Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে রাইফেল ক্লাব ছিল শান্তি কমিটির ঘাঁটি

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২২, ০১:৩৮ পিএম

মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে রাইফেল ক্লাব ছিল শান্তি কমিটির ঘাঁটি
Swapno

১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চ বঙ্গবন্ধুর ডাকে বাংলাদেশের মুক্তিকামী মানুষ পাক হানাদার ও তাদের দোষর রাজাকার-আলবদরদেও বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বাংলার সর্বস্তরের মানুষ। ২৫ মার্চ রাতে নিরস্ত্র বাঙালি, বুদ্ধিজীবীদের এক এক করে ধরে এনে হত্যা করেছিল পাক হানাদার বাহিনী।আর এই হত্যাযজ্ঞের নেতৃত্ব দিয়েছিল রাজাকার আলবদরের দল। তাদের উদ্দেশ্য ছিল, ২৫ শে মার্চ রাতেই দেশের সমস্ত বুদ্ধিজীবী নিধন করা। নারায়ণগঞ্জেও শুরু হয়েছিল পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে তুমুল যুদ্ধ।

 

তাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা।  ওই সময় নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবই ছিল পাক হানাদার বাহিনীর দোষরদের আস্তানা। রাজাকার আলবদও ওই ক্লাবে বসেই নীলনকশা বাস্তবায়নের কাজ করতো। ১২ মে ১৯৭১ সালে দৈনিক আজাদ পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্ট থেকে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ শহরে শান্তি কমিটি গঠিত হয়েছিল। রিপোর্টে বলা আছে, সম্প্রতি এক প্রতিনিধিত্বমূলক সমাবেশে নারায়ণগঞ্জ শহর শান্তি কমিটি গঠন করা হয়। জনাব এ. আজিজ সরদারকে উক্ত উপ-কমিটির আহবায়ক নির্বাচিত করা হয়েছে।

 

নারায়ণগঞ্জ পৌর এলাকার বিভিন্ন ইউনিয়ন কমিটির সদস্য সংখ্যা ১১৪ জন এবং ১৪ জনকে এই কমিটি সমূহের আহবায়ক নিয়োগ করা হইয়াছে। নিম্নে ১৪ জন আহবায়কের নাম দেওয়া হইল : গোদনাইল ইউসিতে-জনাব আলতাফ হোসেন, হাজীগঞ্জ ইউসিতে জনাব এমএ বাসেত, খানপুর (পশ্চিম) ইউসিতে জনাব লতিফ সরদার, খঅনপুর ইউসি জনাব সুলতান খান, চাষাড়া ইউসি জনাব গোলাম রব্বানী খান, দেওভোগ ইউসি জনাব জহির হোসেন, নারায়ণগঞ্জ ইউসি জনাব জহির হোসেন, নারায়ণগঞ্জ ইউসি জনাব এসএ হালিম, শীতলক্ষ্যা ইউসি জনাব লাল মিয়া,

 

পাইকপাড়া ইউসি জনাব আবদুল জলিল, সোনাকান্দা ইউসি জনাব ইসাক মিয়া, বন্দর ইউসি জনাব মোহাম্মদ আলী, কদমরসুল ইউসি জনাব আলহাজ্ব এ লতিফ, নবীগঞ্জ ইউসি জনাব মহিউদ্দিন আহমেদ, ধামগড় ইউসি জনাব (ইন্ডাষ্ট্রিয়াল) আলহাজ্ব আবদুর রফিক।’

 

এই ১৪ জন আহবায়কের মধ্যে চাষাড়া ইউসি জনাব গোলাম রব্বানী খান ছিলেন ওই সময়কার রাইফেল ক্লাবের সেক্রেটারি। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘গত রবিবার শান্তিকমিটির উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবভবনে মিলাদুন্নবী যথাযোগ্য মর্যাদার সহিত উদযাপিত হয়।

 

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের কিছু সুবিধাবাদী মুক্তিযোদ্ধা স্বাধীনতার ৫০ বছর পর শান্তি কমিটির চাষাড়া ইউসি এর আহবায়ক গোলাম রব্বানী খানকে মুক্তিযোদ্ধা বানানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। গত ২৪ মার্চ নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের কাছে শান্তি কমিটির আহবায়ক গোলাম রব্বানীকে তাদের সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত করার জন্য অনুরোধ জানিয়ে একটি পত্র দিয়েছেন। ওই পত্রে চিহ্নিত স্বাধীনতা বিরোধী নেতা গোলাম রব্বানীকে ইনিয়ে বিনিয়ে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অভিহিত করেছেন তারা।

 

তবে তার বড় ছেলে নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল রাজাকারপুত্র নন বলেও দাবি করেছেন তারা। প্রশ্ন হল, স্বাধীনতার এতো বছর পর একজন চিহ্নিত স্বাধীনতা বিরোধীকে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের ব্যক্তি হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টায় নেমেছেন কতিপয় সুবিধাভোগী মুক্তিযোদ্ধা, কেন?

 

শহরের বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিরা বলছেন, গোলাম রব্বানী ছিলেন মুসলিম লীগের একজন প্রভাবশালী নেতা। এই শহরে তার ব্যাপক প্রভাব-প্রতিপত্তি ছিল। তিনি যখন ৮০’র দশকে মারা যান, তখন এদেশে চলছিল  সেনা শাসন। মৃত্যুর পর তার কফিনটি মুসলিমলীগের পতাকা দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়েছিল।

 

আওয়ামী লীগ নেতারা অভিযোগ করে বলেন, ১৯৭৫’র ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে নিহত হওয়ার পর গোলাম রব্বানী, তার ভাই চেঙ্গিস ও বাবর তৎকালীন ভৌমিক মিষ্টান্ন ভাণ্ডার বর্তমানে দীপা সুইটস লুট করে মিষ্টি বিতরণ করেছিলেন।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন