Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

পণ্যমূল্য হু হু করে বাড়ছে

Icon

পরিচয় প্রকাশ গুপ্ত

প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২২, ০৪:৩৯ পিএম

পণ্যমূল্য হু হু করে বাড়ছে
Swapno

# মানুষের মুখে উচ্চারিত হচ্ছে মঙ্গা, অভাব ও দুর্ভিক্ষের মতো নাজায়েজ শব্দাবলি

 

নানান দুর্ভোগ নিয়ে এবার ২০২২ সালের আগমন ঘটেছে। এবার প্রকৃতিও যেনো নিয়ম মেনে চলছেনা। এদেশে প্রকৃতির সাথে উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থার সনাতনী সম্পর্ক রয়েছে। বর্ষার শেষে হেমন্তকালে কৃষকের ঘরে আউশ বোরোসহ নতুন ধান ওঠে। তাই চালের দাম তখন নিম্নমুখী হয়। এটাই গ্রাম-বাংলার চিরন্তন নিয়ম। আর হেমন্তের শেষে শীতকাল মানেই, শাক-সবজির ভরা মৌসুম।

 

তাই এ দেশে শীতে সবজি বেশ সস্তা থাকে। তবে এবার প্রকৃতির সঙ্গে বাজারের বৈষম্য চলছে। সরবরাহ ঠিক থাকলেও এবার হেমন্তেও চালের দাম বেড়েছে; আর শীতে বেড়েছে সবজির দাম। বর্ষা শেষে ছোট মাছের প্রচুর সরবরাহ থাকলেও এবার টেংরা, পুটি, খলস্ েও বৈটাসহ গুড়া মাছের দামও কমেনি। এদিকে চাল, ডাল, আলু, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দামই এখন ঊর্ধ্বমুখী।

 

তাই মাছে ভাতের ভাঙালী যে পেট পুরে ডাল ভাত ও আলু ভর্তা খেয়ে দিনাতিপাত করবে, তারও উপায় নেই। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবার নিম্নবিত্ত-মধ্যবিত্তকে একাকার করে ফেলেছে। শহরে টিসিবির ট্রাকের সামনে লাইন দেখলেই তার টের পাওয়া যায়। শহরে টিসিবির ট্রাক দেখলেই এখন দেখবেন, তার সামনে বিশাল লাইন।

 

এ লাইনে মলিন বেশের হতদরিদ্র মানুষেল সঙ্গে প্যান্ট-শার্ট সুবেশি মানুষদেরও দেখতে পাবেন। যারা লাইনে দাঁড়িয়ে বোকা বোকা হাসিমুখে ইতঃস্তত ডানে বামে তাকাতে থাকে। এই সুবেশিদের দেখতে কিঞ্চত নারভাস লাগে এবং তারা কারো দিকে সরাসরি তাকায়ওনা। দেখলে মনে হয়, এরা নিজেদের মুখ লুকাতে ব্যস্ত। ভালো ভাবে খেয়াল করলে দেখা যায়, এই সুবেশিদের পকেট থেকে ডাল, পিয়াজ, চিনি নেয়ার জন্য ব্যাগ বেরিয়ে আসছে। প্রতিদিন পণ্যমূল্যের বৃদ্ধিতে নিম্ন আয়ের মানুষেরা এখন দিশেহারা।


এদিকে, সামনে রোজার মাস অর্থাৎ রমজান আসছে। তখন দাম আরও বাড়বে। এটাই এদেশের নিয়ম। ইতিমধ্যে কেজিতে পিয়াজের দাম বেড়েছে ১০ টাকা। দাম বেড়েছে আদা ও রসুনেরও। এদিকে, লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে ভোজ্য তেলের দাম। এক সপ্তাহে লিটারে তেলের দাম বেড়েছে ৮ টাকা। বর্তমানে বাজারে খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৭৫ টাকা লিটারে; যা এক সপ্তাহ আগে ছিলো, ১৬০ টাকা।

 

বিভিন্ন কোম্পানীর বোতলজাত তেলের দামও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ‘তীর’ কোম্পানীর ৫ লিটারের এক বোতল তেল বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৭৮০ টাকায়। চিনি বিক্রি হচ্ছে ৭৭ টাকা কেজি দরে। মুসুড়ির ডাল সাইজ বেধে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯৫ টাকা থেকে ১০৭ টাকা দরে। শীতকাল চলে গিয়ে বসন্ত শুরু হয়েছে। এসময় শীতের সবজির দাম একেবারে পরে যায়।

 

কিন্তু নারায়ণগঞ্জের বাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে সবজির দাম বেড়েছে ১০ থেকে ২০ টাকা। ফুলকপি ও বাধাকপি বিক্রি হচ্ছে প্রতিটি ২০ থেকে ৪০ টাকায়। সিমের কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা। আলু প্রতিকেজি ১৬ টাকা। টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে। সবজির সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে মুরগী, খাসি ও গরুর মাংসের দাম।

 

ব্রয়লার মুরগী বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা দরে। কক মুরগীর বিক্রি হচ্ছে ছোট ১ হালি ৬৫০ টাকা। এছাড়া, গরুর মাংসও বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ টাকা কেজি দরে। খাসির মাংস ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা কেজি।


পণ্যের দাম একবার বাড়লে আর কমেনা। বাজার মনিােটরিং নামে একটি শব্দ ব্যাপক প্রচলিত হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার মনিটরিং মানুষের চোখে পড়ছেনা। মঙ্গা, অভাব, দুর্ভিক্ষ এসব শব্দের প্রতি সরকারের তীব্র অনীহা রয়েছে।

 

এদিকে জীবন ধারণের সর্বক্ষেত্রে খরচ বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। হু হু করে বেড়েে চলেছে পণ্যের দাম। বাড়ি ভাড়া এবং বাসবাড়াও বেড়েছে। তাই মানুষের মুখে মুখে এ নাজায়েজ শব্দাবলি উচ্চারিত হচ্ছে।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন