Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

নীট কনসার্নকে ছাড় দিয়ে উচ্ছেদ পরিকল্পনার অভিযোগ

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৩ মার্চ ২০২২, ০৫:৩৩ পিএম

নীট কনসার্নকে ছাড় দিয়ে উচ্ছেদ পরিকল্পনার অভিযোগ
Swapno

নারায়ণগঞ্জের উত্তর চাষাঢ়া থেকে হাজীগঞ্জ হয়ে আদমজী পর্যন্ত দুই লেনের ৬ দশমিক ২ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে প্রতিবন্ধক হিসেবে রয়েছে শিল্প কারখানাসহ অবৈধ কিছু স্থাপনা। এদিকে কাঁচা-পাকা দোকানপাটসহ ছোট-খাটো স্থাপনা উচ্ছেদে প্রস্তুতি নিলেও বৃহৎ দু’টি শিল্প প্রতিষ্ঠানকে ছাড় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে শুরু করে রেলমন্ত্রী, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, স্থানীয় এমপি ও মেয়রের কাছে চিঠি দিয়েছেন স্থানীয়রা।

 

তবে কোন সুরাহা হয়নি বলে দাবি তাদের। জানা যায়, ২০১৯ সালের ২২ অক্টোবর এই সড়ক নির্মাণের প্রকল্প একনেকে পাশ হয়। প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ১১৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা। রেলওয়ের জমির উপর এই সড়ক নির্মাণ করবে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। এজন্য প্রতীকি এক লাখ টাকা মূল্যে জমিও হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে এই প্রকল্পের বাধা হিসেবে বেশ কিছু স্থাপনা।

 

তার মধ্যে রয়েছে পাঠানটুলি এলাকার নীট কনসার্ন গ্রুপ নামে বৃহৎ একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের কিছু স্থাপনা। স্থানীয় লোকজনেরও কিছু স্থাপনা এই সড়ক প্রকল্পের জমির উপর রয়েছে। নকশা অনুযায়ী সড়কের কাজ করলে স্থানীয় স্থাপনার পাশাপাশি নীট কনসার্নের বাউন্ডারি দেওয়ালসহ কিছু অংশ ভাঙা পড়বে। তবে দেওয়াল ও স্থাপনা রক্ষা করতে সড়ক বাঁকা করে নতুন নকশা করার পরিকল্পনা চলছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

 

এই বিষয়ে বিভিন্ন দপ্তরে দেওয়া লিখিত অভিযোগে পাঠানটুলি পঞ্চায়েত কমিটির লোকজন বলছেন, সওজ ও রেলওয়ে পাঠানটুলি বাজার থেকে উত্তর দিকে রসুলবাগ পর্যন্ত পূর্ব পাশ দিয়ে নকশা অনুযায়ী মাটি ভরাট কাজ না করে হঠাৎ অশুভ চক্রের মদদে পশ্চিম পাশ দিয়ে রাস্তা করার পায়তারা করা হচ্ছে। এর আগে একাধিকবার সীমানা নির্ধারণ করেছেন সওজ ও রেলওয়ের সার্ভেয়াররা।

 

তখন পাঠানটুলি পঞ্চায়েত কমিটির কার্যালয় থেকে রসুলবাগ পর্যন্ত পূর্ব পাশে ৮৮ ফুট থেকে ২৩০ ফুট পর্যন্ত রেলওয়ের জমি রয়েছে। তবে সেই দিকে রাস্তা না করে দিক পরিবর্তন করে পশ্চিম দিকে স্থানীয় লোকজনের ব্যক্তিগত জমির উপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এই বিষয়ে কথা বলতে নীট কনসার্নের পরিচালক জাহাঙ্গীর মোল্লার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

 

স্থানীয়রা জানান, পশ্চিম পাশে রেলওয়ের ২৭ ফুট জমি রয়েছে। সেই জমির ২০ ফুটে ইতোমধ্যে রাস্তা ও ড্রেন করেছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। বাকি অংশে পানি, গ্যাসের লাইন ও বিদ্যুতের খুঁটি রয়েছে। পূর্ব পাশের জমি ছেড়ে পশ্চিম পাশে রাস্তা অগ্রসর করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন স্থানীয় এলাকাবাসী। কেননা সেক্ষেত্রে ব্যক্তিগত জমিও চলে যাবে রাস্তার মধ্যে।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, হাজীগঞ্জ মসজিদের পাশে ভেকু বসানো আছে। কাজ করছেন নির্মাণ শ্রমিকরা। পাঠানটুলি বাজার পর্যন্ত বালু ভরাট করা হয়েছে। এরপরই নীট কনসার্নের বাউন্ডারি দেওয়াল ও স্থাপনা। তবে সেইসব জায়গা বালু ভরাট করা হয়নি। এই জায়গা দিয়েই রাস্তা বাঁকানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।


এই বিষয়ে কথা হলে পাঠানটুলি পঞ্চায়েত কমিটির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল লতিফ ও সহসাংগঠনিক সম্পাদক নূর হোসেন বলেন, রাস্তার সুবিধার্থে জমি ছাড়তে তাদের কোন অসুবিধা নেই। প্রয়োজনে ব্যক্তিগত জমিও অধিগ্রহণের জন্য দিতে তারা প্রস্তুত। তবে পশ্চিম পাশে ২৩০ ফুটের মতো জমি ছেড়ে ব্যক্তিগত জমিতে রাস্তা নির্মাণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তারা।

 

এদিকে জানা গেছে, বুধবার (২৩ মার্চ) সকাল থেকে রাস্তার জন্য জমি উদ্ধারে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করবে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। তবে এলাকাবাসীর দাবি, উচ্ছেদ কার্যক্রম যেন নীতিগতভাবে সম্পন্ন হয়। কাউকে অবৈধ সুবিধা যেন দেওয়া না হয়।


এই বিষয়ে কথা বলতে দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ে গিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীকে পাওয়া যায়নি। অন্য কর্মকর্তারা এই বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তারা বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলী এই বিষয়ে মন্তব্য করবেন। তবে বুধবার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন এক কর্মকর্তা।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন