Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

বেড়াতে এসে বাড়ি ফেরা হলোনা স্মৃতি ও আরোহীর

Icon

লতিফ রানা

প্রকাশ: ২২ মার্চ ২০২২, ০৪:৪১ পিএম

বেড়াতে এসে বাড়ি ফেরা হলোনা স্মৃতি ও আরোহীর
Swapno

# আরোহীর চোখের দুষ্ট ও চঞ্চল চাহনী খুব সহজেই যে কারও মন ছুঁয়ে যাবে

 

শুক্রবার মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া থেকে বন্দরের একমরামপুর এলাকায় মাসির (খালা) বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল জয় বর্মনের মেয়ে স্মৃতি ও আরোহী। এর মধ্যে স্মৃতি এইচএসসি সেকেন্ড ইয়ারের শিক্ষার্থী এবং তার বয়স ১৯। অন্যদিকে আরোহী এখনও খুব ছোট, বয়স মাত্র সাড়ে তিন। রোববার আফসারউদ্দিন লঞ্চের মাধ্যমে তারা দুই বোনও বাড়ি ফিরতে চেয়েছিলেন।

 

তবে তাদের আর বাড়ি ফেরা হয়নি। রোববার লঞ্চ ডুবির সাথে সাথে তারাও পানিতে তলিয়ে যান। ঐ দিন লঞ্চের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় বড় বোন স্মৃতির মরদেহ। অন্যদিকে এখনও হদিস মিলেনি চঞ্চল শিশু আরোহীর। স্বজনরা তার খোঁজে এখনও বিলাপ করছে লক্ষ্যার (শীতলক্ষ্যার) তীরে। মামা রিপন মোবাইলে তাদের ছবি নিয়ে ঘুরছেন।

 

মোবাইলের ছবিতে আরোহীর চোখের দুষ্ট ও চঞ্চল চাহনী খুব সহজেই যে কারও মন ছুঁয়ে যাবে। এই খবরের পর তাদের পিতা-মাতা এখানে আসার মতো অবস্থায় নেই। পাগলের মতো ছুটে এসেছেন জেঠা মনা মিয়া, মাসি শিপ্রা ও মামা রিপন।

 

রিপন জানান, তার দুই ভাগ্নি স্মৃতি ও আরোহী শুক্রবার মাসির বাসায় বেড়াতে আসে। রোববার দুপুর ২টার লঞ্চে তারা বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলে এই দুর্ঘটনার শিকার হন। খবর পেয়েই তারা ছুটে এসেছেন।

 

গতকাল স্মৃতির মরদেহ পেলেও এখনও কোন সন্ধান মিলেনি আরোহীর। তাই নদীর তীরে অপেক্ষা করছেন। যদি কোন মরদেহ আনা হয় তখনই ছুটে যাচ্ছেন তা আরোহীর কি না দেখার জন্য। তিনি বলেন এর মতো আর কষ্ট কি থাকতে পারে! আমরা এখনও অপেক্ষা করছি তার কোন খোঁজ পাই কি না।

 

আরোহী ও স্মৃতির মাসি বন্দরের একরামপুরের বাসিন্দা শিপ্রা জানান, মুন্সীগঞ্জ থেকে তার বোনের দুই মেয়ে স্মৃতি ও আরোহী গত শুক্রবার তার বাসায় বেড়াতে আসে। এর মধ্যে স্মৃতির বয়স ১৯ এবং ছোট বোন আরোহীর বয়স প্রায় সাড়ে তিন। পরের দিন শনিবার তারা বাড়ি ফিরতে চেয়েছিল। কিন্তু শিপ্রা তাদের যেতে দেননি। এসময় শিশু আরোহী বলেছিল থাকবো কিভাবে তুমি তো কাজে চলে যাও, বাসায় থাকো না।

 

শিপ্রা বলেছিলেন আজ আমি কাজের যাব না, তাই রাজি হয়ে তারা দুই বোন থেকে যায়। পরেরদিন রোববার মুন্সীগঞ্জে নিজ বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তারা লঞ্চে উঠে এবং লঞ্চ ডুবির সাথে সাথে তারাও পানিতে তলিয়ে যায়।

 

আরোহী ও স্মৃতির বড় চাচা (জেঠা) মনা জানান, আমরা যখন জানতে পারি আমাদের দুই মেয়ে এই লঞ্চে ছিল তখন রোববারই আমরা ছুটে এসে শুনি এখানে এই বয়সের একটি মরদেহ পাওয়া গেছে কিন্তু তা ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমরা সেখানে ছুটে গিয়ে স্মৃতির মরদেহ শনাক্ত করি। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমার আরোহী মায়ের কোন সন্ধান পাইতেছি না। এ কথা বলার সাথে সাথে তারা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

 

উল্লেখ্য, রোববার ২০ মার্চ দুপুর সোয়া ২টার দিকে ৩য় শীতলক্ষ্যা সেতুর প্রায় ৪০০গজ উত্তরে নারায়ণগঞ্জ থেকে মুন্সীগঞ্জ যাওয়ার সময় আফসারউদ্দিন নামক একটি লঞ্চকে পেছন থেকে এমভি রূপসী-৯ নামের এক লাইটার জাহাজ ধাক্কা দিলে লঞ্চটি পানিতে তলিয়ে যায়। এ সময় লঞ্চটিতে থাকা যাত্রীদের অনেকেই পানিতে লাফিয়ে জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করেন।

 

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নারী ও শিশুসহ ৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে গত বছর ৪ এপ্রিল প্রায় একই জায়গায় একটি কার্গো জাহাজের সাবিত আল হাসান নামের একটি লঞ্চ ডুবির ঘটনায় ৩৪ জনের প্রাণ হানি ঘটে।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন