তিতাস গ্যাসকে আমরা পাকিস্তানি আর্মিদের মতো ভয় পাই
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২২, ০৫:৫০ পিএম
# তিতাস কাজ করে তার ইচ্ছামাফিক
কারখানায় তিতাসের গ্যাস লাইন কেটে দেওয়ার পর তিতাস কর্মকর্তাদের ব্যবহার ও আচরণের অতিষ্ঠ হয়ে এবং বেশ কয়েকদিনের চেষ্টার পরও ডিএমডি’র রুমে প্রবেশ করার অনুমতি না পেয়ে, দেখা করতে না পেরে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য সানোয়ার হোসেন তার অভিযোগ বলার শুরুতে বলেন, আমি কি এখানে সব কথা বলতে পারব? যদি নির্ভয়ে বলার অনুমতি দেন তাহলে আমি বলব।
তার কিছু রাজনৈতিক পরিচয় উল্লেখ করে তিনি বলেন এখানে আমি সেই পরিচয়ে কথা বলতে চাই না। আমি বন্দরের বাসিন্দা, বঙ্গবন্ধু মারা যাওয়ার পর আমি বন্দরে যেতে না পেরে সিদ্ধিরগঞ্জে বাসস্থান করি।
৪৬ বছর যাবত সেখানেই ব্যবসা বাণিজ্য করতেছি। ১৯৭১-এ যখন আমরা ঘর থেকে বের হই তখন সমস্ত জিনিসপত্র নিয়ে বাড়িঘর ত্যাগ করে এলাকা ছাড়ি। আমি তখন যেমন ভয় পেয়েছিলাম, এখন তিতাস গ্যাসকে আমরা সেই পাকিস্তানি আর্মিদের মতো ভয় পাই।
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিষ্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেড এর আঞ্চলিক বিপনন ডিভিশন নারায়ণগঞ্জ এর গণশুনানী অনুষ্ঠানে নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা বলতে এসব কথা বলেন তিনি।
এ সময় তিনি আরও বলেন, আমি ছোট একটা ব্যবসা করি। আমাকে না জানিয়ে, না বুঝে, কোন ইনফরমেশন না দিয়ে আমার গ্যাস লাইনটা কেটে দিল। তখন আমি কার কাছে যাব। সেখানকার সবাই বললো আপনি অফিসে যান। এই মুনির সাহেব (জিএম মুনির হোসেন খান) আমার জুনিয়র ফ্রেন্ড ঢাকা ভার্সিটির, ওনার কাছে গিয়েছিলাম এমডি সাহেবের সাথে দেখা করার জন্য।
সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বসে থেকেও ডিএমডি সাহেবের সাথে দেখা করতে পারি নাই। আমরা মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোক। এদেশে শিল্প বাণিজ্যের ব্যবস্থা আমরা করি, আমার এখানে প্রায় দুই হাজার শ্রমিক। আমি সেখানে দাঁড়িয়ে চিৎকার করেছি, আমার গ্যাসের লাইন দেয়া হোক, কিন্তু আমাকে প্রবেশ করতে দেখা করতে দেয়া হয়নি।
এই বিষয়ে তিনি মুনীর হোসেন খানকে সাক্ষী মেনে বলেন, আপনারা এখানে মিটিংয়ে বসলে অনেকে অনেক কথা বলেন। তিনি বলেন, আপনারা বলেছেন গ্যাস সরবরাহ নিরবিচ্ছিন্ন রাখতে বকেয়া বিল পরিশোধ করুন। আমি কি নিরবিচ্ছিন্ন লাইন পাচ্ছি? আমি ৮ কোটি ২২ লাখ টাকা তিতাসকে দিয়েছি। তিতাস কি আমাকে গ্যাস সরবরাহ করার জন্য সে ব্যবস্থা করেছেন?
কিন্তু আমি শ্রমিকের বেতন দিব কি করে! সামনে রোজা, এরপর ঈদ, আমি শ্রমিকদের বেতন কোথা হতে দিব। তিনি দাবি জানিয়ে বলেন, এখানে এমডি সাহেব বলে যাবেন আমাদের সেখানে প্রবেশ করতে কোন ধরণের ছিলিপ লাগবে, তা জানিয়ে যাবেন। আমরা সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত অপেক্ষা করব তারপরও প্রবেশ করতে পারবো না, আমরা এই দেশ কি এইজন্যই স্বাধীন করেছিলাম।
আমরা চোখের পানি কি এখনও ফেলবো। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন গণপ্রজান্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। আমরা আদর করে বলব বাংলাদেশ। আমাদের মুখে কি সেই আদর আছে? তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন আমরা কি আপনাদের কাছ থেকে অনেক ছোট? আমাদের মানুষ ভাবেন! আমার যে চোখের পানি, আমি তিতাসের অফিসে চিৎকার করেছি কেন আমার গ্যাস লাইন কেটে দেওয়া হলো? আমি আপনাদের শ্রদ্ধা জানাই।
মুনীর ভাই আমার জুনিয়র অথচ উনার কাছে ৪বার গিয়েছি। এ সময় তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। আপনারা কিসের বলেন অনলাইন, অনলাইন, কোন লাইন ই তো কাজ হয় না। তিনি বলেন, আমি যা বলতে পারবো নারায়ণগঞ্জ শহরের লোকেরা সেটা বলতে পারবে না, তারা ভয় পাবে। আমার বকেয় থাকলে আমাকে জানান, চিঠি দেন, সংযোগ না কেটে (সরবরাহ) বন্ধ করে দেন।
আমরা আগে লুঙ্গি পড়তাম, এখন পেন্ট পড়ি, আমরা নাকি সভ্য দেশে চলে গেছি। কোথায় আমাদের সভ্যতা, আমরা কি এতই অধম! আমি কেন রাস্তা দাঁড়িয়ে চিৎকার করব। আমি ৮ কোটি ২০ লাখ টাকা দিয়েও কেন আমার এখানে আজ গ্যাস লাইন নাই। আপনারা ব্যবস্থা করেন। আপনাদেরকে অনেক শ্রদ্ধা, অনেক ভক্তি, অনেক ভালবাসা অনেক প্রেম প্রীতি। আপনাদের কাছে আবেগের তাড়নায়, পেটের তাড়নায় আজকে এসব কথা বলছি।


