Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

শব্দ দূষণ এবং আমাদের কালচার

Icon

লতিফ রানা

প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২২, ০৫:০৩ পিএম

শব্দ দূষণ এবং আমাদের কালচার
Swapno

 # সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে : ডিসি

 

শব্দ দূষণ শব্দটির সাথে পরিচিতি নাই এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। সময় যত এগুচ্ছে তার সাথে পাল্লা দিয়ে পরিবর্তন হচ্ছে মানব সভ্যতার। একই সাথে মানুষের কাজকে সহজতর করাসহ মানুষের বিনোদনে ব্যবহার করা হচ্ছে অত্যাধুনিক এবং যান্ত্রিক প্রযুক্তি। এই যান্ত্রিক প্রযুক্তির ব্যবহার যত বাড়ছে ততই বাড়ছে শব্দের উৎপত্তি এবং ব্যবহার।

 

তাই মানুষের প্রযুক্তিগত উন্নতির সাথে সাথে যেসব মিলা-কারখানা, যানবাহন থেকে শুরু করে বাসায় ব্যবহৃত বৈদুত্যিক যন্ত্রপাতি বিভিন্ন খেলনাপাতি ও গৃহস্থালী যন্ত্রপাতি থেকেও উৎপত্তি হচ্ছে শব্দের। আর এই শব্দ এমন একটি শক্তি, যা মানুষের জন্য খুবই প্রয়োজনীয় আবার মানুষের ব্যাপক ক্ষতির জন্যও দায়ী এই শব্দ।

 

অতিরিক্ত শব্দ যা মানুষের জন্য ব্যাপক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায় তা-ই শব্দ দূষণ। এমন কিছু শব্দ আছে যা মানুষ ইচ্ছে করলেই নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে। এর মধ্যে যানবাহনের শব্দ এবং ডিজে পার্টির নামে উচ্চ শব্দের সাউন্ড সিস্টেম মানব জাতির জন্য মারাত্মক হুমকী হয়ে দাঁড়াতে পারে। অথচ আমরা রাস্তাঘাটে যানবাহন চালানোর সময় প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে হরেণ বা বাঁশি বাজাতে থাকি।

 

এর বেশিরভাগ সময়ই আমাদের যতক্ষণ বাজানোর দরকার তার চেয়ে অনেক বেশি সময় নিয়ে বাজাই, আবার যেখানে না বাজালেও চলে সেখানেও আমরা হরেণ বাজাই। আমরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে শুধুমাত্র আনন্দ করার জন্য উচ্চ শব্দে গান বাজানো সহ ডিজে পার্টি করি। এর ফলে সৃষ্ট শব্দ দূষণের কারণে আশে পাশের মানুষের রাতের ঘুম নষ্ট, লোখাপড়ার ক্ষতি, রোগীদের শারিরীক অবস্থার অবনতি এমনকি হার্ট এ্যাটাকের কারণে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

 

এত গেল তাৎক্ষণিক সমস্যা। অন্যদিকে এই শব্দ দূষণের কারণে মানুষের মাঝে দুশ্চিন্তা, উগ্রতা, মানসিক অবসাদ, উচ্চ রক্তচাপ, টিন্নিটাস, শ্রবণশক্তি হ্রাস, ঘুমের ব্যাঘাতসহ অন্যান্য দীর্ঘ মেয়াদী ক্ষতিকর ও বিরূপ প্রতিক্রিয়াও ঘটতে পারে। তাই মানব কল্যাণে এবং মানব জাতির ভবিষ্যত রক্ষায় শব্দ দূষণ এখনই নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারলে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বের এতে কোন সন্দেহ নেই।

 

শব্দ এমন একটি শক্তি যা কম্পনের (কাঁপনি) মাধ্যমে সৃষ্টি হয়। অর্থাৎ কোন বস্তুর কম্পন হলে তা থেকেই শব্দের সৃষ্টি হয়। আর প্রতি সেকেন্ডে এই কম্পন যত কম তত শব্দ তত গম্ভীর এবং কম্পন যত বেশি শব্দ তত চিকন ও তীক্ষè হয়। প্রতি সেকেন্ডে বস্তুটি কতবার কাঁপে তাকে তত হার্জ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। একটি বস্তু প্রতি সেকেন্ডে ১০০বা কাঁপলে তাকে ১০০হার্জ বলা হয়।

 

হার্জ হলো শব্দের একক। তবে সকল প্রাণীর শ্রবণ ক্ষমতা এক রকম নয়, তাই সকল কম্পাঙ্কের শব্দ সব প্রাণী শুনতে পায় না। একেক জাতের প্রাণীর শ্রবন শক্তি একেক রকম। মানব জাতির শ্রবন শক্তি হলো ২০ হার্জ থেকে ২০ হাজার হার্জ। তারমানে কোন বস্তু যদি প্রতি সেকেন্ডে ২০বার থেকে ২০ হাজার বার কাঁপে তাহলে মানুষ তা শুনতে পায়।

 

এর কম বা বেশি হলে মানুষ তা শুনতে পায় না। ২০ হাজার হার্জ এর বেশি মাত্রার শব্দ মানুষের মস্তিকের উপর প্রভাব পড়ে। ফলে মানুষ মানসিক এবং শারিরীক অসুস্থার সাথে সাথে তাৎক্ষণিক মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। অন্যদিকে এই শব্দটি কত জোরে হয় তার মাত্রাকে বলে ডেসিবল। মানুষ সর্বোচ্চ ১০৫ ডেসিবল শব্দের মাত্রা সহ্য করতে পারে।

 

যখন ডিজে পার্টিতে একাধিক বড় বড় বক্স বাজতে থাকে তখন খুব উচ্চ ডেসিবলের শব্দের উৎপত্তি হয়। আবার সড়কগুলোর ব্যস্ত এলাকায় অনেকগুলো গাড়ি যখন একসাথে হরেণ বাজাতে শুরু করে  তখনও খুব উচ্চ মাত্রা ডেসিবলের শব্দ তৈরি হয়। এর উদাহরণ হলো যখন একজন লোক কোন স্লোগান দেয় তখন যে মাত্রার শব্দ হয়, সেখানে যখন ১ হাজার লোক স্লোগান দেয় তার শব্দের মাত্রা কিন্তু এক রকম হয় না।

 

আমাদের দেশের সড়কগুলোতে এ্যাম্বুলেন্সগুলো যেভাবে হরেণ বাজিয়ে চলাচল করে তাতে শব্দ দূষণতো হচ্ছেই তাছাড়াও বেশিরভাগ এ্যাম্বুলেন্সই সাউন্ডপ্রুফ না হওয়ায় এর ভেতরে থাকা রোগীর যে কতটা ভোগান্তির শিকার হয় তা ধারণাও করা যায় না।
 
শব্দ দূষণের বিষয়ে এক সভায় জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মুহাম্মদ মুশিউর রহমান বলেন, একজন গর্ভবতি নারীর ক্ষেত্রে উচ্চমাত্রার শব্দ খুবই ভয়ঙ্কর  হতে পারে। মাত্রাতিরিক্ত সাউন্ড বা শব্দের কারণে বিকলাঙ্গ নবজাতকের জন্ম হতে পারে। আরো বিভিন্ন ক্ষতি রয়েছে। শব্দ দূষণে মানব দেহ এবং অন্যান্য প্রাণীদের ক্ষেত্রে মারাত্মক ক্ষতির কারণ বয়ে আনে। তাই সকলকে সচেতন হতে হবে। শব্দ দূষণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
 
শব্দ দূষণের বিষয়ে এক কর্মশালায় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. মঞ্জুরুল হাফিজ বলেন, আমাদের এখন অস্ত্র হয়ে গেছে মাইক (সাউন্স সিস্টেম)। কে কত জোরে বাজাতে পারি। বই মেলায় যান দেখবেন যে আওয়াজের ঠেলায় আপনার জীবন শেষ হয়ে যাবে। সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। আপনাকে সাধারণ মানুষের কাছে যেতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হবে। ড্রাইভারদের কাছে যেতে হবে। আইন শৃঙ্খলাবাহিনী আমরা যে যার অবস্থান থেকে কথা বলতে হবে।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন