Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

সিএনজি সেক্টরের দুর্ধর্ষ চাঁদাবাজ কে এই মিঠু

Icon

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২২, ০৩:০৮ পিএম

সিএনজি সেক্টরের দুর্ধর্ষ চাঁদাবাজ কে এই মিঠু
Swapno

মিঠু চৌধুরী। তার মোবাইলে কল দিলেই ট্রু কলারে ভেসে উঠে মিঠু সিএনজি নেতা চিটাগাংরোড। এক সময় চিটাগাং রোডে কাসসাফ মার্কেটে গেঞ্জির দোকানে চাকুরি করলেও সিএনজি পরিবহন নিয়ন্ত্রন করে পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদাবাজি করে বর্তমানে বিত্তশালী হয়ে উঠেছে।

 

তার নিয়ন্ত্রনে ঢাকা চট্রগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড থেকে মেঘনা, গাউছিয়া, কাঞ্চন, ডেমরা স্টাফ কোয়াটার, নারায়ণগঞ্জ থেকে মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুর, চাষাঢ়া ও শিমরাইল মোড় চিটাগাং রোডসহ রাজধানীর অভ্যন্তরে চলছে ৪ শতাধিক অবৈধ ও নিষিদ্ধ যানবাহন অটো সিএনজি।

 

এসব অবৈধ ও নিষিদ্ধ যানবাহনের চলাচল নিয়মিত রাখতে হাইওয়ে পুলিশ, জেলা ট্রাফিক পুলিশ ও বিভিন্ন থানা পুলিশের নামে মিঠু গাড়ি প্রতি দেড় থেকে দুই হাজার টাকা মাসোহারা নিয়ে থাকে। শুক্রবার (২৫ মার্চ) সকালে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিএনজি ড্রাইভারের সাথে কথা বলে জানা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জের সাইলো রোডের বটতলা এলাকায় সরকারী জায়গা দখল করে প্রায় ৩০০টা সিএনজি রাখা যায় এমন পজিশনে গ্যারেজ তৈরি করে মিঠু চৌধুরি গড়ে তোল একটি বিশাল সিন্ডিকেট।

 

এ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অবৈধ ও নিষিদ্ধ সিএনজি অবাধ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে রাজধানী ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, গাজিপুর ও নারায়ণগঞ্জের আইনশৃংখলা বাহিনী, ট্রাফিক পুলিশ ও বিশেষ পেশার মানুষকে ম্যানেজ করে থাকে। আরেকটি সূত্র জানায় সিএনজি চোরাই চক্রের একটি চক্রও মিঠুর শেল্টারে কাজ করে যাচ্ছে। চোরাইকৃত সিএনজি উদ্ধাররের নামে দরকষাকষি করে সিএনজি মালিকদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা আদায় করাই হচ্ছে এ চক্রের মূল কাজ।

 

 সরকারী জায়গা দখল করে মিঠুর গড়ে তোলা সেই অটো গ্যারেজ সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ও র‌্যাব-১১ এর প্রধান কার্যালয়ের খুব কাছাকাছি হওয়ার পরও রহস্যজনক কারণে আইনশৃংখলা বাহিনী কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় ভয়ে কেউ এর বিরুদ্ধে কথা বলতে কিম্বা মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেনা।


জানা গেছে, মিঠু চৌধুরীর বাড়ি ঢাকার নবাবগঞ্জ থানা এলাকায়। বর্তমানে সে সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি তেরা মার্কেট এলাকায় ভাড়া থাকে। সাইলো গেইট এলাকার কয়েকজন সিএনজি মালিককে নিয়ে অনিবন্ধিত, ভুইফোড় সংগঠন নারায়ণগঞ্জ ফোরস্টোক সিএনজি মালিক সমিতি গঠন করে। যার কোনো অস্তিত্বও নেই।


পরে হাইওয়ে ও জেলা ট্রাফিক বিভাগের কয়েকজন টিআই ও সার্জেন্টদের ম্যানেজ করে অবাধে চলাচলের জন্য সমিতির নামে একটি ষ্টিকার বানিয়ে সিএনজিতে লাগিয়ে মাসিক চাঁদা আদায় করতো। এভাবে অন্তত ৪ শতাধিক সিএনজিতে ষ্টিকার লাগিয়ে মাসে কয়েক লাখ টাকা চাঁদা আদায় করে মিঠু। হাইওয়ে পুলিশকে ম্যানেজ করে শিমরাইল মোড় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বানিয়েছে সিএনজি স্ট্যান্ড।


একপর্যায়ে স্টীকারের বিষয়টি জানাজানি হলে মিঠু স্টীকার তুলে নেয়। বর্তমানে সে নিজেই সব জায়গায় অবাধে বিচরণ করছে। ফলে ওইসব রুটে কোথায়ও সিএনজি আটক হলে মিঠুর নাম বললে তা ছেড়ে দেয়া হয়। অথবা ফোনে ফোনে মিঠু কথা বলে এটা তার নিষন্ত্রনে রয়েছে নিশ্চিত করে অপরপ্রান্তে।  


নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, মিঠুর গ্যারেজে ব্যাটারী চালিত ইজিবাইকও চার্জ দেওয়া হয়। গ্যারেজের বিদ্যুৎ সংযোগটিও অবৈধ। এছাড়াও গ্যারেজে বসে প্রতি রাতে বসে জুয়ার আসর, হয় মাদক খাওয়া ও বিক্রি।


এ বিষয়ে মিঠু চৌধুরীর বলেন, জেলা ট্রাফিক ও কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের অন্যান্য পুলিশের সাথে কথা বলেই সিএনজি চালাচলের ব্যবস্থা করেছি। চালকরা খুশি হয়েই মাসিক টাকা দিচ্ছে। কারো কাছ থেকে জোর করে চাঁদা নিচ্ছিনা। চাঁদার টাকা সব মহলকেই দিতে হচ্ছে। আমি একা সব নিচ্ছিনা। গ্যারেজে জুয়া ও মাদক বিক্রির অভিযোগের বিষয়টি জানতে চাইলে ফোনটি কেটে যায়।


হাইওয়ে পুলিশের টিআই মশিউর আলম বলেন, মিঠু নামে কাউকে চিনি না। মহাসড়কে সিএনজি চলাচলের অনুমতি হাইওয়ে পুলিশ কখন দিবেনা। সড়কে সিএনজি পেলেই আইনগতব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন