Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে না.গঞ্জ রুটে বিকল্প সি-ট্রাক সেবা চালু

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২২, ০৭:২০ পিএম

যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে না.গঞ্জ রুটে বিকল্প সি-ট্রাক সেবা চালু
Swapno

শীতলক্ষ্যা নদীতে লঞ্চ ডুবির পর তিনদিন না.গঞ্জ মুন্সিগঞ্জ রুটে নৌযান বন্ধ থাকার পর যাত্রীদের বিড়ম্বনার কথা বিবেচনা করে লঞ্চের পরিবর্তে সি-ট্রাক যাত্রী সেবা চালু করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) দুপুর সোয়া ২ টায় নারায়ণগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল থেকে নারায়ণগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জ নৌপথে 'এসটি শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত' নামে সি-ট্রাক প্রথন মুন্সিগঞ্জে যাত্রা করে আবার বিকেলে ফিরে আসে।

 

প্রথম যাত্রায় সি ট্রাকের যাত্রী ছিলেন ৩০ জন। ছোট লঞ্চের পরিবর্তে সি-ট্রাক চালু হওয়ায় যাত্রীরা খুশি। তারা বলেন, আমরা নিরাপদে যেতে চাই। সেখানে সি-ট্রাক নিরাপদ। সি ট্রাকের ক্যাপ্টেন (চালক ইনচার্জ) নূর হোসেন সুমন জানান, বিআইডব্লিউটিসি'র নির্দেশে এ পথে সি-ট্রাক চলাচল শুরু হয়েছে। এই সি ট্রাকে যাত্রী ধারণ ক্ষমতা ২০০ জন। যাত্রী ভাড়া ৪০ টাকা। প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ মিনিটের মধ্যে মুন্সিগঞ্জ যেতে পারবো। এটা সমুদ্রে চলাচলের উপযোগী। ফলে ঝুঁকি অনেক কম। নিরাপদে যাত্রীরা যেতে পারবে।

 

তিনি বলেন, এটা আগে বগুড়া থেকে জামালপুর নৌ পথে চলাচল করতো। তবে নদীর নব্যতা কম থাকায় বন্ধ ছিল। ফলে এখানে আনা হয়েছে। এ সি-ট্রাকে দুটি ইঞ্জিন আছে। এটা পরিচালনায় ৯জন কর্মকর্তা আছে। মুন্সিগঞ্জেরর শিকদারকান্দি গ্রামের বাসিন্দা সিরাজ শিকদার বলেন, আমি নিয়মিত লঞ্চে যাতায়াত করি। কারণ বাসে গেলে যানজট, ধুলাবালি থাকে। তাছাড়া লঞ্চে যেতে তাড়াতাড়ি হয় এজন্য। আগের লঞ্চগুলো হেলেদুলে চলত। সেখানে এটা নিরাপদ।

 

তিনি বলেন, ভাড়া ৪০ টাকা হলে ঠিক আছে। তবে আধা ঘন্টার পরিবর্তে এক ঘন্টা হলেও সমস্যা হবে না। তার বেশি সময় নিলে যাত্রী যেতে চাইবে না। মো. হাসান বলেন, আগের লঞ্চগুলো ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। কারণ কোন বড় লঞ্চ বা জাহাজ গেলে নদীর ডেউয়ে ডুবে যাওয়ার উপক্রম হতো। সেখানে এটা নিরাপদ। তাছাড়া নিরাপদ হলে যাত্রীরা এক ঘন্টা পর পর ছাড়লেও কোন সমস্যা হবে না।

 

বিআইডব্লিউটিএ'র নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক মাসুদ কামাল বলেন, বিআইডব্লিউটিএ'র সিস্টার অর্গানাইজেশন বিআইডব্লিউটিসি। যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে বিআইডব্লিউটিসির সি-ট্রাক চালু করা হচ্ছে। আজকে একটি মাত্র সি-ট্রাক দিয়ে পরীক্ষামূলক চালু করা হয়েছে। তবে আগামীকাল থেকে নির্দিষ্ট সময়ে চলাচল করবে। যাত্রীদের প্রয়োজন অনুসারে এর সংখ্যা বাড়ানো হবে।তিনি বলেন, আজকে মুন্সিগঞ্জ নৌপথে চলাচল শুরু হয়েছে। ধারাবাহিক ভাবে অন্য সবগুলো নৌ পথে সি-ট্রাক চলাচল শুরু হবে।

 

তিনি আরো বলেন, এ নৌপথে চলাচলকারী লঞ্চগুলো ঝুঁকিপূর্ণ। যার জন্য সি-ট্রাক চালু করা। কিন্তু এ সি-ট্রাক লঞ্চগুলোর তুলনায় নিরাপদ। লঞ্চ মালিক পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে আয় করলেও অধিক মুনাফার জন্য লঞ্চগুলো পরিবর্তন করছে না। আশা করি তারা এবার বড় লঞ্চ চালু করবে।

 

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল(যাত্রী পরিবহন) সংস্থা নারায়ণগঞ্জ জোনের সভাপতি মো. বদিউজ্জামান বাদল বলেন, এই সি-ট্রাক এক সপ্তাহের বেশি চলবে না। কারণ এর যাত্রী ধারণ ক্ষমতা ২০০ জন। এর জন্য এক থেকে দেড় ঘন্টা বসে থাকতে হবে যাত্রী ফুল হওয়ার জন্য। কিন্তু আমরা যখন লঞ্চ চালিয়েছি তখন ৩০ থেকে ৪০ জন যাত্রী নিয়ে আধা ঘন্টা পরপর ঘাট থেকে লঞ্চ ছেড়ে গিয়েছে। অন্যথায় যাত্রীরা বিকল্প পথে চলে গিয়েছে। ফলে এ যাত্রীরা এক দেড় ঘন্টা বসে থাকবে না।

 

তিনি বলেন, এ সি-ট্রাক চলাচলে আমাদের কোন সমস্যা নেই। আমরা কোন বিশৃঙ্খলাও করবো না। তবে আমরা ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দর থেকে মুন্সিগঞ্জ ও অন্যান্য নৌপথে চলাচলরত লঞ্চগুলির চলাচল স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করার জন্য বিআইডব্লিউটিএ'র চেয়ারম্যানেরর কাছে লিখিত আবেদন করেছি।তিনি বলেন, লঞ্চগুলো চলাচল বন্ধ থাকলে প্রায় এক হাজার মালিক ও শ্রমিক বেকার হয়ে যাবে। তাই অবিলম্বে লঞ্চ চলাচলের জন্য আবেদন জানাচ্ছি।

 

নতুন বড় লঞ্চের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার ডেভলপমেন্ট প্লান দিলে আমরা সেটা করতে পারবো। এজন্য সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন। তাছাড়া এ নৌপথে এতো যাত্রী হয় না যে বড় লঞ্চ চালু করবো। বড় লঞ্চ চালু করলে লোকসান হবে।

 

লঞ্চ মালিক শ্রমিক বেকার হওয়ার বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ'র নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক মাসুদ কামাল বলেন, এ বিষয়ে এখন কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে এটা নিয়ে আলোচনা করে সমাধান করা হবে।

 

গত ২০ মার্চ দুপুর সোয়া দুটায় সদর উপজেলার চর সৈয়দপুর কয়লাখাট এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীতে "এমভি রূপসী-৯ " নামে কার্গো জাহাজের ধাক্কায় 'এমভি আফসার উদ্দিন' নামে যাত্রীবাহী লঞ্চ ডুবে যায়। এতে শিশু, নারী সহ ১১ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর দিন থেকে নারায়ণগঞ্জের ৫টি নৌপথে লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষনা করে। এ ঘোষনায় ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন