Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

চিহ্নিত রাজাকার গোলাম রব্বানী মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন!

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২২, ০৫:২৯ পিএম

চিহ্নিত রাজাকার গোলাম রব্বানী মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন!
Swapno

# জেলা প্রশাসকের কাছে সুবিধাভোগী মুক্তিযোদ্ধাদের প্রত্যয়নপত্র প্রদান
# খালেদ হায়দার খান কাজল রাজাকার পুত্র নন

 

অগ্নিঝরা মার্চে এক কুখ্যাত ঘটনার স্বাক্ষী হল নারায়ণগঞ্জ। প্রতিষ্ঠিত ইতিহাস বদলে ফেলার এক নির্লজ্জ প্রয়াস যেন কালো কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকে দিয়েছে। এনিয়ে তুমুল সমালোচনায় ভারী হয়ে উঠেছে নারায়ণগঞ্জের বাতাস।মুক্তিযুদ্ধকালীন চিহ্নিত রাজাকার গোলাম রব্বানী খান শান্তি কমিটির কেউ নয়, রাজাকার ছিলেন না।

 

বরং ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরুর প্রাক্কালে মুক্তিযুদ্ধের সহায়ক শক্তি ছিলেন। নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবের অস্ত্রাগারের চাবি বীর মুক্তিযোদ্ধা খবির আহম্মেদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিউদ্দিন সারোয়ার ওরফে বাবু সারোয়ারের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ থেকে বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) বিকালে এমন তথ্যের প্রত্যয়ণপত্র দেওয়া হয় জেলা প্রশাসনে।

 

জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে প্রত্যায়নপত্র গ্রহণ করেন স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক (উপসচিব) ফাতেমা তুল জান্নাত। এ সময় সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী, সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা সামিউল্লাহ মিলন, জেলার ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট নুরুল হুদা, সদ্য সাবেক নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান ভূইয়া জুলহাস, বীর মুক্তিযোদ্ধা খবির আহমেদ,

 

বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী আবদুল মমিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট তারাজ উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহর আলী চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা রমিজ উদ্দিন রমুসহ অন্যান্য বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ উপস্থিত ছিলেন। প্রত্যয়ণপত্রে আরও বলা হয়, গোলাম রব্বানী খান আদৌ স্বাধীনতা বিরোধী কোন কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না। তিনি মুসলিম লীগের একজন নেতা ছিলেন।

 

এবং গোলাম রব্বানী খানের পিতা মরহুম আবদুস সামাদ খান ১৯৫৪ সালে বঙ্গীয় আইন পরিষদ নির্বাচনে ‘যুক্তফ্রন্টের’র মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে রূপগঞ্জ আসনে বিপুল ভোটে এমএলএ নির্বাচিত হয়েছিলো। গোলাম রব্বানী খান কলেজ রোড এলাকার মরহুম আবদুল সামাদ খানের ছেলে ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অফ কমার্সের সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল’র পিতা।

 

সাম্প্রতিক সময়ে গোলাম রব্বানী খানকে রাজাকার আখ্যা দিয়ে নানা ভাবে প্রচার করছিলেন একটি মহল। এর প্রেক্ষিতে ২০২১ সালে ১৬ মার্চ খালেদ হায়দার কাজল মুক্তিযোদ্ধা সংসদের হস্তক্ষেপ কামনা করে একটি লিখিত আবেদন করেন।

 

এরপর সেই বছরের ২৪ মার্চ বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে বিশাদ আলোচনা ও রাজাকারের তালিকা, বিভিন্ন প্রকাশিত বই পর্যালোচনা করে প্রমান পান ‘গোলাম রব্বানী খান স্বাধীনতা বিরোধী ছিলো না’।

 

প্রত্যায়নপত্রে আরো বলা হয়, ‘মুনতাসীর মামুনে’র রচিত ‘শান্তি কমিটি-১৯৭১’ বইয়ে নির্দিষ্ট কোন তথ্যাদি বা প্রমাণাদী ছাড়াই মরহুম গোলাম রব্বানী খানকে শান্তি কমিটির সদস্য উল্লেখ করেন।

 

এদিকে সুবিধাভোগী মুক্তিযোদ্ধাদের এমন আচরণে ব্যাপক সমালোচনা-আলোচনা তৈরি হয়েছে। সুধীজনের প্রশ্ন, জীবন সায়াহ্নে এসে কী কী সুবিধা নিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা এমন চিহ্নিত রাজাকারকে তাদের দলে অন্তর্ভূক্ত করতে দ্বিধাবোধ করলেননা। 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন