# বন্ধুদের সাথে ঘুরতে গিয়ে না ফিরে আসায় অপেক্ষায় স্বজনরা
কম্পিউটারের কাজ করেন আবদুল্লাহ আল যাবের। থাকেন ডেমরার বাঘমারা এলাকায়। ঠিক করলেন বন্ধুদের নিয়ে লঞ্চ ভ্রমনে বের হবেন রোববার। যেই ভাবা সেই কাজ। চারবন্ধু মিলে লঞ্চ ভ্রমনের উদ্দেশ্যে নারায়ণগঞ্জ থেকে মুন্সীগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন আবদুল্লাহ আল যাবের। সেই ভ্রমনই কাল হলো যাবেরের। রোববার দুপুর ২টার ‘আফসার উদ্দিন’ নামক একটি লঞ্চে মুন্সীগঞ্জ যাওয়ার উদ্দেশ্যে নারায়ণগঞ্জ টার্মিনাল থেকে রওয়ানা দেয়।
কিন্তু ভাগ্য যে তাদের সুপ্রসন্ন ছিল না। টার্মিনাল ছেড়ে যাওয়ার প্রায় ১৫ মিনিট পরেই রূপসী-৯ নামের এক লাইটার জাহাজের ধাক্কায় প্রায় অর্ধশত যাত্রী নিয়ে পানিতে তলিয়ে যায় লঞ্চটি। সে সময় যাবেরে সাথে থাকা তিন বন্ধু পানিতে লাফিয়ে উদ্ধার নৌকার মাধ্যমে প্রাণে রক্ষা পেলেও সন্ধান মিলেনি যাবেরের।
এ সময় যাবেরের বাবার সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি জানান, আমি খুবই অশ্বস্তিতে আছি। তাই কথা বলার মতো অবস্থায় আমি নাই। সন্তানের ফিরে না পাওয়া, তার কোন সন্ধান না জানা এবং তার খোঁজের অপেক্ষা করাটা যে কতটা কষ্টের তা ই ফুটে উঠে যাবেরের বাবার কথায়।
রোববার সেই খবর পাওয়ার পর থেকেই এখানে যাবেরের সন্ধানে অপেক্ষা করছেন তার পিতা, শ্বশুর ও মামাসহ স্বজনরা। কোন সন্ধান না পাওয়ায় সোমবার সকাল থেকেই সৈয়দ পুরের আলআমিন নগরের নদীর পার অপেক্ষা করছিলেন তারা। এ সময় যাবেরের শ্বশুর জানান, যাবের তার মেয়ের স্বামী হন। রোববার তিন বন্ধুর সাথে মুন্সীগঞ্জের উদ্দেশ্যে এই লঞ্চে উঠেন তিনি।
যখন লঞ্চটি পানিতে তলিয়ে যায় তখন তার তিন বন্ধু সাঁতরিয়ে বেঁচে ফিরেন। তখন তারা খবর জানালে অন্যান্য স্বজনরা এখানে ছুটে আসেন। তিনি জানান, যাবেরের বাবার নাম আব্দুল ওয়াদুদ সিদ্দিকী। তাদের দেশের বাড়ি চাঁদপুর জেলায়। সে ডেমরার বাঘমারা এলাকায় থাকে। তিন ভাই এক বোনের মধ্যে সবার বড় যাবের। যাবেরের পিতা, শ্বশুর ও মামাসহ এখানে তারা স্বজনেরা উপস্থিত আছেন যদি যাবেরের কোন সন্ধান পাওয়া যায় সেই আশায়।
রোববার দুপুর সোয়া ২টার দিকে ৩য় শীতলক্ষ্যা সেতুর প্রায় ৪০০গজ উত্তরে নারায়ণগঞ্জ থেকে মুন্সীগঞ্জ যাওয়ার সময় আফসারউদ্দিন নামক একটি লঞ্চকে পেছন থেকে এমভি রূপসী-৯ নামের এক লাইটার জাহাজ ধাক্কা দিলে লঞ্চটি পানিতে তলিয়ে যায়। এ ঘটনায় সর্বশেষ ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে অবশেষে মঙ্গলবার তিনদিন পরে শীতলক্ষ্যায় ভেসে উঠলেন জাবেরের লাশ।


