Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

এত কষ্ট সইবো কি করে!

Icon

লতিফ রানা

প্রকাশ: ২৩ মার্চ ২০২২, ০৪:৪৪ পিএম

এত কষ্ট সইবো কি করে!
Swapno

রোববার শীতলক্ষ্যা নদীতে লঞ্চ ডুবি ঘটনার পর রাত সাড়ে ৭টার দিকে যখন মোট ছয়টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়, তখন নারায়ণগঞ্জ শহরের নিকটবর্তী স্থান সৈয়দপুরের আলামিন নগর এবং বন্দরের মদনগঞ্জ ও এর আশে পাশের এলাকার আকাশ বাতাস ভারি হয়ে উঠে। সেখানে নিখোঁজদের খোঁজে আসা স্বজনদের আহাজারীতে এবং যাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে তাদের শনাক্ত করার সময় স্বজনদের আহাজারীতে অশ্রু জলে সিক্ত হয়েছেন উপস্থিত হাজারো মানুষ।

 

সেদিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে লঞ্চটিকে উদ্ধারের কাজ শুরু হলে সোমবার সকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে লঞ্চটি উত্তোলন করার পর নদীর পশ্চিম কিনারায় নিয়ে আসা হয়। সেখানে তথ্য সংগ্রহ করার সময় দেখা গেল এক খুবই সাধারণ দৃশ্য, কিন্তু দৃশ্যটি হৃদয়ে দাগ কেটে গেল। দুর্ঘটনায় ক্ষতবিক্ষত লঞ্চের পাশে রাখা আছে বেশ কয়েকটি পলিথিনের পুটলি।

 

যেগুলোর প্রতিটি আলাদা পুটলির মধ্যে রয়েছে বিস্কুট, বাদাম, চিনি, পাইরুটি, চিড়া, ময়দাসহ আরও বেশ কয়েক প্রকারের বাচ্চাদের খাবার আইটেম। হয়তো কারও বাচ্চা বায়না করে বড় একটা ফর্দ উল্লেখ করে বলেছিল বাড়ি আসার সময় এগুলো নিয়ে আসতে। কিন্তু ভাগ্যে যেখানে তার প্রাণ নিয়ে বাড়িতে ফেরার সুযোগ নেই, সেখানে সে কিভাবে এগুলো নিয়ে পৌছবে। বাড়ির লোকদের ভাগ্যে যেখানে এসব খাবার পাওয়ার অধিকার নাই সেখানে কি করে পৌছবে সেই খাবার।

 

হয়তো অনেক কষ্টে অনেক পরিশ্রমের টাকা দিয়ে অনেক আদর অনেক ভালবাসা মিশিয়ে কেনা হয়েছিল এই খাবার। বাড়িতে তার প্রিয় মুখগুলোর জন্য। এখন সেগুলো পড়ে আছে ভাঙ্গা লঞ্চের পাশে একটি কলঙ্কিত বিষাদময় আর্তনাদের সাক্ষী হয়ে। তারই পাশে পড়ে আছে একটি সোলেমানী তাবিজের কেতাব, সাথে নাম জানা আরও একটি কেতাব, তারই পাশে রক্তে ভেজা একটি পলিথিন।

 

এগুলোর বাহক কিংবা প্রকৃত মালিক কে তা খুঁজে বের করার সাধ্য আছে কার। এগুলো কি ইশ্বরের কোন কারসাজি নাকি মানুষ নামক পৃথিবীর সর্বোৎকৃষ্ট প্রাণীর সর্বনিকৃষ্ট কর্ম তা বিচার থাকবে শুধু অদৃষ্টের কাছে। যেখানে কলেজ পড়ুয়া স্মৃতির লাশ ফেরত পাওয়ার পর তার ছোট্ট আদরের বোন আরোহী নামের চঞ্চল চাহনীর সাড়ে তিন বছরের এক মেয়ের ছবি মোবাইলে বের করে তার অন্তত মৃত দেহটার সন্ধানে ঘুরে বেড়ায় তার মামা, মাসি, জেঠু।

 

তাদের চিৎকার আর্তনাদে যেখানে অচেনা মানুষের আজানা মানুষের চোখে জল চলে আসে। সেখানে আরোহীর পরিবার কিভাবে সারাটা জীবন এই কষ্টের ভার সইবে। ১৫ মাসের শিশু সাফায়েত, ৭ বছরের শিশু ফাতেমা, জাবের, আরিফা, সালমাসহ এত এত লাশ যাদের স্বাভাবিক মৃত্যুর কথা থাকলেও বঞ্চিত করা হয়েছে তাদের পরিবার কিভাবে শোক সহ্য করবে! যেই ঘটনা থেকে ফিরে এসেও সেই দৃশ্যের বোঝা সইতে না পেরে যেখানে জীবন ত্যাগ করেন জয়নালের মতো লোক। সেই ঘটনার স্মৃতি শুধু ভুক্তভোগীদের নয়, পুরো নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ তথা বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের বিবেককে তাড়িয়ে বেড়াবে বহুদিন।

 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন