# চালক ও মালিকরা জিম্মি হয়ে পড়ছে দিনের পর দিন
বর্তমানে দেশের নিম্নবিত্ত মানুষ বিভিন্ন জেলা শহরে মিশুক বা ইজি বাইক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। ব্যাটারী চালিত এই বাহনের সরকার কর্তৃক কোনো ধরনের অনুমতি নেই। বলা চলে হতদরিদ্র মানুষের কথা চিন্তা করেই সরকার ইজিবাইক ও মিশুকের বিরুদ্ধে তেমন কোনো কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। অপরদিকে এই বাহনটি নিয়েই নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন থানা এলাকায় বেশ কয়েকটি চক্র চাঁদাবাজীতে মেতে উঠেছে।
প্রতিমাসে কয়েক কোটি চলে যাচ্ছে বিভিন্ন এলাকার চাঁদাবাজদের পকেটে। বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন থেকে শুরু করে সরকার দলীয় বেশ কিছু নামধারী নেতাও ইজিবাইক চালক ও মালিকদের কাছ থেকে কৌশলে আদায় করছে চাঁদা। অনেকে আবার চাঁদাবাজী করতে গিয়ে ইজি বাইকের জন্য নিজেদের মনমতো প্লেট তৈরী করেছেন। এই চাঁদাবাজি করতে গিয়ে বিভিন্ন এলাকায় তৈরী হয়েছেন একাধিক সিন্ডিকেট।
এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা ইজিবাইক ও মিশুকের জন্য তৈরী করেছন টোকেনও। প্রতিমাসে শুধুমাত্র নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় ইজিবাইক ও মিশুকের থেকে একাধিক চক্র হাতিয়ে নিচ্ছে প্রায় ৩ কোটি টাকা। এমন দাবী একাধিক সূত্রের। ইউনিয়ন বা সিটি কর্পোরেশনে বিধি অনুযায়ী ইজিবাইক বা মিশুকের জন্য কোনো ধরনের নাম্বার প্লেট বরাদ্দ না হওয়ায় সরকার হারাচ্ছে ট্যাক্স। তবে থেমে নেই চাঁদাবাজ চক্রের হোতারা।
মিশুক বা ইজি বাইক চালিয়ে অনেক যুবকের বেকারত্ব ঘুচেছে। ইজিবাইক বা মিশুক আসার আগে দেশে প্যাডেল চালিত রিক্সার ব্যবহার ছিলো। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ও জেলার অনান্য ইউনিয়ন পরিষদ প্যাডেল চালিত রিক্সার জন্য প্লেট বরাদ্দ ছিলো। এতে সরাকরী কোষাগারে ট্যাক্স জমা হতো। কিন্তু মিশুক ও ইজি বাইক আসার পর মালিকরা প্যাডেল চালিত রিক্সা থেকে মুখ ঘুরিয়ে নেয়।
অপরদিকে যাত্রী সাধারণও প্যাডেল চালিত রিক্সায় যাতায়াত বাদ দিয়ে মিশুক ও ইজি বাইকে চলাচল করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। তবে ব্যাটারী চালিত এই যানবাহনের কোনো সরকারী অনুমতি না থাকার কারনে একটি চক্র প্লেট বানিজ্যে মাঠে নেমেছে অনেক আগেই। বিশেষ করে সদর উপজেলায়পাগলা,ফতুল্লা,কাশিপুর,সিদ্ধিরগঞ্জে গড়ে উঠেছে ইজি বাইক ও মিশুককে ঘিরে একাধিক সিন্ডিকেট।
এই সিন্ডিকেট মিশুকের চালক ও মালিকদের জিম্মি করে প্রতিমাসে সড়কে ইজি বাইক চলাচল করার কারনে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। একটি বড় ৫ ব্যাটারীযুক্ত ইজিবাইকের একেকটি প্লেট চাঁদাবাজদের কাছ থেকে ৫/১০ হাজার টাকায় কিনতে হচ্ছে মালিকদের। অপরদিকে মিশুকের জন্য প্লেট বাবদ ২ হাজার টাকা করে নিচ্ছে একাধিক চক্র।
শুধুমাত্র সদর উপজেলায় রয়েছে ৪/৫ হাজার ইজিবাইক। অপরদিকে মিশুক রয়েছে ২০/২৫ হাজার। প্রতিদিন সকাল থেকে সিদ্ধিরগঞ্জ পুল,শিমরাইল মোড়,খানপুর হাসপাতালের মোড়, জিমি খানার মোড়,পঞ্চবটির মোড়,পাগলা বাজার,কাশিপুরস্থ ভোলাইল মিষ্টির দোকান, মুক্তারপুর ব্রিজ, হরিহরপাড়া প্রেম রোড, বক্তাবলী ফেরীঘাটসহ বেশ কয়েকটি স্পটে চলে চক্রের চাঁদাবাজি। শুধুমাত্র ইজি বাইক ও মিশুককে পুঁজি করেই চক্রের সদস্যদের পোয়াবারো।
এব্যপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন ইজিবাইক ও মিশুকের মালিক জানান, একেকটি মিশুক বা ইজি বাইক রাস্তার চলাচলের জন্য প্লেট ক্রয় করতে হয় চক্রের সদস্যদের কাছ থেকে। যদি কোনো ইজি বাইক বা মিশুকের গায়ে চক্রের দেয়া প্লেট না লাগানো থাকে তাহলে সেই গাড়িগুলোকে পুলিশে আটক করে। রেকার বিলের নামে শুরু করে হয়রানী।
চক্রের সদস্যদের সাথে জেলা পুলিশের বেশ কিছু পুলিশ সদস্যের দহরম মহরম সম্পর্ক থাকার কারনে বাধ্য হয়েই তাদের কাছ থেকে মালিকদের প্লেট ক্রয় করতে হচ্ছে। অপরদিকে প্রতিমাসে এই চক্রের সদস্যদের একেকটি মিশুক বা ইজি বাইক বাবদ টাকা দিতে হয়। সরকার হতদরিদ্র মানুষের কথা চিন্তা করে মিশুক বা ইজি বাইকের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয় না। বলা চলে এটা সরকারের হতদরিদ্র মানুষের জন্য ভালোবাসার প্রতিফলন। কিন্তু চাঁদাবাজ চক্রের কাছে চালক ও মালিকরা জিম্মি হয়ে পড়ছে দিনের পর দিন।
এব্যাপারে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো.রকিবুজ্জামান বলেন, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোনোভাবেই কাউকে চাঁদাবাজি করতে দেয়া হবে না।


