Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

ভালবাসা দিবস : পেছনের কথা

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৮:০৪ পিএম

ভালবাসা দিবস : পেছনের কথা
Swapno

করীম রেজা : ভালবাসা দিবস বাংলাদেশে আমদানী করা। একটি মহল বিশেষ দুষ্ট উদ্দেশ্যে এই দিবসটি আমদানী ও চালু করে। ইউরোপের মাটিতেও ভালবাসা দিবস তত ব্যাপক ছিল না। ভাষার মাসে যুব সমাজকে লক্ষ্য করে একটি দৈনিক পত্রিকা এবং আর সম্পাদক দিবসটি চালু করতে সবিশেষ প্রচারনা ও উদ্যোগ গ্রহণ করে। যুব মানসকে পরসংস্কৃতি অভিমুখী করা এবং ২১ শে ফেব্রুয়ারীর ঐতিহ্যে গৌরব গুরুত্ব কমিয়ে আনা ছিল মূল উদ্দেশ্য। পরবর্তীকালে ওই সম্পাদক বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিজের মুখে তা স্বীকার করেছেন।

 


আগে পিছে কোনও কারণ ছাড়া পরদেশি একটি ভাব এমনভাবে ছড়িয়ে দেয়া হল যাতে করে উঠতি বয়সের ছেলে মেয়েদের কাছে ভাষা আন্দোলনের ঐশ্বর্য গৌণ ও ফিঁকে হয়ে যায়। নারী-পুরুষের ভালবাসাই জীবনে মুখ্য বিবেচিত হয়। ভাষা আন্দোলনের আত্মাহুতি, অন্তর্নিহিত তাৎপর্য প্রকৃত অবস্থান থেকে সরে যায়। বিজাতি ভাবধারা সুকৌশলে যুব মানসে প্রতিস্থাপন করা হয়। কড়িয়ে তোলা হয় গ্রহণযোগ্যতা প্রেমিক মুগল নয় সকল মানুষের ভালবাসার কথা এই দিনের প্রতিপাদ্য বলে প্রচার করা হয়।

 

সাধু ভ্যালেন্টাইনের গোপন প্রতিবাদের সূত্রে যেই দিবসের চর্চা তা ম্লান হয়ে যায়। কথিত যে, রাজার আদেশ অস্বীকার করে ভ্যালেনটাইন প্রেমিক-প্রেমিকার মিলন সংযোগে ফাদার ভ্যালেন্টাইন কারান্তরালে বিয়ে পড়াতেন। কারাগারের একটি ঘটনার ব্যাপক প্রচার হওয়ার ফলে রাজ রোমে তার মৃত্যু হলে, ভক্ত-মানুষ প্রতি বৎসর ওই মৃত্যু দিবসে ভ্যালেন্টাইনকে স্মরণ করে। এভাবেই তা একটি পালনীয় উৎসব দিবসে রূপান্তরিত হয়। বর্তমানে প্রেমের ব্যাপক প্রসারতায় এই দিবস মানব তথা প্রাণী প্রেমের প্রতীক হয়েছে।

 

বাংলাদেশে এক সময় ভালবাসা দিবসের আর্থিক মূল্য বিবেচনা করেও পক্ষাবলম্বনকারীরা নানান বক্তব্য দিয়েছে। পোশাক, ফুল উপহার বাণিজ্যের বিরাট কারবার এই দিবসকেন্দ্রিক হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের কাছে এমন ভালবাসা দিবস একটি পালনীয় দিন। এই দিবস জীবন বিচ্ছিন্ন হওয়ার নয়। অর্থমূল্য বা সামাজিক মূল্য বিবেচনা যেমন এখন আর মূখ্য নয়।

 

তেমনি ঐতিহাসিক বা প্রতিবাদী প্রেক্ষাপটও আর এখন কোনও তাৎপর্য বহন করে না বলেই মনে হয়। মহান ভাষা আন্দোলনের ব্যাপকতা, গভীরতা হ্রাস করার অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে যে বিদেশি দিবস পালনের আশুভ প্রক্রিয়া তৈরি হয়েছে, সেই বিষয়টি মনে ও মগজে ধারণ করা অত্যন্ত জরুরী। দিবস পালনের আনুষ্ঠানিকতায় যেন আত্মগৌরবের সংস্কৃতি লগ্নতা বাধাগস্ত না হয়। কেননা আত্মবিস্মৃতি কখনই জাতীয় অগ্রগতির সহশক্তি নয়, বরং পশ্চাদপদতায় নিমজ্জিত করে।    
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন