সম্পত্তির লোভে মাকে হত্যার চেষ্টা করা কুলাঙ্গার ছেলে নিয়ে সোরগোল
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২২, ০৫:৩০ পিএম
সম্পত্তির লোভে নিজের মাকে হত্যা চেষ্টা করা কুলাঙ্গার ছেলে রাশেদুল হক চৌধুরীকে (৪১) নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ গ্রেফতারের পর সোরগোল বেধেছে। নারায়ণগঞ্জে আদালতে নিয়ে আসার পর নানাভাবে কুলাঙ্গার ছেলের জামিনে প্রভাবিত করার জন্য নানাভাবে চেষ্টা করছে নানা মহল। এদিকে ঔরোসজাত সন্তানের হাতে মারধরের শিকার হয়ে বাধ্য হয়ে মামলা দায়ের করা হতভাগ্য মা নাসিমা আক্তারকেও (৬৫) মামলা প্রত্যাহারের জন্য নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে।
নাসিমা আক্তার জানান, আমার স্বামী ২০১৯ সালের ১৩ জুলাই মৃত্যুবরণ করেছেন। মৃত্যুবরণ করার আগে আমিসহ সন্তানদের সকল কিছু ভাগবাটোয়ারা করে দিয়ে গেছেন। কিন্তু আমার পেটের ছেলে আমার নামে থাকা সম্পত্তি আত্মসাত করার জন্য জাল দলিল তৈরি করে সব নিজের নামে নেয়ার চেষ্টা করেছে।
আমি বাধা দেয়ায় সে আমার গায়ে হাত তুলেছে।এটা যে কত কষ্টের তা একজন মা শুধু বুঝতে পারে। আমার তো কেউ নাই। এমন সন্তান দিয়ে বাবা-মা কী করবে। আমি না পেরে মামলা করেছি, আমাকে এখন নানাজন দিয়ে ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করছে। আমি মায়ের উপর হাত তুললে, প্রতারণা করলে যে শাস্তি হয় সেই ন্যায়বিচারটা চাই।
শহরের বোটখাল খাল এলাকার মরহুম রিয়াজুল ইসলামের স্ত্রী নাসিমা আক্তার নিজের সন্তান রাশেদুল হক চৌধুরীর নামে মামলাটি দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর ছেলে রাশেদুল হক চৌধুরীকে (৪১) গ্রেফতার করেছে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ। মামলা সূত্রে জানা যায়, নাসিমা আক্তারের স্বামী রিয়াজুল ইসলাম ২০১৯ সালের ১৩ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন।
মৃত্যুবরণ করার আগে ২০০০ সালের ২৯ জুন হেবা দলিলের মাধ্যমে ৫ দশমিক ৪৯ অযুতাংশ জমি ও ৬ তলা ভবনের নিচতলার সম্পূর্ণ অংশ এবং তৃতীয় তলার ১৫৪০ ফুট ব্যতিত মোসা নাছিমা আক্তার, নাজমুল হক চৌধুরী রাজু, রাশেদুল হক চৌধুরী সাজু, মাহমুদা চৌধুরী রানি, রিজওয়ানা চৌধুরী নীলা এবং রোকছানা চৌধুরী ভাগ করে দিয়ে যান।
এরপর থেকে প্রত্যকে ২৯/০৬/২০১৯ তারিখের ২১১১ তাদের অংশে হেবা দলিল মূলে ২০১৯ সাল থেকে ভোগদখলে আছেন। কিন্তু রাশেদুল হক চৌধুরী ২৪/০৬/১৯৯৬ ইং তারিখে রেজিষ্ট্রেশন ১৭ নোটারী পাবলিক কার্যালয় নারায়ণগঞ্জের মৌখিক দানের ঘোষণাপত্র নামা একটি ভুয়া ও জাল দলিল প্রস্তুত করে জালিয়াতি করে মায়ের নামে থাকা ভবনের নিচতলার সম্পূর্ণ অংশ ৩০৮০ বর্গফুট এককভাবে আত্মসাত করার চেষ্টা করে।
গত ২৪/০২/২২ ইং তারিখে মা নাসিমা আক্তারকে ঘরের ভেতর আটকে ৬ তলা ভবনের নিচতলায় অজ্ঞাতনামা লোকজনকে নিয়ে ভাঙচুর করে ক্ষতিসাধন করে।এসময় নাসিমা আক্তার প্রতিবাদ করলে ছেলে রাশেদুল হক চৌধুরী মা নাসিমা আক্তারের চুলের মুঠি ধরে শরীরের বিভিন্নস্থানে কিল-ঘুষি মেরে নীলাফুলা জখম করেন, এছাড়া খামচি মেরে দুইহাতেও ক্ষত-বিক্ষতকরে টেনে হেচড়ে তিনতলার ঘরের ভেতর আটকে রাখে এবং গলাটিপে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করে।
এসময় তার চিৎকারে মানুষ আসলে ভবনের মেইন গেইটে তালা মেরে নিচ তলার দোকানের সাটার, ওয়াল লোহার হাতুরি দিয়ে ভাঙচুর করেন। আইনের আশ্রয় দিলে ইনজেকশন পুশ করে প্রাণনাশেরও হুমকি দেয় এছাড়া পাগল বানিয়ে পাবনা মানসিক হাসপাতালে পাঠানোর হুমকি দেয় ছেলে রাশেদুল হক চৌধুরী।
এর দুইদিন পর ২৬/২/২০২২ তারিখে নাসিমা আকতার ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। ছেলের এই অত্যাচারে মায়ের মামলা দায়েরে পর অভিযুক্ত ছেলে রাশেদুল হক চৌধুরীকে গ্রেফতার করে সদর মডেল থানা পুলিশ। সম্পত্তির লোভে মাকে হত্যার চেষ্টা করা কুলাঙ্গার সন্তান যেন কোনক্রমেই পার না পেয়ে যায় এমন দাবি করেছেন স্বজনরা। এই কুলাঙ্গার সন্তানকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় নিয়ে আসলে তা সামাজিকভাবে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।


