Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

ফতুল্লায় যুবলীগ স্বেচ্ছাসেবকলীগের বেহাল দশা

Icon

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৯:০১ এএম

ফতুল্লায় যুবলীগ স্বেচ্ছাসেবকলীগের বেহাল দশা
Swapno

# সেশন জটের মতো কমিটির জটে ফতুল্লায় আওয়ামীলীগের অঙ্গদলের
# রাজনীতির মৃত্যু হয়েছে বলে মনে করেন অনেকে
# ফতুল্লায় আ’লীগের আগের জৌলুস নেই বলে দাবি তৃণমূলের

 
নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগে ফতুল্লা অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অঞ্চল। জেলার বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে সরকারী দল বা বিরোধী দলের নেতৃবৃন্দও এই থানার নেতাকর্মীদের গুরুত্বের সাথেই দেখে থাকে। ইতিহাস স্বাক্ষী রেয দলই বিরোধী অবস্থানে থাকুকনা কোনো,নারায়ণগঞ্জের রাজপথে অতীতে বিভিন্ন সময় ফতুল্লা থেকেই আন্দোলন সংগ্রামের ডাক দেয়া হয়েছিলো। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এই থানায় এক সময় আওয়ামীলীগের শক্ত ঘাঁটি ছিলো। আওয়ামীলীগ বিরোধী দলে থাকাবস্থায় অল্প সংখ্যক নেতাকর্মী রাজপথে নামলে পুরো শহরই কেঁপে উঠতো। বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ এই থানা এলাকায় বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের অঙ্গদল যুবলীগ আর আগের জৌলুসে নেই।

 

মান্দাতার আমলের কমিটি দিয়েই চলছে যুবলীগ। অপরদিকে ফতুল্লা থানা যুবলীগের সভাপতি মীর সোহেল আলী জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক পদ পেয়েছেন। তাই তিনি ফতুল্লা থানা যুবলীগে তেমন একটা সময় দিতে পারেন না। থানা এলাকার ৫টি ইউনিয়নে উল্লেখযোগ্য যুবলীগ কর্মী থাকলেও এখন অনেকেই দল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। এর কারন হিসেবে যুবলীগের নতুন কমিটি না হওয়াকে দায়ী করেছেন অনেকে। অপরদিকে ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবকলীগের অবস্থাও নাজুক। এই অঙ্গদলের সভাপতি ফরিদ আহম্মেদ লিটন ফতুল্লার রাজনীতিতে সরব ছিলেন। তিনি বর্তমানে থানা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন। তিনিও প্রায় দুই যুগ ধরে একই পদে বহাল রয়েছেন। কোনো কমিটি না হওয়ায় স্বেচ্ছাসেবকলীগেও দৈন্যদশা চলছে। লিটন মূল দলে পদ পাওয়াতে স্বেচ্ছাসেবকলীগেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। সব কিছু মিলিয়ে ফতুল্লা থানা যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগ এখন  হালবিহীন তরীর মতোই চলছে। ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের প্রতিটি ওয়ার্ডে ভবিষ্যত আওয়ামীলীগ নেতৃত্ব শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করেন অনেকে।


২০০২ সালে ফতুল্লা থানা যুবলীগের আহ্বায়ক করা হয় মীর সোহেল আলীকে। এরপর তিনি সভাপতির দায়িত্ব পান। সাধারণ সম্পাদক করা হয় ফাইজুলকে। দীর্ঘ সময়ে ফতুল্লা থানা যুবলীগের সভাপতি হিসেবে মীর সোহেল আলীকেই মানুষ চেনেন। তবে অতল গহ্বরে হারিয়ে গেছে সাধারণ সম্পাদক ফাইজুলসহ অন্য নেতাকর্মীদের নাম। যুবলীগের মূল কমিটির অন্য কোনো নেতাদের ফতুল্লাবাসী তেমনভাবে চেনেন না। অভিযোগ রয়েছে ঐসব নেতাদেরন লাইম টাইটে আনা হয়নি। ফতুল্লা থানা যুবলীগের মূল কমিটি মীর সোহেলের হাতেই থমকে আছে। বেশ কয়েকবার যুবলীগের কমিটি করার কথা থাকলেও সেই ফাইল বন্ধী হয়ে আছে ক্ষমতার মোহে।

 

অপরদিকে প্রতিটি ওয়ার্ডে যারা নিজেদের যুবলীগ কর্মী হিসেবে দাবী করেন, তারাও এখন চুপসে গেছেন। কারন মীর সোহেল আলীর সাথে দীর্ঘদিন রাজনীতি করে থানা আওয়ামীলীগের সদস্যও হতে পারেনি অনেকে। মীর সোহেল আলী ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের কোনো পদে নেই। তাই তাঁর অনুসারী যারা ছিলেন তারা বর্তমান থানা কমিটিতে কোনো পদও পায়নি। ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের যে কমিটি করা হয়েছে এই কমিটির মধ্যে ত্যাগী নেতাকর্মীর সংখ্যা খুবই নগণ্য। নতুন মুখ অনেক এসেছে, তবে যুবলীগের যে সমস্ত কর্মী বিগত ২০ বছরেরও অধিক সময়ে যুবলীগের রাজনীতি করেছেন তারা কি অঙ্গ দলের রাজনীতি করবেন, নাকি মূল দলের হয়ে কাজ করবেন এ নিয়েও চলছে নানা আলোচনা সমালোচনা। অনেকে মন ভেঙ্গে অঙ্গদলের রাজনীতি থেকে অবসরও নিয়েছেন।  


ফতুল্লা থানা যুবলীগের মতো একই অবস্থা  বিরাজ করছে স্বেচ্ছাসেবকলীগে। এই দলে সভাপতি হিসেবে ফরিদ আহম্মেদ লিটন সর্ব মহলে পরিচিত। বাকি নেতাদেরও যুবলীগের মতো কেউ তেসন চেননা বা তাদের সামনে আসার সুযোগ দেয়া হয়নি। ১৯৯৮ সালে ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবকলীগের আহ্বায়ক হয়েছিলেন লিটন। সেই থেকে অদ্যাবধি তিনি একই পদে বহাল আছেন। ফতুল্লায় স্বেচ্ছাসেবকলীগ কমিটির অন্য কোনো নেতাদের নাম অনেকেই জানেনা। দীর্ঘ সময়ে রাজনৈতিক দৈন্য দশার কারনেই ফতুল্লায় যুবলীগ ওস্বেচ্ছাসেবকলীগ ও ছাত্রলীগের অনেক নেতাই মনোকষ্টে দল থেকে দূরে রয়েছেন বলেও একাধিক সূত্রের দাবি।


নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুবলীগের একজন নেতা বলেন, ফতুল্লায় যদি আওয়ামীলীগের থানা কমিটিতে রদ বদল হতো, তাহলে থানা কমিটি আরো শক্তিশালী হতো। পুরনো মানুষগুলো যখন একই পদে বহাল থাকে তখন সেশন জটের মতো অবস্থা হয়। আর এই জটের কারনেই ফতুল্লায় যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ ও ছাত্রলীগ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এখন। ফতুল্লা শিল্পাঞ্চলে অঙ্গদলগুলোর কিছু সংখ্যাক কর্মী রয়েছে। রাজপথে নামার মতো মানুষ  নেই বল্লেই চলে। ভাড়া করা লোক দিয়ে সভা সেমিনার ভরে রাখা যায়। কিন্তু রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম ভাড়া করা লোক দিয়ে হয় না। আন্দোলন সংগ্রামে নিজস্ব লোক লাগে। বর্তমানে ফতুল্লায় যে অবস্থা চলছে তা খুবই দুঃখজনক। কোনো কমিটিতে জট লাগিয়ে রাখা হয়েছিলো তা ২০১৯ সালের ৭ ডিসেম্বর ফতুল্লা থানা কমিটির সম্মেলনের মাধ্যমে পরিস্কার হয়ে গেছে। যদি কোনো দলে কর্মী না থাকে তাহলে সেই দলের নেতার অবস্থান বাইরে থেকে যদিও ভালো মনে হয় কিন্তু ভিতরে অন্তঃসার শুন্যের মতোই।    


তিনি আরো বলেন, ফতুল্লা থানা যুবলীগের সভাপতি মীর সোহেল আলী, স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি ফরিদ আহম্মেদ লিটন ও ছাত্রলীগের সভাপতি আবু মোহাম্মদ শরীফুল হককে যদি ফিল্ড তৈরী করে দেয়া যেতো, তাহলে ফতুল্লায় আওয়ামীলীগের রাজনীতি  যে শক্তি লাভ করতো তা কেউ কল্পনাও করতে পারতো না। কিন্তু গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে ফতুল্লায় আওয়ামীলীগের অঙ্গদলের রাজনীতিকে। সাংসদ শামীম ওসমান একজন বিজ্ঞ রাজনীতিবীদ তিনি হয়তো সব বিষয়ে অবগত রয়েছেন। তিনি  আগামীতে ফতুল্লা থানা অঙ্গদলগুলোকে শক্তিশালী করতে কি কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন তা তিনিই জানেন।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন