# সেবা প্রদানে লুকোচুরি
# এটা সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক : শরীফউদ্দিন সবুজ
# সর্ষের যে ভূত আছে : আমির হুসাইন স্মিথ
# গ্রাহক পরিচয়ে প্রবেশের পরামর্শ ডিসি’র
আপনি যদি গ্রাহক হন তাহলে প্রবেশ ফটকে সিকিউরিটির নিরাপত্তার রক্ষীর রেজিস্টার খাতায় নাম ঠিকানা লেখে প্রবেশের অধিকার আছে। কিন্তু আপনি যদি সাংবাদিক হন, তাহলে এ ধরণের কোন নিয়মই আপনার বেলায় খাটবে না।
আপনাকে ভেতরে ফোন করে কোন বসের অনুমতি নিবেন তাহলেই মিলবে ভেতরে প্রবেশের অধিকার। তবে তারা ফোন করবে না, কিংবা আপনাকে কোন নাম্বারও তারা দিবে না।
নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া বালুর মাঠ এলাকায় অবস্থিত তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানীর কার্যালয়ে গেলে সাংবাদিকদের এমনই বিড়ম্বনার মুখে পড়তে হয়। অর্থাৎ সাধারণ গ্রাহকগণ শুধু নাম রেজিস্ট্রি করেই যেতে পারবে, কারও অনুমতি লাগবে না। কিন্তু সাংবাদিকদের বেলায় কর্মকর্তাদের অনুমতি ছাড়া তাদের দর্শন সম্ভব নয়।
বাংলাদেশের সংবিধানে চিন্তা, বিবেক ও বাক-স্বাধীনতা নাগরিকের অন্যতম মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত। আমরা জানি তথ্যের অবাধ প্রবাহ এবং জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিত করার জন্যই তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ সংসদে পাস করানো হয়। গণমাধ্যমের অন্যতম কাজ হলো বিভিন্ন উৎস হতে সংবাদ সংগ্রহ করে জনগণকে সে তথ্য প্রদান করে তাদের তথ্য চাহিদা পূরণ করা।
কিন্তু এভাবে যদি শর্ত জুড়ে দেওয়া হয় তাহলে তথ্য প্রাপ্তির সহজলভ্যতা বিনষ্ট হয়, একই সাথে সাংবাদিকতার স্বাধীনতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অথচ দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনগণকে সচেতন করার জন্য দুর্নীতিসম্পর্কিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচারের মাধ্যমে আমাদের দেশের গণমাধ্যম সাহসী ভুমিকা পালন করে চলেছে। যা প্রশাসন ও জনগণের মধ্যে অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে।
এমন কিছু স্থান আছে যেখানে প্রবেশের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের পূর্বানুমতিরও প্রয়োজন হয়। যেমন জাতীয় সংসদ, সচিবালয় এমনকি কিছু কিছু আদালতের কক্ষে নিরঙ্কুশ প্রবেশের অধিকারও বিচারক নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। কিন্তু আমাদের জানামতে তিতাস সেসব নিয়মের মধ্যে পড়ে না।
১৪ মার্চ সোমবার একটি সংবাদের কিছু বিষয় জানার জন্য তিতাস অফিসে গেলে সেখানকার প্রধান ফটকে নিরাপত্তা রক্ষীরা জিজ্ঞাসা করেন কোথায় যাবেন? জবাবে জানাই, পত্রিকা অফিস থেকে এসেছি উপরে তিতাসের অফিসে যাব কিছু বিষয়ে জানার জন্য। সঙ্গে সঙ্গে প্রায় একসাথে সেখানে থাকা তিনজনই চেচিয়ে বলে উঠেন, সাংবাদিক! সাংবাদিকদের উপরে যাওয়া নিষেধ।
সাংবাদিকদের প্রবেশ নিষেধ কেন? জিজ্ঞেস করলে তারা জানায় যারা গ্রাহক তাদের এখানে রেজিস্টার খাতায় নাম ঠিকানা লিখে যেতে হয় কিন্তু সাংবাদিকদের ভেতরে যেতে নিষেধ করেছেন স্যারেরা। যদি যেতে হয় তাহলে কোন স্যারের কাছ থেকে আগে অনুমতি নিয়ে আসলে তারপর যেতে দেওয়া হবে।
পরে তাদের কোন্ স্যাারের অনুমতি নিলে যাওয়া যাবে, তার তার নাম্বার চাইলে তারা জানান, স্যারদের নাম্বার দেওয়া নিষেধ আছে। তখন সেখানে যে বয়স্ক লোকটি কথা বলছিল তাকে তার নাম জিজ্ঞেসে করলে সে এখানকার সিকিউরিটি ইনচার্জ পরিচয় দিয়ে নাম প্রকাশে অস্বীকৃতি জানায়। তার গায়ে সিকিউরিটির পোশাক না থাকায় তার নামও জানা যায়নি। তখন হয় তার নাম অথবা তাদের কোন স্যারের নাম্বার দিতে বললে খাতা বের করে একটি নাম্বার দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শরীফ উদ্দিন সবুজ বলেন, এটা একেবারেই হওয়া উচিৎ না। কারণ হলো বাংলাদেশ সরকারের বিধিমালা অনুযায়ী এই রকম নিয়ম থাকার কোন কারণ নাই। সরকার নির্ধারিত কিছু জায়গা ছাড়া রাষ্ট্রের যেকোন জায়গায় যাওয়ার অধিকার আছে। কিছু নিরাপত্তার কারণে সরকার কিছু জায়গা নির্ধারণ করে দিয়েছে।
আমাদের জানামতে তিতাস গ্যাস সেসব জায়গার মধ্যে পড়ে না। তথ্য আধিকার আইন অনুযায়ী সাংবাদিকরাতো তথ্য আদায়ের জন্য সেখানে যাবেই। সকল সাংবাদিকের কাছে কর্মকর্তাদের ফোন নাম্বার না-ও থাকতে পারে। তাই বলে কি তারা সেখানে যাবে না? তাই এ ধরণের নিয়ম থাকা একদমই অনুচিত। এ ধরণের কোন নিয়ম করে থাকলে আমি আহবান জানাবো সেটা যত দ্রুত সম্ভব প্রত্যাহার করতে। এটা সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক বলে আমি মনে করি।
এবিষয়ে জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আমির হুসাইন স্মিথ বলেন, এটা তাদের মন গড়া একটি নিয়ম। তাদের ভিতর যে ঘাপলা আছে এটাই তার প্রমাণ করে। তিতাস যে একটি দুর্নীতিগ্রস্থ প্রতিষ্ঠান তাদের এই আচরণই সেটাই প্রমাণ করে। তারা যদি স্বচ্ছ থাকতো তাদের কার্যক্রম যদি স্বচ্ছ হতো তাহলে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এধরণের নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হতো না।
তারা যে স্বচ্ছ না, তাদের কার্যক্রম যে স্বচ্ছ না এবং সর্ষের যে ভূত আছে গেটের মধ্যে আনসার দিয়ে সাংবাদিকদের আটকিয়ে রেখে উপর থেকে অনুমতি এনে ভিতরে প্রবেশ করতে দেওয়ার নিয়মটা তারই একটা বহিঃপ্রকাশ। আমরা নারায়ণগঞ্জ এর সাংবাদিক সমাজ মনে করি এ ধরণের একটি সরকারী প্রতিষ্ঠানে এ ধরণের নিষেধাজ্ঞা থাকা উচিৎ না।
এই বিষয়টা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে দেওয়া উচিৎ। তবে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক যেহেতু নারায়ণগঞ্জের প্রশাসনিক বিভাগের প্রধান তাই এ বিষয়টায় উনার নজর দেওয়া উচিৎ যেন তারা এই ধরণের কার্যকলাপ থেকে দূরে থাকে।
এই বিষয়ে কথা বলার জন্য তিতাস নারায়ণগঞ্জ-এর ওয়েবসাইটে দেওয়া দুইটি নাম্বারে (০১৯৩৯-৯২১১৬৭ এবং ০১৯৩৯-৯২১০৬৬) যোগাযোগ করলে প্রথম নাম্বারটি রিসিভ করা হলে পরিচয় দিয়ে তিতাসের যেই কর্মকর্তার নাম লেখা আছে
তা উল্লেখ করে তিতাসের নাম্বার কি না জানতে চাইলে এটা রং নাম্বার বলে জানান তিনি। অন্যটিতে রিং হলেও কেউ রিসিভ করেননি। এছাড়াও ০১৯৩৯-৯২১১১৩ নাম্বারে ফোন করলেও রিসিভ করেননি কেউ। এব্যাপারে জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি গ্রাহক পরিচয়ে তিতাস কার্যালয়ে প্রবেশ করার পরামর্শ দেন।


