Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

সদিচ্ছার অভাবেই ত্বকী হত্যার বিচার হচ্ছেনা : গিয়াসউদ্দিন

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৬:৪৬ পিএম

সদিচ্ছার অভাবেই ত্বকী হত্যার বিচার হচ্ছেনা : গিয়াসউদ্দিন
Swapno

# তৈমূরের নির্বাচনে অংশগ্রহণ দল ও নিজের জন্যই ভুল সিদ্ধান্ত
# ফতুল্লাকে নাসিকে অনুর্ভূক্ত করতে মেয়রের প্রতি আহবান
# তৃণমূল কর্মীদের মতামত গুরুত্ব দিলে বিএনপি শক্তিশালী হবে



ত্বকী হত্যার বিচার নিয়ে সবার আরো বেশি সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন। তিনি বলেন, একটি প্রভাবশালী মহলের ক্ষমতা ও অর্থসম্পদের লোভ অতিমাত্রায়। মানুষ তাদের ভালবেসে তাদের কাছে এখন আর যায়না। স্বার্থান্বেষী লোকজনই তাদের পাশে ঘিরে আছে।

 

সুষ্ঠুধারার রাজনীতি ওই মহলটি থেকে বিদায় নিয়েছে, জনগণের কাছ থেকে তারা বিচ্ছিন্ন। তাদের এখন ক্যাডার বাহিনী দিয়েই লোক জড়ো করতে হয়। একটা নিষ্পাপ বাচ্চা হত্যার বিচার এতোদিন থেমে থাকতে পারেনা। শুধুমাত্র সদিচ্ছার অভাবেই ত্বকী হত্যার বিচার বিলম্বিত হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। যুগের চিন্তাকে দেয়া এক স্বাক্ষাৎকারে গিয়াসউদ্দিন বলেন, আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনেক অর্জন রয়েছে। অনেক গুপ্ত হত্যার রহস্য উন্মোচন করছেন তারা। অথচ ত্বকী হত্যার বিচারটি ঝুলে আছে। খুব শীঘ্রই এই হত্যার বিচার হোক এমন দাবি সারাদেশের মানুষের দীর্ঘদিনের।

 


নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিএনপি নেতা তৈমূর আলম খন্দকারের অংশগ্রহণ করাটিকে ভুল সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন সাবেক এই সাংসদ। তিনি বলেন, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে তিনি নিজের এবং দলের দুটোরই ক্ষতি করেছেন। তৈমূর আলম খন্দকার বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এবং জেলা বিএনপির আহবায়ক ছিলেন।

 

নারায়ণগঞ্জে আন্দোলন সংগ্রামে অনেক ভূমিকা ছিল তার। এমন নেতার হুট করেই এমন আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত নেয়াটি উচিৎ হয়নি। আবার দলও কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে তৈমুর আলম খন্দকার ও এটিএম কামালের ব্যাপারে। একজন পরিপক্ক রাজনীতিক একদিনে তৈরি হয়না। এরজন্য সময়ের প্রয়োজন, ত্যাগের প্রয়োজন। তৈমূর আলমকে বাদ দিয়ে যাদের ভারপ্রাপ্ত করা হয়েছে, তাদের সাথে আসলে তৈমূরের তুলনা করার ব্যাপারটিতেই আমি একমত নই। রাজনৈতিক দূরদৃষ্টিতা এবং বিচক্ষণতায় তৈমূরের সাথে বিতর্কিত ও ভারপ্রাপ্ত আনকোড়ো ব্যক্তিদের তুলনা চলেনা।

 

এতে করে যে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা সামনের দিনগুলোতে প্রতীয়মান হবে। তৈমূরের বহিষ্কারের পর যেসকল কমিটি দেয়া হয়েছে তা নিয়েও বিস্তর হতাশা বিরাজ করছে তৃণমূল কর্মীদের। ওয়ার্ড থেকে জেলা পর্যায়ে যদি কেন্দ্রীয় নেতারা তৃণমূলের সাথে কথা বলে কমিটিগুলো দেন তবেই না দল শক্তিশালী হবে। যোগ্য ও সৎ ব্যক্তি না থাকলে সংগঠন কী করে শক্তিশালী হতে পারে।


সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হওয়া প্রসঙ্গে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সজ্জন রাজনীতিক মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন বলেন, আসলে নারায়ণগঞ্জে এমন পরিস্থিতি দীর্ঘদিনের। ব্যক্তিগত আক্রোশের বহিঃপ্রকাশ। এখন আর অন্য দলের কেউ প্রতিপক্ষ নয়। এখানে ক্ষমতাসীন দলেরই দুটি পক্ষ। নিজ দলের একজন জনপ্রিয় রাজনীতিকের বিরুদ্ধে বিষেদগার করছে ওই দলেরই আরেকটি মহল।যার দ্বারা নারায়ণগঞ্জে বিষেদগারের রাজনীতির চর্চা হচ্ছে। এতে করে দেশ-বিদেশে নারায়ণগঞ্জ ও এখানকার রাজনীতিক সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে।

 

আমরা চাই, একজন নাগরিক হিসেবে সুষ্ঠু রাজনীতির বিকাশ হোক। রাজনীতিতে পারস্পারিক সৌহার্দ্য ও সম্মানবোধ যাতে আরো বৃদ্ধি পায়। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় রাজনীতিক ধারা তৈরি করা প্রয়োজন। অন্য দলের প্রতিও সম্মানবোধ তৈরি হওয়া উচিৎ।

 


সদ্য সমাপ্ত নাসিক নির্বাচনে বিজয়ী মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর প্রতি সচেতন নাগরিক হিসেবে কী প্রত্যাশা করেন এমন প্রশ্নে সাবেক সাংসদ গিয়াসউদ্দিন বলেন,যখন জনপ্রতিনিধি কেউ নির্বাচিত হন, তখন তিনি শুধু দলের থাকেননা, তিনি সকল মানুষের জনপ্রতিনিধি। সকলের কল্যাণ উন্নয়নে, সকল নাগরিকের সুন্দর জীবন-যাপনের জন্য কাজ করা তার প্রধান দায়িত্ব।

 

যিনি এবার তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন মেয়র পদে এগুলো তিনি অবশ্যই চিন্তা করবেন বরে আমরা বিশ্বাস করি। উন্নয়নের যে দিকগুলোতে এখনো ঘাটতি রয়েছে তিনি অচিরেই সেগুলোর দিকে মনোনিবেশ করবেন বলে আমি নাগরিক হিসেবে চাই। নোংরা রাজনীতির দিকে চিন্তা না করে সুষ্ঠুধারার রাজনীতি চালুর মাধ্যমে সকলের সমন্বয়ে উন্নয়ন ঘটাতে হবে।


খুব শীঘ্রই ফতুল্লাকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভূক্ত করার দাবি জানিয়ে শিক্ষানুরাগী মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন বলেন, ফতুল্লা শিল্প সমৃদ্ধ এলাকা। সিদ্ধিরগঞ্জের তুলনায় উন্নয়নে অনেক পিছিয়ে রয়েছে ফতুল্লা। সিটি করপোরেশরেন আওতায় যদি ফতুল্লাকে অন্তর্র্ভূক্ত করা যায় তবে সেখানকার মানুষের জীবনযাত্রার মান আরো বৃদ্ধি পাবে। শিক্ষাঞ্চল এলাকা বিধায় সেখানকার আরো বেশি শিল্পায়ন হবে।

 

এতে সবাই সুফলই পাবে। সেখানকার মানুষের সাথে কথা বলে জেনেছি, তারা এই দাবিটি দীর্ঘদিন ধরে করে আসছে। এখানকার জনপ্রতিনিধি ও বিশিষ্টজনেদের কাছে এব্যাপারে গুরুত্বের সাথে উদ্যোগ নেয়ার আহবান জানাচ্ছি। এছাড়া আরেকটি বিষয় হচ্ছে, নারায়ণগঞ্জে মেট্রোপলিটন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা একটি যৌক্তিক দাবি।

 

দেশের যেসব জায়গায় মেট্রোপলিটন এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে, সেসব তুলনায় অনেকে ক্ষেত্রেই নারায়ণগঞ্জ অনেক বেশি এগিয়ে আছে। অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায়ও নারায়ণগঞ্জ অন্যতম। অবিলম্বে নারায়ণগঞ্জে মেট্রোপলিটন এলাকা ঘোষণা করা এখন সময়ের দাবি বলে মনে করেন তিনি।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন