Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

ভাষার মাস কথকতা : কে এই মমতাজ বেগম

Icon

করীম রেজা

প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১০:১৬ এএম

ভাষার মাস কথকতা : কে এই মমতাজ বেগম
Swapno

ভাষা আন্দোলনে মমতাজ বেগম এক বিপ্লবী মানুষ। নারায়ণগঞ্জ শহর থেকে সুসংগঠিত আন্দোলনে রামধানীর, প্রশাসনকেও কাঁপিয়ে তুলেছিলেন। তৎকালীন আদমজী পাটকলের শ্রমিকরাও রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে তার ডাকে সাড়া দিয়ে নারায়ণগঞ্জে উত্তাল করে তোলেন। মহকুমা প্রশাসকের নির্দেশে মর্গ্যান স্কুলের তহবিল তসরুপের মিথ্যা অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু নারায়ণগঞ্জের মানুষ ঠিকই বুঝতে পারে মিথ্যা ও সাজানো অভিযোগ। মহকুমা কার্যালয় অবরোধ করে।

 

ঢাকা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স আনতে হয়। জনতার সঙ্গে সংঘর্ষ চলে। এক পর্যায়ে তাকে রাতের বেলা ঢাকা জেলখানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হয়। উত্তেজিত জনতা চাষাঢ়ায় অবস্থান নেয়। গাছ কেটে রাস্তা বন্ধ করে জামতলা এলাকায় দৈনিক আজাদ, দৈনিক আনন্দ বাজারসহ প্রধান প্রধান পত্রিকায় এই খবর গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করা হয়। জেলখানা থাকাকালীন মুচলেকা দিয়ে মুক্তির প্রস্তাব প্রত্যাখান করেন। এমনকি প্রেম করে বিয়ে করা স্বামীও তাকে বন্ড সই দিয়ে বের হতে প্ররোচনা দেয়।

 

কিন্তু মমতাজ বেগম তাকে ফিরিয়ে দেন। জেলখানায় আটকাবস্থাতেই স্বামীর তালাকনামা হাতে পৌঁছায়। ফরিদপুরের বাসিন্দা কাশিয়ারীর আব্দুল মন্নাফ সিভিল সাপ্লাই বিভাগের উচ্চপদের চাকরি রক্ষার জন্যই স্ত্রীকে তালাক দেন। মুসলিম লীগ সরকার মমতাজ বেগমবে ভারতীয় চর হিসেবে মিথ্যা প্রচারণা শুরু করে। কারণ তিনি ছিলেন হিন্দু বনেদি পরিবারের সন্তান। পিতা ছিলেন কলকাতা হাইকোর্র্টের বিচারপতি, মাতা স্কুল শিক্ষিকা। পিতামহ ছিলেন জমিদার। মামা বিখ্যাত সাহিত্যিক প্রমথ নাথ বিশী।

 

তাঁর নাম ছিলো কল্যাণী, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্রের প্রেমে নাম বদলে হন মমতাজ বেগম। ১৯৪২ সনে কলকাতার ‘দি স্টে ব্যাংক অব ইন্ডিয়া’র উচ্চ বেতনের চাকরি ছেড়ে সঙ্গে গোয়ালন্দে চলে আসেন। ভাষা আন্দোলনের দেড়, দুই বছর পর জেল থেকে মুক্তি পেয়ে একমাত্র কণ্যাশিশুকে নিয়ে বিপাকে পড়েন। কোনও নিরাপত আশ্রয় ছিল না। তবুও ভেঙ্গে পড়েননি। নানা জায়গায় শিক্ষকতা পেশায় ফিরে গেছেন। শিক্ষকরূপে অবসর নিয়ে নিঃসঙ্গ অবস্থায় ১৯৬৭ সালে মারা যান।

 

কলকাতায় কখনো কিংবা প্রেমিক স্বামীর কাছেও কখনো যান নি। সে সময়ে আওয়ামীলীগ তথা প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলের নবীণ-প্রবীণ সদস্যদের সবাই রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে মমতাজ বেগমকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ সময় রাজপথ উজ্জীবিত করে রেখেছেন। নারী-পুরুষ রাজনীকি সচেতন, সংস্কৃতিসেবী, প্রগতিশীল কর্মী অনেকের নামে পূর্বোল্লিখিত বইতে পাওয়া যায়। যুগের চিন্তার সংবাদ রচনার থেকে জানা যায় যে, নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে ভাষা সৈনিকদের এক সময় সম্মানিত করার উদ্যোগ নেয়া হয়।

 

পরবর্তী সময়ে জেলা প্রশাসনে কোনও তালিকার খোঁজ মেলেনি। জীবিত অনেক প্রবীণের মৃত্যুর উদ্বেগের বিষয় বিবেচনা রেখে তালিকা প্রনয়ণের উদ্যোগ নেয়া আশু জরুরী। যারা এখনো বেঁচে আছেন তাদের স্মৃতিচারণায় অমূল্য সারবত্তা নিয়ে স্মারক ইতিহাস সংরক্ষণ করার সময় অচিরেই ফুরিয়ে যাবে। তাছাড়া জীবিতদের বক্তব্য যাচাই বাছাই করে প্রমাদ সংশোধনের  সুযোগও এখনও বর্তমান। গৌরবের ইতিহাস সংগ্রহ, সংরক্ষণে যারা অংশ নিতে পারে তাদের গৌরবও কোনও অংশে কম নয়।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন