Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

আমি কি দেখি, তুমি কী দেখ

Icon

করীম রেজা

প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২২, ০৭:১৭ পিএম

আমি কি দেখি, তুমি কী দেখ
Swapno

দিন দিন দ্রব্যমূল্য বাড়ছে, বাড়ছে টিসিবির ট্রাকের পিছনের লাইনও।এমনকি টিভি চ্যানেলে লাইন দৌড়ানোর সরাসরি ছবিও দেখাচ্ছে। কিন্তু মন্ত্রী-আমলারা তা দেখেন না। তারা দেখেন মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বাড়ছে।হিসাব দেন ১৩ বছরে চার গুণ বেড়েছে ক্রয় ক্ষমতা।তারা দেখছেন মানুষ চিকন চাল বেশি খায়।তাই চালের দাম বাড়ে। মোটা চালের দামও যে বাড়তি তা দেখেন না।

 

খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশে চালের দাম কেন বাড়ে, তার জবাব নাই। মানুষের ভোগান্তি,দূর্বিষহ জীবন যাপন দেখেন না। সবকিছুর গড় হিসাব দিচ্ছেন আমলা-মন্ত্রিরা।গড় হিসাবের ফাঁকিটুকু জেনেও তারা এসব বলছেন। কৌতুক নাকি সান্ত্বনা জনতা বুঝতে পারে না। তাই টিসিবির ট্রাক একমাত্র তাদের লক্ষ্য। তারা দেখেন গড় হিসাবে দেশের মানুষ খুব ভালো আছে।

 

তারা দেখছেন না করোনার আঘাতে কত লক্ষ মানুষ গরীব হয়েছে, বেকার হয়েছে । তারা রসিকজন, দারিদ্র্য নিয়ে মজা করতে পারেন । বাংলাদেশ আজকাল বিশ্ববাজারের অংশ। সকালে বিশ্ববাজারে জিনিসের দাম বাড়লে  সঙ্গে সঙ্গে এই  দেশেও জিনিসপত্রের দাম বাড়ে। আবার আমলা কর্তারা সাধারণ মানুষের মাথায় বোঝার উপর শাকের আটি উঠিয়ে দিতে ভালবাসেন।

 

বিদ্যুৎ, গ্যাসের দাম বাড়লে,সবকিছুর দাম বাড়ে।এসব জানার পরেও দফায় দফায় দাম বাড়ান। ভর্তুকি কমিয়ে রাষ্ট্রের তহবিল বাড়ান।সঙ্গে নিজের আখের গোছান।চুক্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করেন। গরীবকে আরও গরীব করেন, গরীবের সংখ্যা বাড়ান।ধনীরও সংখ্যা বাড়ান। আক্রার বাজারে পিয়াজের ঝাঁজ না থাকলেও দাম বাড়তি দিকেই।

 

এদিকে হঠাৎ তেলের তেলেসমাতিতে আক্কেল গুড়ুম। খোলা তেল বিক্রি নিষিদ্ধ। বোতল বদ্ধ তেলও বাজার থেকে উধাও। তেলকান্ডেও চুনোপুটিরা বরাবরের মতই হেনস্থা হয় কিন্তু রাঘব-বোয়ালের টিকির হদিস নাই। বাসাবাড়ির গ্যাসের দাম বাড়ে, লাইনে গ্যাসের চাপ কমে। চুলার হাঁড়ি সময় মত গরম হওয়া ভাগ্য। হয় দোকান থেকে কিনে খাও, নয় ত সিলিন্ডার কিনে রান্না কর।

 

সিলিন্ডারের দামও দফায় দফায় লাফাচ্ছে। গ্রাহকের গলা চেপে ধরা সময়ের ব্যাপার মাত্র।রোজা আসছে। রোজায় জিনিসপত্রের দাম বাড়ে না। মন্ত্রি, আমলা, আরো যারা যারা দুয়েক মাস আগে থাকতেই রোজার বয়ান শুরু করে। তাইতে জিনিসপত্রের দাম কয়েক লাফে ডগায় গিয়ে বসে আর নামানোর উপায় থাকে না। তাই নতুন করে দাম বাড়িয়ে রোজাদারদের নাহক কষ্ট দেওয়ার মত গুনাহের কাজটি তেজারতিরা করে না।

 

বাণিজ্যে বসতি লক্ষ্মী শাস্ত্রবাক্য বাঙালি হাতে কলমে তেলেসমাতি দেখিয়ে প্রমাণ করে ছাড়ল।তেলেসমাতির ফলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এই সর্বপ্রথম গবেষণা শুরু করেছে। বাংলাদেশে কখন কি পরিমান ভোজ্য তেল আমদানি হয় তার হিসাব করবে।আদতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি মনিটরিং সেল থাকার কথা,যারা নিয়মিত আমদানী রপ্তানীর হিসাব রাখবে।

 

অনুমোদিত আমদানির বিপরীতে কোন তারিখে কি উপায়ে কত পরিমান দেশের বাজারে প্রবেশ করলো। এ্যাট এ গ্লেন্স তা জানা যাবে।কিন্তু তেমন ব্যবস্থা নাই। তাই নতুন গবেষণার উদ্যোগ আয়োজন। সঠিক গবেষণার খাতিরে আবার বিদেশ গিয়ে হাতে-কলমে ব্যবস্থাটি দেখে আসতে হতে পারে। জনগনের টাকা ত  গৌরি সেনের টাকার মতই, শুধু বিলি বন্টনের যা দেরি।

 

আন্তর্জাতিক বাজারে সকালে দাম বাড়লে সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের খুচরা বাজারে দাম বাড়ার সব রকম সরকারি যুক্তি হাস্যকর । সবই আমলাদের দায় এড়ানোর পুরনো কৌশল। আগের দামে কেনা জিনিসের মজুদ শেষ না হতেই কেন নতুন দাম কার্যকর হয়? বিশ্বের বাজারে দাম কমলে দেশের পাইকারি, খুচরা বাজারে ত দাম কমার ইতিহাস নাই।

 

মন্ত্রী আমলাদের চোখ কান কোথায় থাকে তাও বিস্তর গবেষণার বিষয়। প্রকাশিত প্রচারিত সংবাদ তারা দেখেন না। তাদের কাছে জিজ্ঞাসা করলে জবাব আসে,বিষয়টি লিখিতভাবে কেউ জানালে দরকারি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চারপাশে ঘটে যাওয়া কিছুই তাদের নজরে আসে না, স্পর্শ করে না। কিছুই তারা জানতে পারেন না, দেখতে পারেন না, দেখিয়ে না দিলে, জানিয়ে না দিলে।

 

ওই বিষয়ে তারা কিছুই করতে পারেন না।অন্যদিকে বেসরকারি রাজনৈতিক জোট, দল শুধু সরকারের কাঁধে দোষ চাপিয়ে দায়িত্ব সারছে, নিদানের মন্ত্রসূচি তারা দিতে নারাজ।চাই ক্ষমতার ভাগ। ভাবেসাবে বাঙালির সেই পুরনো প্রবাদ মনে পড়ে বেড়ায়ও যে ক্ষেত খায়।  করীম রেজা, সাবেক অধ্যক্ষ শধৎরসৎবুধনফ@ধড়ষ.পড়স
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন