# দীর্ঘসূত্রিতার কারণে মালিক ও চালকরা থানা পুলিশের দ্বারস্ত হতে চাননা
সেই ৯০ দশক থেকে রিক্সা চুরি শুরু। তবে এই চুরি অন্যসব চুরির সাথে তুলনা করা যাবে না। রিক্সা চালককে নেশা দ্রব্য খাইয়ে অথবা অভিনব কায়দায় নাটক সাজিয়ে রিক্সা চুরি চলছে বছরের পর বছর ধরে। তবে এই চোর চক্রের সাথে এলাকা ভিত্তিক বেশ কিছু রিক্সার গ্যারেজ মালিকও জড়িত। বর্তমানে জেলায় ব্যাটারী চালিত রিক্সা ও মিশুক চুরির ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কাছে মাঝে মধ্যে অভিযোগ করেও ভুক্তভুগীরা তেমন কোন প্রতিকার পাননা। তাই রিক্সা বা মিশুক চোর সিন্ডিকেট দিনের পর দিন তাদের অপকর্মের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে।
এ কারণে হতদরিদ্র মানুষ দিন দিন নিঃস্ব হওয়ার পথে বলেও অভিযোগ বিস্তর। গ্যারেজ মালিক বা রিক্সা চালকদের কাছ থেকে শুধুমাত্র সদর থানা এলাকা থেকে চুরি হওয়া রিক্সা ফেরত দিয়ে মাসে কোটি টাকার উপরে হাতিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বলেও দাবী করেছে একাধিক সূত্র।
নারায়ণগঞ্জের ৭টি থানা এলাকা থেকে গড়ে প্রতিদিন ২০/৩০টি রিক্সা বা মিশুক হাতিয়ে নিয়ে যাচ্ছে চোর চক্রটি। তবে সবচেয়ে বেশি রিক্সা চুরির ঘটনা ঘটে সদর থানা এলাকাতে। সদর থানা এলাকার বিভিন্ন এলাকায় মিশুক বা রিক্সা চলাচল বেশি। ১৯৯০ সালের দিকে প্রথমে রিক্সা চোর চক্রের সিন্ডিকেটের আবির্ভাব ঘটে।
এই সিন্ডিকেট প্রথমে রিক্সা চালককে নেশা জাতিয় দ্রব্য খাইয়ে রিক্সা চুরি করে নিয়ে যেতো। তবে এখন দিন পাল্টেছে। চুরির ধরণও পাল্টেছে চক্রটি। একেকটি চোর সিন্ডিকেট প্রতিদিন সকাল থেকে রাত অবদি চালায় তাদের কার্যক্রম। চক্রটির দ্বারা ফতুল্লার পিলকুনি, লাকি বাজার, কাশিপুর, মুসলিমনগর, তক্কার মাঠ, পাগলা নয়ামাটি, সদর থানার তল্লা, গোপচর ও সিদ্ধিরগঞ্জের নয়াআটি, সিদ্ধিরগঞ্জ পুলসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় বেশ কয়েকটি সিন্ডিকেটের ছত্র ছায়ায় চলছে চুরির ব্যবসা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন গ্যারেজ মালিক জানান, আগের তুলনায় রিক্সা বা মিশুক চুরি বেড়ে গেছে। মিশুক-রিক্সা চুরি হলে চোর চক্রটি রিক্সা-মিশুকের গায়ে লেখা থাকা মালিকের মোবাইল নাম্বারে ফোন করে। এসময় মালিককে জানানো হয় চুরি হওয়া রিক্সা বা মিশুক তাদের হেফাজতে আছে। তবে কোথায় বা কার কাছে মিশুকটি আছে সেই তথ্য চক্রের সদস্যরা মালিককে জানান না।
একটি মিশুকের বর্তমান মূল্য ৮০ হাজার টাকা। যদি চক্রটি মিশুক চুরি করতে পারে তাহলে তারা চোরাই মিশুকটি ফিরিয়ে দিতে ৩০ হাজার টাকা দাবী করে মালিকের কাছে। চক্রের যে কোন একজন সদস্য চুরি হওয়া রিক্সার মালিকের সাথে দেখা করে তাদের দাবীকৃত টাকা হাতে নেয়। তবে চুরি হওয়া মিশুকটি থাকে ভিন্ন জায়গায়।
টাকা নেয়ার পর ঐ মিশুকটি মালিককে ফিরিয়ে দেয়া হয়। এভাবে চোর চক্রটি প্রতিদিন ২০/৩০টি গাড়ি চুরি করে তা আবার মালিককে ফিরিয়ে দিয়ে প্রতিমাসে প্রায় ২ কোটি টাকার উপড়ে হাতিয়ে নিচ্ছে। এতে করে মালিক ও চালকদের পথে বসার উপক্রম হচ্ছে বলেও দাবী সূত্রের।
তিনি আরো জানান, এই চক্রের সদস্যরা অনেক সময় চালকদের মারপিট করেও সড়ক থেকে রিক্সা বা মিশুক চুরি করে নিয়ে যায়। অনেক সময় চালকদের গলা কেটে হত্যা করেও তারা রিক্সা বা মিশুক চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে থানা পুলিশের কাছে কোনো অভিযোগ করলেও সমস্যা সমাধানে দীর্ঘসূত্রিতা লেগে যায়। এ কাররণেই মূলত চুরি হওয়া রিক্সা বা মিশুকের ব্যাপারে মালিক ও চালকরা থানা পুলিশের দ্বারস্ত হননা।
তবে এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ পর্যন্ত জেলায় রিক্সা চালককে ছুরিকাঘাত করে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। তার মধ্যে বেশির ভাগই উদ্বার করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা যদি চোর চক্রের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে তাহলে সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কিছুই করার থাকে না। অপরদিকে চুরি হওয়া রিক্সা বা মিশুক যদি কোনো গ্যারেজ মালিক ক্রয় না করতো তাহলে এসমস্ত চুরি এমনিতেই নির্মূল হয়ে যেতো।


