দুর্নীতিমুক্ত লেখা অফিসের দুর্নীতি রুখবে কে ?
অর্ণব হাসান
প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২২, ০৫:০৮ পিএম
# ফাইল আটকে আদায় করা হয় অতিরিক্ত টাকা
# গড়ে উঠেছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট
নারায়ণগঞ্জে সদর এসিল্যান্ড নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের সামনে বড় লিখে টানানো আছে আমি ও আমার অফিস দুর্নীতিমুক্ত। অথচ অভিযোগ রয়েছে এখানেই সবচেয়ে দুর্নীতি বেশি হয়। অভিযোগ রয়েছে এসিল্যান্ডের বিভিন্ন কর্মচারীরা ভিন্ন ভিন্ন কায়দায় সেবার নামে মানুষের কাছে টাকা নেন। অভিযোগ রয়েছে অনেকটা প্রকাশ্যে টাকা চেয়ে নেন।
যারা টাকা দেয় না তাদের কাগজ নিয়ে চলে ঘুরাঘুরি। কেউ ফাইল আটকে টাকা নেন আবার কেউ ফাইল বিনা অযুহাতে সমস্যা ধরে টাকা নেন। ফাইলের পিছনে বিভিন্ন লেখা অথবা সাংকেতিক চিহ্ন দিয়ে গ্রীণ সিগনাল বুঝানো হয়।
এছাড়াও তাদের নিজস্ব সিন্ডিকেটের লোকদের মাধ্যমে না গেলে কাগজপত্র সব কিছু ঠিক থাকলেও তা মাসের পর মাস আটকে দেয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘ দিন এই কর্মকতার্দের বদলী না হওয়ায় থেকে অনেকে আটঘাট বেধে বসেই এমন কর্মকাণ্ড দেদারসে চালাচ্ছে।
এদিকে ন্রাায়ণগঞ্জ সদর এসিল্যান্ডের নাজির কামক্যাশিয়ার কামরুল ইসলাম ও তার সহযোগী ওমেদার রিয়াদের বিরুদ্ধে ফাইল আটকেয়ে নামজারি করতে আসা বিভিন্ন এলাকার ভুক্তভোগীরর কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সেই সাথে তাদের থেকে মানুষ সেবা পাওয়ার চেয়ে দূর ব্যবহারই বেশি পান বলে একাধিক ব্যক্তি তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। এছাড়াও সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ভূমি অফিস সহকারী কর্মকর্তা ও উপসহকারি কর্মকর্তাদের বেতন আটকিয়ে রাখার অভিযোগ রয়েছে কামরুলের বিরুদ্ধে। তাও আবার করোনা কালিন সময়ে। সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা ও উপসহকারি কর্মকর্তারা এই অভিযোগ তুলেন।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, আমি আমার সম্পদের সকল কাগজপত্র দিয়ে ৬টি জায়গার নামজারি আবেদন করি। পরে ভূমি অফিসে শুনানি শেষে ওই খান থেকে নামজারি মঞ্জুর প্রস্তাব হয়ে এসিল্যান্ডে আসে। সেখানে সদর এসিল্যান্ড সার্ভেয়ারের কাছে শুনানি হয়ে কানুনগোর স্বাক্ষর হয়ে ভূমি অফিস থেকে পর্চা হয়ে সদর নাজির কামক্যাশিয়ারের রুমে আসে।
তখন নাজির কামক্যাশিয়ার কামরুল ৪ মাস আগে সদর সহকারি কমিশনার হাসান বিন আলীর সিল মারাসহ স্বাক্ষর ছাড়া আমার একটি পর্চা এবং রশিদ দেয় কামরুল। পরবর্তিতে আমি এই পর্চা দিয়ে ব্যাংকে টাকা তুলতে গেলে তারা বলে ওই কাগজে সদর এসিল্যান্ড হাসান বিন আলীর সিল থাকলেও তার স্বাক্ষর নেই।
তার স্বাক্ষরের জন্য যোগাযোগ করা হলে সদর এসিল্যান্ডের নাজির কামক্যাশিয়ার কামরুল হাসান ও তার সহযোগী ওমেদার রিয়াদ আমার থেকে দুইবারে ২ হাজার করে ৪ হাজার টাকা নেন। যা আজও পর্যন্ত ফেরত পাই নাই। এখন এসে শুনি তারা হাসান স্যারের সাথে যোগাযোগ করবেন তার পর আমার কাজ হবে। এছাড়াও কামরুল নামজারি প্রতি ফাইল থেকে ১৫’শ থেকে ২ হাজার টাকা করে নেন ওমেদার রিয়াদের মাধ্যমে।
আবার অনেক সময় তিনি নিজেও নেন। অনেক সময় কারো ফাইলে ভিটা লেখা কে, পর্চায় নালকে এগুলো বলে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা নেয়ার অভিযোগও আছে তাদের বিরুদ্ধে। তাদের কাছ থেকেতো মানুষ ভালো ব্যবহার পায়না বললেই চলে। তারা মানুষকে মানুষ মনে করে না।
এই লোকের পাশেই আরেকজন জানান, সকল ভূমি অফিস, সার্ভেয়ার, কানুনগো সকলের স্বাক্ষর দেয়ার পর পর্চা হয়ে ডিসি আর রশিদ ও পর্চা নাজির কামক্যাশিয়ারের কাছে জায় এসিল্যান্ড সহকারি কমিশনারের স্বক্ষরের জন্য আর এতে করেও তাদের বেশি টাকা দেয়ার পরেও সঠিক সময়ে আমরা পর্চা রশিদ পাই না। যেখানে নামজারি প্রতি সরকারি রেট ১১৭০ টাকা সেখানে তারা নেন ১৫শ’ থেকে ২ হাজার টাকা।
তার পরে আবার মাসকে মাস তাদের পিছনে ঘুরতে হয়। এবিষয়ে সদর এসিল্যান্ড নাজির কাম ক্যাশিয়ার কামরুল জানান, আমরা হাসান স্যারের সাথে যোগাযোগ করে ওই ব্যক্তির রশিদে এক সপ্তাহের মাঝে স্বাক্ষর নিয়ে করে দিবো।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে তিনি অস্বীকার করেন। সদর এসিল্যান্ড নাজির কাম ক্যাশিয়ার ওমেদার রিয়াদের ০১৭৫৬*৪**৫*১ নাম্বারে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নাই। নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মঞ্জরুল হাফিজের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোনকল রিসিভ করেননি।


