গোলাম রব্বানি খানের এক ভাই ছাড়া পরিবারের সবাই রাজাকার ছিলো
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২২, ০৮:১৫ পিএম
‘আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী’ সংগঠনের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা নুরুদ্দিন আহাম্মেদ বলেছেন, বাড়ির সামনে আইয়ুব খানের একটি বিশাল ছবি সে মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস টানিয়ে রেখেছিলো । নারায়ণগঞ্জের চিহ্নিত রাজাকার গোলাম রাব্বানী খানকে মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগি বানানোর চেষ্টা চলছে। এমন প্রচেষ্টা প্রতিরোধ করতে হবে। রোববার সকাল এগারোটায় নগরীর মাসদাইরে প্রতিরোধ স্তম্ভে ৩৩ শহীদ পরিবার কল্যান সমিতি আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ দেশের প্রথম সশস্ত্র গণপ্রতিরোধ হয় নারায়ণগঞ্জের মাসদাইরে। প্রতিরোধের কারনে ২৫ মার্চ রাতে ঢাকার ক্র্যাক ডাউন হলেও পাকিস্তানী বাহিনী নারায়ণগঞ্জে প্রবেশ করতে পারেনি। ২৭ মার্চ ভোরে পাকিস্থানী বাহিনী নারায়ণগঞ্জে প্রবেশ করে। এসময় তারা মাসদাইর এলাকার ৩৩ জনকে হত্যা করে। তবে এ শহীদরা এখনো রাষ্ট্রীয় স্বিকৃতি পাননি।
বক্তব্যে মুক্তিযোদ্ধা নুরুদ্দিন আহমেদ আরো বলেন, গোলাম রাব্বানী খান চাষাড়া ইউনিয়নের শান্তি কমিটির প্রধান ছিলেন। ১৯৭১ সালের ১২ মে দৈনিক আজাদ পত্রিকায় শান্তি কমিটির নেতা হিসেবে তার নাম ছাপা হয়। নারায়ণগঞ্জের শান্তি কমিটির প্রধান ছিলো আজিজ সর্দার। গোলাম রাব্বানি খানের এক ভাই ছাড়া তার পরিবারের সবাই রাজাকার ছিলো।
কেউ কেউ সশস্ত্র রাজাকারও ছিলো। রাইফেল ক্লাবে ও নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে পাকিস্থানী মেজরদের সাথে তার দহরম মহরম ছিলো। তার বাড়ির সামনে আইয়ুব খানের একটি বিশাল ছবি সে মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস টানিয়ে রেখেছিলো। বঙ্গবন্ধুকে যেদিন হত্যা করা হয় সেদিন সে মিষ্টি বিতরণ করে। শান্তি কমিটি পাকিস্থান কায়েম রাখার জন্য পাকিস্থানী সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করে।
রাজাকার নিয়োগ করে। সাধারন মানুষের উপর অত্যাচার নির্যাতন চালায়। এমন চিহ্নিত রাজাকারকে মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগি বানাতে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার উঠে পড়ে লেগেছেন। অথচ প্রতিরোধ যুদ্ধ স্মরণে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কোনো কর্মসূচী নেই।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ মজিবুর রহমান।
মোহাম্মদ মোস্তফা কামালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ‘আমরা নারায়ণগঞ্জবাসির’ সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা নুরুদ্দিন আহমেদ, কবি হালিম আজাদ, সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি কবি ফাহমিদা আজাদ, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ মনির হোসেন, কোষাধক্ষ মোহাম্মদ শাহীন সর্দার, অধ্যাপক আব্দুস সালাম, মোহাম্মদ বাবুল মিয়া, আবু সাঈদ, আলাউদ্দিন মহাজন, আবুল হোসেন পটল প্রমুখ।


