Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

গ্যাস না দিয়েই বিল নিচ্ছে তিতাস

Icon

লতিফ রানা

প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২২, ০৬:৩৮ পিএম

গ্যাস না দিয়েই বিল নিচ্ছে তিতাস
Swapno

# রাত জেগে গ্যাসের জন্য অপেক্ষা করে গ্রাহক
# অবৈধ সিন্ডিকেটের সাথে তিতাসের লোকজনও জড়িত
# এভাবে চললে তিতাসের দেউলিয়া হতে বেশি দিন লাগবে না : কাজিম প্রধান

 

কথায় বলে কাজীর গরু গোয়ালে না থাকলেও কেতাবে আছে। বর্তমানে তেমনি আমাদের দেশের তিতাসের গ্যাস সরবরাহের যে অবস্থা তাতে বেশীর ভাগ সময়ই চুলোয় থাকে না আগুন। গৃহিনীদের রাত জেগে অপেক্ষায় থাকতে হয় কখন গ্যাসের সরবার শুরু হবে আর চুলোয় উঠবে রান্নার হাঁড়ি। এই বিষয়ে প্রশাসনের কোন মাথা ব্যাথা না থাকলেও দাম বাড়ানোর বিষয়ে তারা ঠিকই ব্যস্ত সময় পার করছেন।

 

তাইতো গ্রাহকরা অভিযোগ করে বলছেন, তিতাস গ্যাসের লাইনে ঠিক মতো গ্যাসের সরবরাহ না থাকায় বেশিরভাগ সময়ই চুলোয় জ্বলে না আগুন। অথচ সেদিকে মনযোগ না দিয়ে কিভাবে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করা যায় সেদিকেই তাদের যত খেয়াল। তাই যারা অবৈধ গ্যাস সংযোগ নিয়েছেন তারাই লাভবান আছেন।

 

কারণ তাদের কোন বিল দিতে হয় না। অথচ যে সময়ই গ্যাস সরবারাহ আসে তখন তারা ঠিকই সে গ্যাস ব্যবহার করছে। এতে একদিকে সরকারও তাদের প্রাপ্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে বৈধ সংযোগকারিরা প্রয়োজনীয় গ্যাস পাচ্ছে না। অথচ এই একই সংযোগগুলোকে যদি বৈধ করে দেওয়া হয় তাহলে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধির জন্য আর গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হয় না।

 

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানীর সূত্র অনুযায়ী গত ফেব্রুয়ারি মাসে নারায়ণগঞ্জে তিতাসের অভিযানে ৪০টি স্পটে ২৫ দশমিক ৯২ কিলোমিটার অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

 

১৬ হাজার ৬২৭টি আবাসিক অবৈধ চুলা এবং বিভিন্ন অভিযোগে ১০০টি বৈধ সংযোগ কর্তন করা হয়। এছাড়াও ৩টি শিল্প ও ২টি ক্যাপটিভ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এ সময় নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও এবং নরসিংদী এলাকায় মোট ৬টি মোট ৬টি মোবাইল কোট পরিচালনার মাধ্যমে অবৈধ গ্যাস ব্যবহারকারিকে মোট ৫লাখ ৪৫হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়।

 

অন্যদিকে জানুয়ারি মাসে ৫টি স্পটে ৭ কিলোমিটার অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। ৪ হাজার ১৮টি আবাসিক অবৈধ চুলা এবং বিভিন্ন অভিযোগে ১৫১টি বৈধ সংযোগ কর্তন করা হয়। এছাড়াও ২টি বাণিজ্যিক ৫টি শিল্প ও ৩টি ক্যাপটিভ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।
 
বন্দর নাসিক ২৪ নং ওয়ার্ডের গৃহিনী সাদিকা খানম তৃপ্তি জানান, আমরা যারা বৈধ লাইনে গ্যাস সংযোগ নিয়েছি তারা নিয়মিত বিল পরিশোধ করার পরও ঠিক মতো গ্যাস পাচ্ছি না। অথচ আমাদের আশে পাশের বেশির ভাগই অবৈধ সংযোগ দিয়ে গ্যাস সরবরাহ নিয়েছে। এসব সংযোগ স্থানীয় পঞ্চায়েত, নেতাসহ তিতাসের অনেক কন্ডাক্টর মিলে সিন্ডিকেট তৈরি করে দিয়ে থাকে।

 

তারা সংযোগ প্রতি ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকজা নেয়। আবার যে সময় কোন উচ্ছেদ অভিযান আসে তখন বেশিরভাগ সময়ই তারা আগাম খবর পেয়ে যায়। এর বিনিময়েও তারা অবৈধ সংযোগকারিদের কাছ থেকে চাঁদা পায়। আবার অনেক সময় দেখা যায় যারা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানায় তাদের বাড়িতে তিতাসের লোকজন অভিযান চালায় এবং বড় অংকের টাকা আদায়ে ছেড়ে দেয়।

 

এ সময় সেসব সংযোগের আশেপাশের অন্যান্য অবৈধ সংযোগের বিষয়ে তারা মাথা ঘামায় না। অর্থাৎ যারা চাঁদা না দেয় শুধু তাদেরকেই টার্গেট করে আসে এসব কর্মকর্তারা। তাতে বোঝাই যায়, কর্মকর্তারাও এসব সিন্ডিকেটের হাতের পুতুল।

 

এসব বিষয়ে কথা বললে তিতাস গ্যাস কর্মচারী ইউনিয়ন (সিবিএ) এর কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. কাজিম উদ্দিন প্রধান জানান, তিতাসের অবৈধ সংযোগ আমাদের কোনভাবেই কাম্য নয়। আমরা এসব সংযোগ বিচ্ছিন্নে আরও তৎপর হওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবি জানাচ্ছি। তবে আবাসিক এলাকায় বৈধ সংযোগ চালুর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, বৈধ সংযোগে খুবই অল্প গ্যাসের প্রয়োজন হয়।

 

তাই আমি মনে করি যেসব সংযোগ গুলো অবৈধভাবে চলতাছে সেগুলো সংযোগ দেওয়াই আছে। তাই এগুলোকে শুধু বৈধতা দিলেই সরকারের রাজস্ব অনেক বৃদ্ধি পাবে। তা না হলে এভাবে যদি দীর্ঘ সময় চলতে থাকে তা হলে তিতাস গ্যাসের দেউলিয়া হতে আর বেশি দিন লাগবে না। কারণ এসব হাজার হাজার অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।

 

আমাদের লোকজন একদিকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করছে অন্যদিকে তারা আবার সংযোগ দিচ্ছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃবপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আমি তাদের কাছে বিনীত অনুরোধ করব, আবাসিক গ্যাস সংযোগ চালু করা হোক। এবং এসব অবৈধ সংযোগগুলো বৈধ করার জোর দাবি রাখছি। তবে তিতাসের কর্মকর্তা বা কর্মচারী এসব অবৈধ সংযোগের সাথে জড়িত না উল্লেখ করে তিনি বলেন,

 

যদি এধরণের কোন অভিযোগ প্রমাণিত হয় তাহলে তার বিরুদ্বে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। স্থানীয় প্রভাবশালী থেকে শুরু করে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ও স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায়ই এগুলো হচ্ছে। এদের সাথে গ্যাসের যারা কন্ডাক্টর আছে তারাও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যুক্ত থাকে।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন