকসহ অন্যান্য হত্যাকাণ্ডের বিচার চাওয়ার দাবিটি স্তিমিত হবে বলে মনে করে ওই মহলটি।



সূত্র জানায়, নাসিক তৃতীয় নির্বাচনে আশাবাদী অনেক চিত্রই পরিলক্ষিত হয়েছে। সেটি হচ্ছে আইভীর নৌকা প্রাপ্তিতে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের একটি মহল কেন খুশি হতে পারেনি, কেনই বা আইভীকে হারিয়ে দিতে ওই মহলটি এতো তৎপর হয়ে মাঠে নেমেছিল তা সক্রিয়ভাবে মাঠে থেকে খোদ আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা এবং গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিগণ বাস্তবচিত্র তুলে নিয়ে রিপোর্ট আকারে পেশ করেছে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা আইভীর পক্ষে প্রচারণায় এসে স্পষ্টভাবে বলে গেছেন, নারায়নগঞ্জে কারা সন্ত্রাস করে এবং কে কি করেন তা তারা ওয়াকিবহাল হয়েছেন। শান্তিপ্রিয় নারায়ণগঞ্জ গড়তে দলীয়ভাবেও তারা ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েই নারায়ণগঞ্জ থেকে গেছেন। এছাড়া নাসিক নির্বাচনের মাত্র ৮দিন আগে আবারো ত্বকীর বাবা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি পুরো বিষয়টিকে জনসাধারণের কাছে পরিষ্কার করেন। 

 

৮ জানুয়ারি সন্ধ্যায় আলী আহাম্মদ চুনকা নগর পাঠাগার ও মিলনায়তন প্রাঙ্গণে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটে আয়োজনে আলোক প্রজ¦ালন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি ভবানী শংকর রায়ের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক শাহীন মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, নিহত ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি, সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সদস্য সচিব হালিম আজাদ, যুগ্ম আহ্বায়ক দৈনিক খবরের পাতার সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান মাসুম, খেলাঘরের জেলা সভাপতি রথীন চক্রবর্তী, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি এড. জিয়াউল ইসলাম কাজল, এড. প্রদীপ ঘোষ বাবু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনি সুপান্থ, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক দীপু, বাসদ জেলা সমন্বয়ক নিখিল দাস, ন্যাপ জেলা সাধারণ সম্পাদক এড. আওলাদ হোসেন ও ওয়ার্কার্স পার্টি জেলা সভাপতি হাফিজুর রহমান।


সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহবায়ক ও নিহত ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি বলেন, ত্বকী হত্যার নয়বছর হতে চলল অথচ সরকার অঘোষিত এক ইন্ডেমনিটির মাধ্যমে এর বিচার বন্ধ করে রেখেছে। র‌্যাবের তৈরী করে রাখা অভিযোগপত্র আটকে রাখা হয়েছে। র‌্যাব সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছে, নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবার তাদেরি টর্চারসেলে ১১জন মিলে ত্বকীকে হত্যা করেছে। এই ঘাতকরা এখন বীরদর্পে ঘুড়েবেড়াচ্ছে। প্রশাসন-সরকার তাদের নিরাপত্তা দিচ্ছে। দেশে বিচ্রহীনতার এইটি একটি নগ্ন উদাহরণ। ত্বকী হত্যার আগে এই ওসমান পরিবার এখানে বহু হত্যা কাণ্ড ঘটিয়েছে, কিন্তু ত্বকী হত্যার পরে সারাদেশের মানুষ জেনেছে এইটি একটি খুনী পরিবার। হত্যা, সন্ত্রাস, চাঁদাজাজি, মাদক-ব্যবসা, দখলদারিত্ব বজায় রাখতে তারা লাশের রাজনীতি করে। প্রতিপক্ষকে দমাতে তারা খুন-হত্যা করে ভয়ের পরিবেশ তৈরীকরে রাখে। তিনি বলেন, এই ওসমান পরিবারের কোন রানীতি বা আদর্শ নেই। তারা নিজেদের পরিবারের স্বার্থকেই আদর্শ মনে করে। নিজেদের স্বার্থে তারা জামায়াত-বিএনপি, হেফাজত এমনকি বঙ্গবন্ধুর খুনীদেরকেও বন্ধু বানায়। তারা নির্বাচনে যাদের সমর্থন দেয় জনগণ তাদের প্রত্যাক্ষান করে, ভোট দেয় না। তাদের জিততে হলে জাল-জালিয়াতি করে, কেন্দ্র দখল করে জিততে হয়। জনগণের ভোটে ওসমান পরিবারের নিজেদেরই যেখানে কখনো বিজয়ী হওয়ার নজির নাই, জাল-জালিয়াতী করে বিভিন্ন সময় জিততে হয়েছে- সেখানে তাদের সমর্থিতদের মানুষ ভোট দেবে কেন?


তিনি বলেন, সরকারের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে শামীম ওসমান যেন সরকারের ভেতরে আরেক সরকার। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনি এই ফ্র্যাঙ্কেন স্টাইনকে থামান, ঘাতকদের আর আশ্রয়-প্রশ্রয় দেবেন না, ত্বকী হত্যার বিচারের নির্দেশ দেন।


নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মাহাবুবুর রহমান মাসুম বলেন, ত্বকীর ঘাতক ওসমান পরিবার এখনো ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। তারা নারায়ণগঞ্জকে অশান্ত করতে চায়। আজকে বিএনপি-জামায়াতের প্রতিনিধিকে নিয়ে সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিরুদ্ধে তারা নির্বাচনের পরিবেশকে কলুষিত করতে চাচ্ছে। তিনি বলেন, আইভীর বিরুদ্ধে যিনি জনতার প্রার্থী হয়েছেন তাকে বিগত চল্লিশ বছরে কখনো দুঃখে-দুর্দশায়, সমস্যা-সংকটে নারায়ণগঞ্জের মানুষ পাশে দেখেনি, এমনকি ত্বকী সহ কোন হত্যার পরেও তিনি কোন টু-শব্দটি করেননি। তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন আপনি কোন একটি পরিবারের প্রধানমন্ত্রী নন, ষোল কোটি মানুষের প্রধানমন্ত্রী, আপনি নারায়ণগঞ্জের মানুষের পাশে দাঁড়ান, নারায়ণগঞ্জের সকল হত্যার বিচার করেন।


সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সদস্য সচিব হালিম আজাদ বলেন, আটবছর আগে ত্বকী হত্যার তদন্ত শেষ হয়ে অভিযোগপত্র তৈরী করে রাখার পরেও তা আদালতে পেশ করা হয় নাই। প্রধানমন্ত্রীর অনিচ্ছার কারনে এ হত্যার বিচার বন্ধ করে রাখা হয়েছে। ঘাতকরা চিহ্নিত হবার পরেও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। প্রশাসন তাদের নিরাপত্তা দিচ্ছে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন আপনাকে ত্বকী হত্যার বিচার করতে হবে।


উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ নগরীর শায়েস্তা খাঁ রোডের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। দু’দিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী শাখা খাল থেকে ত্বকীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই বছরের ১২ নভেম্বর আজমেরী ওসমানের সহযোগী সুলতান শওকত ভ্রমর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে জানায়, আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ত্বকীকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়। এর পর থেকে ত্বকীর হত্যার বিচার শুরু ও চিহ্নিত আসামীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে  প্রতিমাসের ৮ তারিখ আলোকপ্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করে আসছে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট।.

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন