Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

এগারো খুনে জনমনে আতঙ্ক

Icon

মামুনুর রহমান

প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২২, ০৪:৩৩ পিএম

এগারো খুনে জনমনে আতঙ্ক
Swapno

# প্রশাসনের উদাসিনতায় এসকল হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে : খন্দকার শাহ আলম
# বেশীরভাগই হত্যাকাণ্ডই ঘটেছে পারিবারিক ও শত্রুতার কারণে: এসপি

 

নারায়ণগঞ্জে দিন দিন খুনের ঘটনা বেড়ে চলেছে। নানা কারণে খুনের ঘটনার প্রবণতা বাড়ছে। তবে এসব ঘটনার আড়ালে লোভ লালসা, পারিবারিক কলহের সহ শত্রুতার কারণকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া অধিকাংশ খুনের ঘটনায় স্বজন সহ নিকটস্থদের দ্বারা সংগঠিত হচ্ছে। এতে লাশের মিছিলে নতুন নতুন সংখ্যা যোগ হচ্ছে।

 

আর স্বজনদের কান্নার পানি অঝোরে ঝরছে। যার ফলে নারায়ণগঞ্জে দিন দিন খুন আতঙ্ক বেড়েই চলেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খুনের নেশা যেন নারায়ণগঞ্জের ভৌগোলিকতার রক্তে মিশে গেছে। তাইতো ক্রমশ এই নেশা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। যেকাণে এসব ঘটনার সংখ্যাও বাড়ছে। যদিও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তৎপড়তা বৃদ্ধির দাবি করা হচ্ছে।

 

কিন্তু বাস্তবে খুনের ঘটনার বৃদ্ধির ফলে পুলিশ প্রশাসনের প্রতি জনগণের আস্থা দিন দিন কমে যাচ্ছে। আর স্বজনদের কান্নায় স্মৃতি বিজড়িতে দিনগুলো হৃদয়ের গহীনে কষ্টের পাল তুলছে। গত ১ ফেব্রুয়ারি মার্চ’র ১ তারিখ পযর্ন্ত নারায়ণগঞ্জ শহরসহ বিভিন্ন উপজেলায় গত এক মাসে প্রায় ১১ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।


সর্বশেষ মঙ্গলবার (১ মার্চ) নারায়ণগঞ্জ শহরের নিতাইগঞ্জ ডালপট্টি এলাকায় একটি ফ্ল্যাট বাসায় মা ও মেয়ে জোড়া খুন হয়েছেন। নিহতরা হলেন- রুমা চক্রবর্তী (৪৬) ও তার মেয়ে ৭ মাসের অন্তঃস্বত্তা ঋতু চক্রবর্তী (২২)।

 

বিকেলে ডালপট্টি এলাকায় স্বপন দাসের মালিকানাধীন ৬ তলা ভবনের ষষ্ঠ তলার ফ্ল্যাটে এ ঘটনাটি ঘটে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই যুবক দুইজনকে কুপিয়ে ও জখম করে হত্যা করেছে। ওই ঘটনায় রক্তমাখা ছুরিসহ যুবায়ের নামে এক যুবককে এলাকাবাসীর সহায়তায় আটক করেছে নারায়ণগঞ্জম সদর থানা পুলিশ।


এছাড়াও মঙ্গলবার (১ মার্চ) ফতুল্লার শান্তিনগর এলাকায় রাবেয়া বেগম (৩৫) নামে সাত মাসের গর্ভবতী গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। এঘটনায় নিহতের স্বামী সোহেল আহমেদ অপুকে আটক করেছে ফতুল্লা থানা পুলিশ। অপু বরিশাল জেলার কোতয়ালী থানার চর নিহালগঞ্জ গ্রামের মোস্তফা হাওলাদারের ছেলে।

 

নিহত রাবেয়া বেগম ভোলা জেলার দক্ষিন আইচা থানার তাল্লুক কান্দা গ্রামের তোফাজ্জল সিকদারের মেয়ে। সে স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে ফতুল্লার হরিহর পাড়া শান্তিনগর দুলাল মিয়ার বাড়ীর ভাউাটিয়া বাসায় বসবাস করেন। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ফতুল্লায় ভোর সাড়ে ছয়টায় বাংলাদেশ টাইয়ার কারখানার সামনে মুন্না (২০) নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

 

এসময় তারেক (১৬) নামে এক কিশোর আহত হয়েছে। ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে ফতুল্লার মুসলিমনগরে রবিন (২০) নামে এক যুবককে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৪জনকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে তিনজনকে রিমাণ্ডে নিয়েছেও পুলিশ। একই তারিখ সকালে বিসিক শিল্পনগরীর শাসনগাওস্থ নিজ বাড়ী থেকে মমতাজ বেগম এক নারীর মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

 

এছাড়া ১৭ ফেব্রয়ারী রাত সাড়ে ৭টার সময় বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের সাবদী কলাবাগস্থ ব্রহ্মপুত্র নদী থেকে অজ্ঞাত এক নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, লাশের গায়ে ও পিঠে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ছাড়াও বাম পায়ের কব্জি বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এই ঘটনায় এখনো তেমন একটা ক্লু বের করতে পারে না প্রশাসন।

 

১৫ ফেব্রুয়ারি শহরের নিতাইগঞ্জ ডাইলপট্টি এলাকায় ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে মো. ভাসান মালতি (৫০) নামে এক নৈশপ্রহরী নিহত হয়েছেন। ১৬ ফেব্রুয়ারী আড়াইহাজার উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের শালমদী গ্রামের রব হাজীর একটি পুকুরে শিশু রিয়াদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ব্যাপারে নিহত রিয়াদের পিতা বাবুল মিস্ত্রি বাদী হয়ে আড়াইহাজার থানায় পুকুরের ভাড়াটিয়া পাঁচজনকে আসামী করে একই দিনে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।


খুনের ঘটনা বেড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি খন্দকার শাহআলম যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘প্রশাসনের উদাসীনতায় এসকল হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে। প্রশাসন উদাসীনতায়ই খুন, ধর্ষণ, রাহাজানি ও ছিনতাই বেড়েই চলেছে। এগুলো রোধে আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে যথেষ্ট বক্তব্য উপস্থাপিত হয়েছে, আমিও বলেছি। তিনি আরও বলেন,  কিন্তু আমি মনে করি এটা প্রশাসনের উদাসীনতা ।

 

এবং উচ্ছৃঙ্খল যুবক কিশোররা ব্যাপকহারে মাদকে আসক্ত হওয়ার কারণেই এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলো ঘটছে। এগুলো রোধে প্রশাসনের ব্যাপক তৎপরতা প্রয়োজন। নারায়ণগঞ্জে শান্ত ও ভালো করতে হলে খুন রাহাজানি বন্ধ করতে হবে। বিশেষ করে পুলিশ প্রশাসন ও র‌্যাবকে আরো বেশী কঠোর হতে হবে।’


এবিষয়ে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে বেশীরভাগই হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটেছে পারিবারিক কোলাহল ও শত্রুতার কারণে। এছাড়া অধিকাংশ খুনের ঘটনায় স্বজনসহ নিকটস্থদের দ্বারা সংগঠিত হচ্ছে।

 

আমরা প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছি। রহস্যগুলো উদঘাটন করে দেখা যায় পারিবারিক কলহের জেরে ও শত্রুতার কারণে মা মেয়েকে, স্বামী স্ত্রীকে হত্যা করছে। আর প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনার আমরা রহস্য উদঘাটন করে দোষীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছি।’
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন