# লঞ্চের দরজায় স্বামী স্ত্রী একসাথে হাত ধরে ছিলেন
# পানির ধাক্কায় তলিয়ে যায় স্ত্রী, বেঁচে ফিরেন স্বামী তাহের
# স্ত্রী’র অপেক্ষায় প্রখর রৌদ্রে পাগল প্রায় তাহের
আবারও লঞ্চ ডুবির ঘটনায় সর্বশেষ নিহত ৬জন। পানিতে লাফিয়ে প্রাণে বেঁচেছেন অনেকে। তবে শীতলক্ষ্যার পূর্ব পারে নির্বাক আবু তাহের। এক সাথে লঞ্চ থেকে নিচের কেবিন থেকে দরজা দিয়ে বের হতে চেয়েছিলেন দু’জন। তা স্ত্রীর হাত চেপে ধরে রেখেছিলেন তিনি। স্ত্রীও কোন অবস্থাতেই হাত ছাড়ছিলেন না তার।
যেন নিশ্চিত মৃত্যুর সময়ও দুজনে এক সাথে থাকার প্রতিজ্ঞায় আবদ্ধ। ঠিক যেন জ্যামস ক্যামেরুনের টাইটানিক গল্পের মতো। গল্পের শেষ প্রান্তে এসে যেমন নায়িকার হাত থেকে ফঁসকে পানিতে ডুবে যায় নায়ক। সাগরের অতলে তলিয়ে গিয়ে আলিঙ্গন করে মৃত্যুকে।
তেমনি সোনারগাও উইমেন্স কলেজের সহকারী অধ্যাপক আবু তাহের ও তার স্ত্রী আলীয় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা উম্মে খান ফাতেমা এক সঙ্গে মৃত্যু কিংবা জয় এই প্রত্যাশায় শক্ত করে পরস্পরের হাত ধরে ছিলেন। ঠিক তখনি চলন্ত জাহাজের পানির ধাক্কায় তাহেরের হাত থেকে স্ত্রীর হাত ফঁসকে ছুটে যায় মৃত্যুর অতলে তলিয়ে যান তিনি।
তাই তীব্র রোদ্রে স্ত্রীর অপেক্ষায় থাকা তাহেরের কাছ থেকে অনেকক্ষণ চেষ্টার পর তার মুখ থেকে কথা বের হয়। তবে সেটা বর্ণনা বললেও ভুল হবে, যেন দূর কোন অজানার উদ্দেশ্যে তিনি মুখস্ত বাক্য বা প্রলাপ করছেন। চোখে তাকালেই বুঝা যায়, কাঁদতে কাঁদতে তার চোখের পানিও ফুরিয়ে গেছে। চোখ ফুলে আছে। তারপরও তার মুখের বর্ণনা থেকে যা জানা গেল তা এরকম।
তিনি মো. আবু তাহের, সোনারগাও উইমেন্স কলেজের সহকারী অধ্যাপক, তার স্ত্রী আলীয় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা, নাম উম্মে খান ফাতেমা। দুপুর দুইটার সময় মুন্সিগঞ্জ যাওয়ার উদ্দেশ্যে এমএ আশরাফ নামক লঞ্চে যাত্র করেন।
সোয়া দুইটার সময় এখানে বড় একটি মালবাহী জাহাজ সেই লঞ্চটিকে ধাক্কা দেয়। তিনি বলেন, ধাক্কা দেওয়ার সাথে সাথে লঞ্চটি ডুবেনি। অনেকক্ষণ যাবত লঞ্চটিকে ধাক্কা দেওয়ার পরও তারা জাহাজটি থামায়নি কিংবা গতি কমায়নি।
তাই ধীরে ধীরে লঞ্চটি পানির নিচে তলিয়ে যায়। তিনি জানান, লঞ্চটি ডুবতে কম পক্ষে তিন থেকে চার মিনিট সময় লাগে। আমরা দরজা দিয়ে লঞ্চের বাহিরে বের হতে চাচ্ছিলাম কিন্তু খুব জোরে পানি ঢুকতে ছিল বলে আমরা পানির ধাক্কায় আমরা বের হতে পারিনি। তখন আমার স্ত্রী আমার হাতের মধ্যে ধরা ছিল। কিন্তু পানির প্রচন্ড চাপে সে আমার হাত থেকে ছুটে যায়।
এবং সে ভিতরের দিকে গিয়ে পানিতে তলিয়ে যায়। তার সাথে আমিও ভিতরে চলে গিয়েছিলাম এবং ডুবে গিয়েছিলাম, পরে সাঁতার কেটে নৌকায় উঠে প্রাণে বেঁচে যাই।
উল্লেখ্য গতকাল রোববার দুপুর সোয়া দুইটার দিকে নারায়ণগঞ্জ থেকে মুন্সীগঞ্জ যাওয়ার পথে কয়লার ঘাটের কাছাকাছি নির্মানাধীন ৩য় শীতলক্ষ্যা সেতু থেকে প্রায় ৩০০ গজ উত্তরে লাইটার জাহাজ এমভি রূপসি-৯ এর ধাক্কায় এমএল আফছার উদ্দিন নামক এই লঞ্চ ডুবির ঘটনাটি ঘটে।
এই ঘটনায় সর্বশেষ ৬ জনের মৃতদেহ পাওয়া গেছে এবং নিখোঁজ আছে প্রায় ২০ জনের। এর আগে প্রায় একই জায়গায় এবং একইভাবে গত বছরের ৪ এপ্রিল একটি লঞ্চ দুর্ঘটনায় ৩৪জনের প্রাণ হানি ঘটে।


