Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

নারায়ণগঞ্জ জেলার জন্মদিবস আজ

Icon

লতিফ রানা

প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৪:৫৩ পিএম

নারায়ণগঞ্জ জেলার জন্মদিবস আজ
Swapno

# আমরা এই জেলাকে নিয়ে গর্ব বোধ করি : জেলা প্রশাসক
# এখানকার মানুষের কল্যাণে ভূমিকা রাখতে পারলে কর্মকালীন সময় অর্থবহ হবে : এসপি
# আমরা যেন সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত না’গঞ্জ প্রতিষ্ঠা করতে পারি : খন্দকার শাহ আলম
# নারায়ণগঞ্জ আমাদের গৌরব এবং আমাদের গর্ব : আব্দুস সালাম

 


 
প্রাচীনকাল থেকেই বাংলাদেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী এলাকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে নারায়ণগঞ্জ। এক সময় সোনালী আশঁ পাটের জন্য নারায়ণগঞ্জ প্রাচ্যের ড্যান্ডি হিসেবে খ্যাতি লাভ করে। নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে একটি বিখ্যাত নদী বন্দর গড়ে উঠে। শত শত বছরের পুরানো এই নদী বন্দরটি একসময় দেশের প্রধান নদী বন্দর হিসেবে খ্যাতি লাভ করে। ঢাকা থেকে ২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত এই নারায়ণগঞ্জকে ১৮৮২ সালে মহকুমা হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

 

এরপর ১৯৮৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ৬৮৩.১৪ বর্গ কি.মি আয়তনের এই নারায়ণগঞ্জকে জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। অন্যদিকে ২০১১ সালের ৫ মে নারায়ণগঞ্জ সদরকে সিটি কর্পোরেশন ঘোষণা করা হয়। নারায়ণগঞ্জ সদর, ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ, বন্দর, আড়াইহাজার, রূপগঞ্জ ও সোনারগাঁও এই ৭টি থানায় বিভক্ত নারায়ণগঞ্জের ৫টি উপজেলা। এগুলো হলো সদর, বন্দর, আড়াইহাজার, রূপগঞ্জ ও সোনারগাঁও উপজেলা। নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরটি বর্তমানে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নদী বন্দর।

 

বিশ্বে পাটের বাজার কমলেও নারায়ণগঞ্জ এখন নতুন করে নীট গার্মেন্টস, হোসিয়ারীসহ বিভিন্ন শিল্প কারখানায় সমৃদ্ধ হয়ে এখনও তার ঐতিয্য সমহিমায় ধরে রেখেছে। এমনকি দেশের সর্বোচ্চ কর আদায় হওয়া এই জেলাটি বর্তমানে দেশের ধনী জেলা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। একসময় নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত আদমজী পাটকল বিশ্বের সবচেয়ে বড় পাটকল ছিল। যা বর্তমানে বন্ধ করে আদমজী ইপিজেড গড়ে তোলা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে প্রায় ১ হাজার রপ্তানীমুখী গার্মেন্টস কারখানা আছে।

 

এগুলোর মধ্যে বেশিরভাগ গার্মেন্টসই নিট গার্মেন্টস। নারায়ণগঞ্জে দেশের প্রধানতম সিমেন্ট কারখানাগুলো অবস্থিত। এখানে সারের সবচেয়ে বড় পাইকারী বাজার দেশের প্রধানতম লবণ কারখানা ও নির্মাণ সামগ্রীর পাইকারী বাজারের জন্য বিখ্যাত। এছাড়াও সারা গম, আটা, লবন ও ময়দার পাইকারী ব্যবসায় এখানকার ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই জেলা হিসেবে নারায়ণগঞ্জের এই জন্মদিনে যেমন চাহিদা ও প্রত্যাশা আছে তেমনি আছে দৃঢ় প্রত্যয় ও স্বপ্ন।



নারায়ণগঞ্জ এর জেলা প্রশাসক মো. মঞ্জুরুল হাফিজ বলেন, আমরা জানি ৫টি নদী বেষ্টিত এই নারায়ণগঞ্জ জেলা। একটি জেলা যখন ৫টি নদী বেষ্টিত হয় তখন তার ঐতিয্য থাকে। ১৩০০ সালে এখানে সম্রাটদের ঘাটি ছিল। এখানকার সোনারগাঁ থেকে রাজত্ব করতো। বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর শিল্প জাদুঘর থেকে শুরু করে এখানে বিভিন্ন স্থাপনা আছে। এখানকার মসলিন কাপড় সারা বিশ্ব জুড়ে প্রসিদ্ধ ছিল। বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি কর দেওয়া হয় নারায়ণগঞ্জ জেলা থেকে।

 

সবচেয়ে বেশি কারখানার জেলা এখন নারায়ণগঞ্জ। সমাজের মোটামুটি বড় স্তরের মানুষদেরও এখঅনে বসবাস আছে। ১৯৮৪ সালে জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা এই জেলার সারা বাংলাদেশে সারা পৃথিবীতে সুনাম আছে। একসময় প্রাচ্যের ড্যান্ডি হিসেবে এই জেলার খ্যাতি ছিল। আমরা যারা এই জেলায় চাকুরি করি বা বাস করি তারা এই জেলাকে নিয়ে গর্ব বোধ করি। আমরা স্বপ্ন দেখি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা গড়ার। এই জেলার মানুষ সুখে থাকুক শান্তিতে থাকুক এই কামনা করি। ইতিহাস, ঐতিয্য, শিল্প ও সংস্কৃতি সমৃদ্ধ এই জেলার জন্মদিনে তাই নারায়ণগঞ্জবাসী গর্ব করা মতো এবং ভবিষ্যতে এই গর্ব ধরে রাখার অঙ্গীকারে আবদ্ধ।



নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) জায়েদুল আলম বলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলার জন্মদিন উপলক্ষে সভ্যতার এই জনপথ, সু-প্রাচীন রাজধানী খ্যাত এই নারায়ণগঞ্জবাসীকে আমার আন্তরিক অভিনন্দন এবং শুভেচ্ছ। এই দিবসটি উপলক্ষে সকলে দলমত নির্বিশেষে সকল পেশার সকলে একসাথে কাজ করব। আমরা মাদকসহ সকল ধরণের সন্ত্রাস নির্মূলে আমরা একসাথে কাজ করব এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করব।

 

নারায়ণগঞ্জবাসীর প্রতি আমার অনুরোধ এবং আহবান আসুন আমরা এই সভ্যতার জনপথের উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশের সকল জেলার মধ্যে নারায়ণগঞ্জকে শ্রেষ্ঠ হিসেবে গড়ে তুলতে চেষ্টা করি। বাংলাদেশের বুকে, বাংলাদেশের মানচিত্রে যেন নারায়ণগঞ্জের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে সমুন্নত রেখে মাথা উচু করে দাঁড়ায় সেই প্রত্যয় নিয়েই আমরা কাজ করব। সকল প্রকার অপশক্তি, সন্ত্রাস, মাদক নির্মূলের করব। সেই সাথে আগামী দিনগুলোতে নারায়ণগঞ্জ বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্বে দিবে সেই প্রত্যাশা রাখব।

 

তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জে পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে এসে আমি নিজেকে গর্বিত মনে করছি। প্রাচীন বাংলার রাজধানী এই নারায়ণগঞ্জ ঢাকার সবচেয়ে কাছে এবং গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের একমাত্র বন্দর নগরী ও শিল্প নগরী এলাকা। এই জেলায় কাজ করতে পেরে আমি নিজেকে গর্বিত মনে করছি। এই জেলার মানুষের কল্যাণে যদি আমি কোন প্রকার ভূমিকা রেখে থাকি এবং ভবিষ্যতে রাখতে পারি তাহলে আমি মনে করি আমার এই কর্মকালীন সময় অর্থবহ হবে এবং এটাই আমার জীবনের সফলতা হবে।



এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি খন্দকার শাহ আলম বলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলার জন্মদিন উপলক্ষে এই জেলার প্রতিষ্ঠাকালীন সাংসদসহ নেতৃবৃন্দ এবং তৎকালীন সরকারে ছিলেন তাদের সকলকে নারায়ণগঞ্জবাসীর পক্ষ হতে আন্তরিক মোবারকবাদ জানাই। জেলা প্রতিষ্ঠাকালীন দিবস হিসেবে নারায়ণগঞ্জবাসীর প্রতি আমার বিনীত অনুরোধ, আমরা যেন সন্ত্রাস ও মাদক মুক্ত একটি নারায়ণগঞ্জ প্রতিষ্ঠা করতে পারি।


 
নারায়ণগঞ্জের জন্মদিবস উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়ন এর সভাপতি আব্দুস সালাম বলেন, প্রাকৃতিক দৃশ্য সম্বলিত জেলা নারায়ণগঞ্জ। এক সময় শিল্প নগরী হিসেবে নারায়ণগঞ্জ বেশ প্রসিদ্ধ ছিল। প্রায় একশত বছর আগে নারায়ণগঞ্জ মহাকুমা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৮৪ সালে প্রশাসনিক জেলা হওয়ার পরে প্রশাসনিক ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসছে কিন্তু রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক ক্ষেত্র তেমন পরিবর্তন হয়নি। তথাপি নারায়ণগঞ্জ জেলা একটি ধনী জেলা হিসেবে স্বীকৃতি পাইছে। নারায়ণগঞ্জ আমাদের গৌরব এবং আমাদের গর্ব।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন