আইভীর কাছে প্রথম বছরেই ছয় সমস্যার সমাধান চায় মানুষ
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০২২, ০৪:৪২ পিএম
# জন্মনিবন্ধন, জলাবদ্ধতা, যানজট, হোল্ডিং ট্যাক্স, বন্দরে চাঁদাবাজী, কদম রসুল সেতু
জন্মনিবন্ধনে প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ, শহরে জলাবদ্ধতা নিরসন, যানজট নিরসনে কার্যকর ব্যাবস্থা গ্রহণ, হোল্ডিং ট্যাক্স কমানো বা সমন্বয় করা, বন্দরে রিকশা অটো রিকশা সিএনজি থেকে চাঁদাবাজী বন্ধ করা এবং কদমরসুল সেতু বাস্তবায়নের মতো বিষয়গুলি প্রথম বছরেই সমাধান করতে হবে মেয়র আইভীকে। কারণ এবারের নির্বাচনে এসব বিষয়কেই হাতিয়ার করেছিলো তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা।
জন্ম নিবন্ধন : এবারের নির্বাচনে মাঠে ঘাটে জন্ম নিবন্ধন করতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হতে হয় বলে ব্যাপক সমালোচনা ছিলো। কারণ জন্ম নিবন্ধন ছাড়া আজকাল শিশুদের লেখাপড়া বন্ধ। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই ভর্তি নেবে না এই জন্ম নিবন্ধন না থাকলে। তাই এবার অভিযোগ উঠেছিলো সিটি করপোরেশনে জন্মনিবন্ধন করতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে অভিভাবকদের। তাই এ বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন মেয়র আইভী। তাই এই সমস্যাটি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে সমাধান করা জরুরী বলে মনে করেন নগরীর প্রত্যেকটি মানুষ।
শহরে জলাবদ্ধ নিরসন : এটা ঠিক যে রাজধানী ঢাকায়, চট্টগ্রাম শহরে এমন কি ফতুল্লা থানা এলাকায় যে ধরণের জলাবদ্ধতা হয় তেমন জলাবদ্ধতা নারায়ণগঞ্জ শহরে হয় না। শহরের ১২, ১৩ এবং ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কিছু এলাকায় বৃষ্টি হলে পানি জমে। যদিও এই পানি কয়েক ঘন্টার মধ্যেই চলে যায়, তারপরেও এবার এই জলাবদ্ধতার বিষয়টিকে ইস্যু বানিয়েছিলো মেয়র আইভীর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। তাই এবার তিনি এই সমস্যাটিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে সমাধানের চেষ্টা করবেন বলে আশা করছে নারায়ণগঞ্জ শহরবাসী।
নারায়ণগঞ্জ শহরে যানজট নিরসন : এ বিষয়ে মেয়র আইভীর আরো কঠোর হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। ফুটপাতগুলো হকারমুক্ত করার পাশিাপাশি শহরে অবাধে যে সকল অটো রিকশা চলাচল করছে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং শহরের চাষাঢ়া এবং ২নং রেলগেইট এলাকায় যে সকল অবৈধ স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে এগুলো বন্ধ করে দিতে হবে। এছাড়া রেল যাতায়ত চাষাঢ়া পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।
ট্যাক্স সমন্বয় : এবার মেয়র আইভীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার নগরবাসীর হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধির ব্যাপারে রীতিমতো অপপ্রচার চালিয়েছেন। তবে এই অপপ্রচারের জবাবে মেয়র বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন বলে বক্তব্য রেখেছেন। তাই নগরবাসীর জন্য হোল্ডিং ট্যাক্স কতোটা সহনশীল করা যায় সে বিষয়টি দেখতে হবে মেয়রকে। প্রথম বছরেই এই সমস্যার সমাধান করতে হবে।
বন্দরে পরিবহনে চাঁদাবাজি : বন্দরে রিকশা অটো রিকশা এবং সিএনজি থেকে কয়েকটি স্পটে ব্যাপক চাঁদাবাজি করা হচ্ছে। বিশ টাকার খেপ নিয়ে গেলেও দশ টাকা রেখে দিচ্ছে এমন কি খালি গেলেও আসতে যেতে দশ টাকা করে বিশ টাকা করে দিতে হচ্ছে। এই অপকর্মটি করছে গডফাদারদের চেলা খান মাসুদ। কিন্তু দোষ দেয়া হচ্ছে মেয়র আইভীর। তাই এ ব্যাপারে এবার সম্ভব হলে সিটে বসার আগেই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে মেয়কে। যেকোনো মূল্যে এই জুলুম নির্যাতন বন্ধ করতে হবে।
কদম রসুল সেতু নির্মাণ : কদম রসুল সেতু নির্মাণের বিষয়টি মেয়র আইভীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং চ্যালেঞ্জিং একটি বিষয়। এই সেতু নির্মাণ করতে পারলে সেটা হবে মেয়র আইভীর সবচেয়ে বড় একটি সাফল্য। তাই নারায়ণগঞ্জবাসী আশা করেন প্রথম বছরেই তিনি এই সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করবেন।
প্রধানত এই কয়টি কাজ করতে পারলেই মেয়রকে আর পেছন তাকাতে হবে না বলে মনে করেন নারায়ণগঞ্জের সচেতন মহল। তাই তিনি এসব কাজকে এক নম্বর গুরুত্ব দিয়ে প্রথম বছরেই এসব সমস্যার সমাধান করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।


