# প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা, টনক নড়েনি কারো
# একে অন্যকে দোষারোপ করেই দায় এড়াতে চায় সংশ্লিষ্টরা
নারায়ণগঞ্জ জেলার আভ্যন্তরিণ যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ নৌ পথে বিভিন্ন জেলার সাথে যোগাযোগের জন্য শীতলক্ষ্যা নদী খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই শীতলক্ষ্যা নদী নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলাকে অন্য চারটি উপজেলা থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। এছাড়াও এই নদীর ঐতিহাসিক গুরুত্বও অনেক। এক সময় শীতলক্ষ্যা তীরে অবস্থিত বন্দরটি বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রধান নদী বন্দর ছিল যা বর্তমানে দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ নদী বন্দর।
প্রসস্তের বিবেচনায় নৌ যান চলাচলে বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষে থাকা এই শীতলক্ষ্যা নদীটিকে কেন্দ্র করেই বিশ্ব দরবারে শিল্প ও বাণিজ্য নগরী হিসেবে পরিচিতি লাভ করে নারায়ণগঞ্জ। প্রাচ্যের ড্যান্ডি খ্যাতির মূলেও আছে শীতলক্ষ্যার অবদান। অথচ আমাদের উদাসীনতা ও অতি মুনাফা লোভের কারণে এই শীতলক্ষ্যা এখন মৃত্যুকুপে পরিণত হচ্ছে। নদী তীরে গড়ে উঠা শিল্প প্রতিষ্ঠানের অবৈধ নদী দখলের কারণে নিত্য নদী পারাপারে যাত্রীরা প্রতিনিয়তেই মৃত্যুর শিকার হচ্ছেন।
শীতলক্ষ্যা নদীটি দক্ষিণ প্রান্তে এসে খুবই সরু হয়ে ধলেশ্বরীতে মিশেছে। শহরের নিতাইগঞ্জ এলাকার এখানে নদীর প্রশস্ত প্রায় ১৬০মিটার মাত্র এবং বন্দর ও নবীগঞ্জ ফেরিঘাট এলাকায় এই প্রশস্ত প্রায় ২০০মিটার। অথচ এই এলাকাটিই হলো নদীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম এলাকা। এখানে জেলার প্রধান ও দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম লঞ্চঘাটের অবস্থান হওয়ার পাশাপাশি জেলার সবচেয়ে ব্যস্ততম খেয়াঘাট।
এর একটু উত্তরে এগিয়ে গেলে শহরের সাথে বন্দরের যোগাযোগ ব্যবস্থার একমাত্র ফেরিঘাটের অবস্থান। এই দুটি অবস্থানের মাঝামাঝি নদীর পশ্চিম পারে আছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন ড্রেজার পরিদপ্তরের নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়। যার একাধিক ড্রেজার ও তার সরঞ্জাম নদীর পূর্ব পাশের একটি বড় অংশ দখল করে আছে।
পূর্ব পাশে নদীর একটি অংশ দখল করে নোঙর করা আছে আকিজ সিমেন্ট কারখানার সিমেন্টের মালামাল ভর্তি জাহাজ। এসব জাহাজের মালামাল লোড ও আনলোড করতে আসা এসব নৌযানগুলো নদীর একটি বড় অংশ দখল করে রাখার কারণে এবং তীরেও ছোট-বড় নৌযান থাকায় নৌপথ অনেকটাই সরু হয়ে পড়েছে।
এ ছাড়ারও নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে একাধিক সরকারী ও বেসরকারী জাহাজ তৈরী ও মেরামত করার কারখানা। এর ফলে এখানকার প্রায় ২০০ মিটার প্রশস্ত নদীর প্রায় ১৫০ মিটারই দখল হয়ে আছে। যান চলাচলের জন্য উম্মুক্ত আছে মাত্র ৫০ মিটারের মতো জায়গা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এসব এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীতে বৈধ ও অবৈধভাবে নোঙর করা হচ্ছে প্রচুর জাহাজ ও ড্রেজার। এর ফলে বন্দর ও নবীগঞ্জ খেয়াঘাট দিয়ে কয়েকটি উপজেলার লাখ লাখ লোক প্রতিদিন মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে। এর জন্য একাধিক মানবাধিকার সংগঠনসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী এর প্রতিকার চেয়ে বিভিন্ন দফতরে যোগাযোগ করলেও কোনো প্রকার প্রতিকার পাচ্ছে না।
লঞ্চ টার্মিনালে নোঙ্গর করার আছে প্রায় অর্ধশতাধিক লঞ্চ। সব মিলিয়ে নদীর চার ভাগের তিনভাগই দখলে চলে যাওয়ায় দুর্ঘটনার পতিত হচ্ছে নৌযানগুলো। প্রাণ হারাচ্ছে সাধারণ মানুষ। এসব কারণেই গত বছরের এপ্রিলে লঞ্চডুবির ঘটনায় প্রাণ হারায় ৩৪জন সাধারণ মানুষ। প্রায়ই নৌকা ডুবিসহ জাহাজের সাথে সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে হাজীগঞ্জ-নবীগঞ্জ ঘাটের ফেরি।
এই বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রুমন রেজা জানান, শীতলক্ষ্যায় দীর্ঘদিন যাবতই দখল এবং দুষণের কবলে। এই বিষয়ে বিভিন্ন সময় ব্যবস্থা নেওয়া হলেও কার্যকর কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় শিল্প কারখানা গড়ে নদী দখল করে আছে। এ বিষয়ে সরকার আগের অবস্থানে নাই।
এ ব্যাপারে জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এবিষয়ে প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হওয়া উচিৎ। শীতলক্ষ্যা বাঁচলে নারায়ণগঞ্জ বাঁচবে। তাই প্রশাসনের একেবারে টপ লেভেল থেকেই এরজন্য ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।


