নারায়ণগঞ্জ এর জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. মঞ্জুরুল হাফিজ বলেছেন, আমরা জন্মের আগেও ঘুমিয়েছি, মরার পরও ঘুমাবো। আর কতকাল ঘুম পাড়বো। এই সময় একটু জাগি। আসেন আমরা সবাই সমাজকে জাগাই। তাহলে সমাজকে একটু পরিবর্তন করতে পারবো। আমরা একেকজন একেকটা বুলেট হিসেবে তৈরি হবো। সব জায়গাতে কথা বলবো, প্রতিবাদ করবো।
নারায়ণগঞ্জ শহরের মধ্যে এত অত্যাচার এত যন্ত্রনা চলতেছে! ফুটপাত মানেইতো হাঁটা। অথচ আপনার ফুটপাত দখলে, সেখানে পণ্যের ব্যবসা করতেছে। আপনি কি প্রতিবাদ করেন? যে কোন এলাকায় দেখা যায় ৫ জন হিরোইন খোর মিলে পুরা এলাকা টহল দিয়ে বেড়াচ্ছে। আপনারা ৫ জন ভালো মানুষ এলাকাটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না? বলতে পারেন না? আমার এলাকায় রাস্তা দখল করতে দিব না।
সাউন্ড সিস্টেম করতে দিব না। আমার এলাকা আমি ঠান্ডা চাই। এলাকায় আপনি মাসের পর মাস ইট রেখে ভবন বানাচ্ছেন পরিষ্কার আইনের লঙ্ঘন। সেখানে কেউ কথা বলে না। আমরা শুধু অপেক্ষায় থাকি কবে অচিন পাখি এসে সব কিছু ঠিক করে দিবে।
গতকাল সোমবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে পরিবেশ অধিদপ্তরের ‘’শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্পের আওতায় অনুষ্ঠিত সচেতনতামূলক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ আল-মামুন এর সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মুহাম্মদ মুশিউর রহমান, ইকিউএমএস কনসালটিং লিমিটেড এর পরিবেশ বিষয়ক পরামর্শক মো. মাসুম রেজা, সৈয়দ গালিব শাহসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
জেলা প্রশাসক বলেন, এটা ডিসির একার কাজ নয়। যে যার অবস্থানে আছেন সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে। আমরা একেকজন একেকটা বুলেট হিসেবে তৈরি হবো। সব জায়গাতে কথা বলবো। প্রতিবাদ করবো সব জায়গায়। আপনারা যদি একটু কথা বলেন তাহলে দেখবেন সব কিছু সহজ হয়ে যাবে।
জেলা সিভিল সার্জন তার বক্তব্যে বলেন, শব্দ দূষণে শুধু মানব দেহই নয় বিভিন্ন প্রাণীদের ক্ষেত্রেও মারাত্মক ক্ষতির কারণ বয়ে আনে। আমাদের দেশের এ্যাম্বুলেন্সগুলো শুধু রোগীদেরই বহন করে তা নয়। তারা সাধারণ যাত্রীসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এর মাধ্যমে করে থাকে। অথচ তারা এত জোরে সাইরেণ বাজায় যা মোটেও কাম্য নয়।
তাছাড়া আমাদের দেশের এ্যাম্বুলেন্সগুলো বেশির ভাগই সাউন্ডপ্রুফ না। তাই সেই শব্দে গাড়ির ভিতরে থাকার রোগীদেরও মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। একজন গর্ভবতী নারীর ক্ষেত্রে এটা আরও ভয়ঙ্কর। মাত্রাতিরিক্ত সাউন্ড বা শব্দের কারণে নবজাতক বিকলাঙ্গ হতে পারে। তাই এই বিষয়ে সকলকে সচেতন হতে হবে। শব্দ দূষণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’
সভাপতির বক্তব্যে জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মালয়শিয়াসহ উন্নত দেশগুলোতে শব্দ দূষণ নেই বললেই চলে। আমাদের দেশেও এটা করা সম্ভব। যারা গাড়ি চালক আছে এবং বিআরটিএ’র সাথে আমরা প্রোগ্রাম করেছি। হর্ণ বাজিয়ে শব্দ দূষণ করার শাস্তির বিষয়ে অবগত হলে তারা এর থেকে বিরত থাকবেন।
আমরা কারখানার শ্রমিকসহ স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের সাথেও সচেতনতামূলক প্রোগ্রাম করবো। আমরা শব্দ দূষণ রোধে এনফোর্সমেন্টেও গিয়েছি। খানপুর হাসপাতালের সামনে আমরা মোবাইল কোর্ট করেছি। ইতিমধ্যে শতাধিক গাড়ি পরীক্ষা করে ৮ হাজার টাকার মত জরিমানা করা হয়েছে। আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
এ সময় শহরের ৫টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে শব্দ দূষণের মাত্রা পরিমাপের একদিনের কর্মসূচির বাস্তবায়নের কথা জানান পরিবেশ বিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইকিউএমএস কনসালটিং লিমিটেড। তাদের সাথে সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে থাকবেন বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস)।
এই দুইটি প্রতিষ্ঠান সম্মিলিত ভাবে শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্পের আওতায় ৬৪টি জেলা শহরে শব্দের মাত্রা পরিমাপ জরিপের কার্যক্রম এবং সচেতনতামূলক কর্মশালা বাস্তবায়ন করছে বলে জানানো হয়।


