Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

আইনে নিষিদ্ধ ব্যবহারে অবাধ

Icon

অর্ণব হাসান

প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২২, ০৬:৪৫ পিএম

আইনে নিষিদ্ধ ব্যবহারে অবাধ
Swapno

# বছরেও কোন অভিযান নেই

 

আইনে নিষিদ্ধ হওয়ার পরও উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার হচ্ছে ক্ষতিকর পলিথিন। এতে ভেঙে পড়েছে শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা। দূষিত হচ্ছে পানির তলদেশ, উর্বরতা হারাচ্ছে মাটি। ভরাট হচ্ছে নদীনালা, খালবিল।

 

অতিমাত্রায় পলিথিন ও প্লাস্টিক ব্যবহারের কারণে মানবশরীরে বাসা বাঁধছে ক্যানসারসহ নানা রোগ। আর কয়দিন পরেই শুরু হচ্ছে বৃষ্টি বাদলের দিন।  অভিযোগ রয়েছে ড্রেনে পলিথিন পরে থাকায় অল্প বৃষ্টিতেই  নগরীর বঙ্গবন্ধু সড়ক তলিয়ে যায়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে শহরের হকাররা ড্রেনে সহ রাস্তায় পলিথিন ফেলে রাখে।  


খোঁজ নিয়ে জানা যায় নগরীর, ২ নম্বর রেলগেট এলাকায় প্রায় ২০ থেকে ২৫ টি পলির পাইকারি খুচরা দোকান আছে। যে গুলোতে অবৈধভাবে বিভিন্ন প্রশাসন ম্যানেজ করে এই নিষিদ্ধ পলিথিন বিক্রি চলে। এছাড়ারও শহরের নয়ামাটি, দিগুবাবুবাজার, নিতাইগঞ্জ, কালিরবাজারসহ আশপাশের এলাকার বাজারগুলোতেও দেদারসে এই নিষিদ্ধ পলিথিন বিক্রি চলছে।

 

কিন্তু ভোক্তা অধিকার বা প্রশাসন যেন একধরনের নিরবতা পালন করে যাচ্ছে। অন্য দিকে জেলার জালকুড়ি, কাশিপুরের নরসিংপুর, ঢাকা মিরপুর, সভার এলাকা থেকে বিভিন্ন ভাবে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এই পলিথিন আমদানি করা হয়।  


এদিকে পরিবেশবাদীরা বলছেন, অনেক দেশ আইন করে প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু আমাদের দেশে স্থলের পর এবার সাগর-মহাসাগরকে বিষিয়ে তুলছে বিষাক্ত পলিথিন ও প্লাস্টিক। তারপরও সচেতনতা বাড়ছে না। মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশকে রক্ষা করতে পলিথিন ও ওয়ানটাইম প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। তারা বলছেন, পলিথিন নিষিদ্ধ হওয়ার পরও সারা দেশে চলছে এর রমরমা ব্যবহার।

 

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখের সামনেই নগরী সহ সব জায়গায় পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার চলছে। ছোট্ট পণ্য থেকে শুরু করে বড় পণ্য—সবকিছুই বিক্রেতারা পলিথিনের ব্যাগে ভরে ক্রেতাদের হাতে তুলে দিচ্ছেন। আর এই পলিথিন গিয়ে শিতলক্ষা, ধলেশ্বরী নদীর পানি বিষাক্ততে পরিনত হচ্ছে। আর এতে করে নারায়ণগঞ্জের এই নদীর তার ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। আইনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বেড়েই চলেছে পলিথিনের ব্যবহার।


চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা বলছেন, পলিথিন ব্যাগ ব্যবহারে চর্মরোগ ও ক্যানসারসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হতে পারেন যে কেউ। অথচ ২০০২ সালে আইন করে পলিথিন উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়। আইনের বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি নিষিদ্ধ পলিথিনসামগ্রী উৎপাদন, আমদানি বা বাজারজাত করে তা হলে ১০ বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা,

 

এমনকি উভয় দণ্ডও হতে পারে। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) দেওয়া তথ্য অনুসারে বিশ্বের ৮৭টি দেশে একবার ব্যবহার উপযোগী পলিথিনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আছে।


নগরীর বাসিন্দা সোহেল জানান, শীতলক্ষা নদীতে পলিথিন ফেলে রাখায় এখানকার পানি ভয়াবহ দূষণের কারণে এই নদীর পানি থেকে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। প্রাণ ও পরিবেশ বাঁচাতে শাস্তির বিধান রেখে আইন করা হয়।

 

বিকল্প হিসেবে ব্যবহার শুরু হয় কাগজের ব্যাগ। সচেতনতা ও আইনের প্রয়োগ না থাকায় পলিথিনের উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধ হয়নি। সচেতন মহল বলছেন, অল্প বৃষ্টিতে নগরীতে পানি জমার অন্যতম কারন হলো ড্রেনে পলিথিন পরে থাকা।জেলা ভোক্তা অধিকার কর্মকতা সেলিমুজ্জামানের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তার নাম্বার ব্যস্ত পাওয়া যায়।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন