# এক যুগে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় দ্বিগুণ
# মধ্যবিত্তের বোবাকান্না
নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে দিশেহারা সাধারণ মানুষ। করোনার চেয়ে ভয়াভহ হয়ে এসেছে দ্রব্যেমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। নিত্যপণ্যের বাজারে যেন আগুন লেগেছে। ফলে সবচেয়ে বেশী বেকায়দায় পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা। দ্রব্যেমূল্যের লাগামহীন উর্ধ্বগতি মধ্যেবিত্তদে বোবাকান্নায় পরিণত হয়েছে। টিসিবির দীর্ঘ লাইনই বলে দেয় নিত্যপণ্যের বাাজার লাগামহীন।
বৎসরের শুরু থেকেই জিনিষপত্রের দাম বাড়তির দিকে থাকলেও এখন অসহনীয় পর্যায়ে। আজকে বাড়ছে চালের দাম তো কাল বাড়ছে তেলের দাম। ডাল, পেঁয়াজ, আটা, ময়দা, চিনি, মরিচ, আদা, রসুন কোন পণ্যের দাম স্থির থাকছে না। অল্প কামাইর মানুষেরা হারাচ্ছেন ক্রয়ক্ষমতা। ফলে কষ্টে আছে মানুষ
করোনায় সাধারণ মানুষের কাছে আরেক আপদ হয়ে এসেছে দ্রব্যেমূল্যর ঊর্ধ্বগতি বিগত এক যুগে দেশের বাজারে চালের দামের সঙ্গে কয়েকগুণ মূল্য বেড়েছে প্রায় সব নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের। ফলে এখন আর মানুষের আয় ও ব্যয়ের সমন্বয় হচ্ছে না। বাজার দর নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে সরকার এমনটাই মনে করছে সাধারণ মানুষ। মোটা চাল থেকে সব ধরনের সরু চালের দাম স্থির নেই। প্রান্তিক ও সীমিত আয়ের মানুষরা একটু ডাল ভাত খাবে সে উপায়ও নেই। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন মানুষ। বিশেষ করে প্রান্তিক ও শ্রমজীবী মানুষের নাভিশ্বাস উঠে গেছে।
সরজমিনে দেখাগেছে, টিসিবির ন্যায্যমূেল্যর ভোগ্যপণ্যের জন্য ট্রাকের সামনে দীর্ঘ লাইন পড়েছে। লাইনে এখন মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন-বিত্তদের এক সাথে দেখা যাচ্ছে। টিসিবির ট্রাকে প্রতি লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা, মসুর ডাল ৬৫ টাকা, চিনি ৫৫, টাকা আর পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা কেজি। দ্রব্যেমূল্যের এই ঊর্ধ্বগতির কারনে নিম্নবিত্তের সাথে মধ্যবিত্তও লাইনে শামিল হচ্ছেন।
জানা গেছে, আয়ের সাথে ব্যয় মিলাতে না পেরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ কম দামে পণ্য পেতে টিসিবির লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। লাইনে দাঁড়ানো অনেকেই জানিয়েছেন বাজারের ওপর সরকারের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। একবার যে পণ্যের দাম বাড়ে তা আর কমে না। তাই কম দামে পণ্য নিতে তারা এখানে এসেছেন। নতুন কোর্টের সামনে লাইনে দাঁড়ানো আসমা বেগম জানান, কম দামে পণ্য কিনতে এসে এখানেও শান্তি নেই। এক ঘন্টা ল্ইানে দাড়িয়েও সামনে যেতে পারিনি। মানুষের তুলনায় ট্রাক কম।
আক্কাস মিয়া জানান, বর্তমানে মানুষের তুলনায় টিসিবির ট্রাক কম। এরমধ্যে আবার তারা একদিন আসলে পরের দিন আসেন না। টিসিবির এই পণ্য নিতে কাজ ফেলে এসেছি। কিন্তু সময় মতো পণ্য পাওয়া যায় না। যখন দেখি পণ্য নিয়ে ট্রাক এসেছে শতশত মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে পড়ে। অনেক সময় লাইন দীর্ঘ দেখে অনেকেই চলে যায়। তাই এখানেও পণ্য নিতে শান্তি নেই।
নগরীর দ্বিগবাবুর বাজারে কথা হয় আলমাস মিয়ার সাথে। তিনি জানান, বর্তমানে জীবনের নূণ্যতম চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আয়ের সঙ্গে ভারসাম্য রাখতে গিয়ে কাছাট করতে হচ্ছে প্রতিদিনের বাজার তালিকা। এভাবে দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধিতে আমাদের মতো মানুষের বেঁচে থাকা দায়। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা জানান, এবার বাজারে সব পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্রব্যমূল্যর দাম বাড়ার বিষয়টি নির্ভর করে সরবরাহের উপর। ভোক্তাদের দাবী সরবরাহ থাকলেও দাম কমে না।
দেখা গেছে, বৎসরের শুরু যে ডিমের ডজন ছিল ৮৫-৯০ টাকা বর্তমানে ওই ডিমের ডজন ১২০-১২৫ টাকা। বড় দানার মসুর ডাল ছিল ৬৫-৭০ টাকা ওই ডাল বিক্রি হচ্ছে ৮৮-৯০ টাকা কেজি। সয়াবিন তেল খোলা ১২২-১২৪ ট্াকা বর্তমানে ওই খোলা তেল বিক্রি হচ্ছে ১৫৫-১৬০ টাকা। বোতলজাত সোয়াবিন তেল ছিল ১৩০-১৩৫ টাকা। এখন বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ টাকা।
বৎসরের শুরু পাম তেলের দাম বেড়ে ১০০-১১২ টাকা বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ১৩৪-১৩৬ টাকা। আর চিনি বৎসরের শুরু বিক্রি হয় ৬৫-৭০ টাকা এখন বিক্রি হচ্ছে ৮০-৯০ টাকা। আটা (প্যাকেট-খোলা ) ২৮-৩৩ টাকা বর্তমানে ৪০-৪৫ টাকা। ময়দা প্যাকেট-খোলা ৪৫-৫০ টাকা এখন ৪৫-৫৫ টাকা। গুড়া দুধ ৫০০-৬৩০ টাকা এখন ৬৯০-৭২০ টাকা।
মুরগি ব্রয়লার ১১০-১২০ টাকা বর্তমানে ১৭০-১৮০ টাকা। চিকন চাল ৫৮-৬৪ এখন বিক্রি হচ্ছে এখন ৬৫-৬৮ টাকা। আর মোটা চাল ছিল ৪৪-৪৮ টাকা বর্তমানে ৪৬-৫৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে ৪০-৪৫ টাকার পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ।
এদিকে সয়াবিন তেলের মূল্য বেড়েছে লিটারে পঞ্চাশ টাকারও বেশি। এই দাম কয়েক ধাপে বেড়েছে। খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের মূল্যও বেড়েছে অস্বাভাবিহারে। আবার পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্যে দিশেহারা সাধারণ মানুষ। আমদানি পোঁজের দামও বাড়ছে। হঠাৎ করেই পেঁয়াজের কেজিতে বেড়েছে ১৫ থেকে বিশ টাকা।
ভুক্তভোগীদের দাবি একটি পণ্যের দাম বাড়লে আর কমে না। এভাবে একের পর এক পণ্যের মূল্য বাড়লে বাঁচা দায় হয়ে পড়বে। নিত্যমূল্যের চড়া দামে দিশে হারা হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। তারা জানান, নিত্যমূল্যে দাম বাড়লে মানুষের জীবনমানের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়। অনেক সময় মানুষকে সঞ্চয় ভেঙে জীবন চালাতে হয়।
এছাড়া নিত্যপ্রয়োজনীয় পন্যের মধ্যে আবারও ডিমের দাম অস্থির হয়ে উঠেছে। গত সপ্তাহের চেয়ে ডিমের হালিতে দুই টাকা বেড়ে ৩৮ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর অস্বাবাভিকভাবে বাড়ছে ব্রয়লার মুরগির দাম। গরিবের পণ্যে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৬০-১৭০ টাকা কেজি দরে। অন্যদিকে কক বিক্রি ২৯০-৩২০ টাকা কেজি। তবে কোন কোন বাজারে দামের হেরফের রয়েছে।
এদিকে শীতে তেমন শাক-সবজির দাম কমেনি। আলু, পটল, বেগুন, বরবটি, কাকরল, কচুর গাটি, করল্লা, উস্তা, টমেটো বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। শীত কালীন সবজি শিম প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ থেকে টাকায়। আর দেশী টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। আর করলা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি।
বাজার ঘুরে দেখাগেছে প্রতি কেজি চিচিঙ্গা ৫০, ঝিঙ্গা ৪০, কাঁচা পেঁপে ৩০, দেশী ধনিয়া পাতা ৫০, লাউ মাজারী ৬০, শশা চিকন ৫০, ছোট লেবু প্রতি হালী ২৪, বড় সাইজ ৪০, চাল কুমড়া পিছ ৫০, করল্লা ৫০, বরবটি ৬০, বেগুন ৬০, পটল ৬০, পুঁইশাক ৩০, লালশাক ৩০, ঢেড়স ৮০ গাজর ২০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে প্রতি কেজি কাঁচকি মাছ ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষ করা কৈ ২০০ থেকে ২৫০, মাজারী সাইজের চিংড়ি ১০০০ থেকে ১২০০, শিং ৬০০ থেকে ৭০০, পুঁটি ৫০০ থেকে ৫৫০, বড় সাইজের শোল ৮০০ থেকে ৯০০, পাঙ্গাস ১২০ থেকে ১৩০, বোয়াল, রুই, কাতলা সহ অন্যান্য মাছের দাম কিছুটা কমতির দিকে। তবে পূর্বের চড়া মূল্যে বিক্রি হচ্ছে গরুর মাংস। ৫৫০ কাটা কেজি সরকারী নির্দেশনা থাকলেও ৬৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।


