Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

টোটাল ফ্যাশনের ওয়েস্টেজ নিয়ে যুদ্ধ

Icon

নীরব প্রকাশ

প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২২, ০৭:৩১ পিএম

টোটাল ফ্যাশনের ওয়েস্টেজ নিয়ে যুদ্ধ
Swapno

# কর্তৃত্ব ও টাকা ভাগাভাগি নিয়ে রক্তারক্তি লুটপাট
# সজ্জনরা এগিয়ে না আসলে দিতে হতে পারে বড় মাশুল

 

খুবই বিপদজনক অবস্থার দিকে যাচ্ছে বন্দরের টোটাল ফ্যাশন নামক রপ্তানীমূখী পোশাক তৈরি কারখানার বাতিল (ওয়েস্টেজ) মালামালের ব্যবসার দখল নিয়ে যুদ্ধ। ক্রমেই যা রক্তারক্তি ও খুনোখুনির দিকে গড়াচ্ছে। একটি গ্রুপকে টেক্কা দিয়ে এই মালামাল ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ দখল নেয় আরেকটি গ্রুপ।

 

তাদের মধ্যে আবার টাকার ভাগাভাগি এবং ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তৈরি হয়েছে কোন্দল। এই কোন্দল থেকে শুধু মাত্র যে বিভক্তির সৃষ্টির হয়েছে তা নয়। এরই মধ্যে লুটপাট ও মারামারিসহ হত্যার চেষ্টার অভিযোগে মামলা পাল্টা মামলার ঘটনাও ঘটেছে।

 

যে বিষয়টি নিয়ে গত বেশ কিছুদিন যাবত বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় সংবাদ আসছে। বন্দরের ধামগড় এলাকার কামতাল এলাকায় ঢাকা চিটাগাং মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এই পোশাক কারখানাসহ এর সাথের এসএইচকে লেভেল কারখানাপর যত বাতিল মালামাল আছে তা সংগ্রহ করে বিক্রি এবং ভাগ-বাটোয়ারার কর্তৃত্ব নিয়ে এই দ্বন্দ্ব এখন চরম আকারে রূপ নিচ্ছে।

 

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ৩০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে পোশাক কারখানা থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতন ও হত্যার উদ্দেশ্যে গুলিবর্ষণের অভিযোগে গত ২২ মার্চ নারায়ণগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ছামসুর রহমানের আদালতে জবানবন্দি দেন ঘটনায় আহত ইউপি সদস্য সফুরউদ্দিন। সব কিছু মিলিয়ে বন্দরের প্রশাসনসহ প্রথম সারির নেতৃবৃন্দ এই বিষয় হস্তক্ষেপ না করলে বিষয়টি মারাত্মক আকার ধারণ করবে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

 

এই বিষয়ে বিভিন্ন ধামগড়, কামতাল, ও মুসাপুর এলাকার স্থানীয় বিভিন্ন নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন সূত্রের সাথে কথা বলে জানা যায়, ২০১০ সালে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের তৎকালীন সাংসদ একেএম নাসিম ওসমান (প্রয়াত) এর মধ্যস্থতায় স্থানীয় সাতজনের একটি দল তৈরি করে তাদেরকে দায়িত্ব এই মালামাল নেয়ার সুপারিশ করেন এবং স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে এর সুবিধা ভাগাভাগি করা কথা বলে দেন।

 

এই সাতজনের দলের মধ্যে ছিলেন সদ্য সাবেক ধামগড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুম আহমেদ, মুসাপুর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল, সাবেক ইউপি মেম্বার আমিনুল, বর্তমান ইউপি মেম্বার নবীর হোসেনসহ ধামগড় এলাকার আরও তিনজন।এই বিষয়ে তখন কারখানার সাথে তাদের একটি চুক্তিনামাও করা হয়।

 

তবে ২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পর ইউপি মেম্বার সফুরউদ্দিন, আগের কমিটিতে থাকা সাবেক ইউপি মেম্বার আমিনুল এবং মাকসুদ চেয়ারম্যানের ছেলে শুভসহ বেশ কয়েকজন মিলে একটি দল তৈরি করে সেই ব্যবসা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। তারা বেশ প্রভাবশালী হওয়ায় আগের দায়িত্বপ্রাপ্ত গ্রুপটি অর্থাৎ ১ম গ্রুপটি এই বিষয়টিতে কোন প্রকার বাধা সৃষ্টি করারও সাহস দেখাতে পারেননি।

 

কিন্তু এবার তাদের মধ্যে ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ থাকবে কার হাতে এবং টাকার পয়সার লেনদেনের দায়িত্ব কে নিবে এই বিষয় নিয়ে শুরু হয় দ্বন্দ্ব এবং তাদের মধ্যে পুনরায় আরও দুটি গ্রুপের সৃষ্টি হয়। এক দিকে সফুরউদ্দিন ধামগড় ইউনিয়নবাসি এবং কারখানাটি তার এলাকায় অন্যদিকে মাকসুদ চেয়ারম্যান মুসাপুর ইউনিয়ন পরিষদের কিন্তু তার আছে ব্যাপক প্রভাব।

 

তাই কর্তৃত্ব নিয়ে পরের দুটি গ্রুপের মধ্যে শুরু হওয়া এই দ্বন্দ্ব চরম পর্যায়ে পৌছে। গত ৯ মার্চ মাকসুদ চেয়ারম্যানের ছেলে মাহমুদুল হাসান শুভর  নেতৃত্বে ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল মেইনগেইটে নিরাপত্তা কর্মীদের জিম্মি করে একটি কভার্ডভ্যান নিয়ে ফ্যাক্টরীতে প্রবেশ করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে গোডাউন থেকে দুই লক্ষাধীক টাকার মালামাল ছিনতাই করে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

 

অন্যদিকে এখানকার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং বন্দর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এমএ রশীদ ও নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক এবং বন্দর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ সানুকে অবহিত করা হয়েছে বলে ঘটনা সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তাই বিষয়টি যাতে কোন অপ্রীতিকর এবং মারাত্মক কোন অবস্থানে না পৌছায় সে বিষয়ে এখনই তাদের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে স্থানীয়রা জানান।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন