স্বাধীনতা দিবসে ১০ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মাননা
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২২, ০৮:৪৫ পিএম
মহান স্বাধীনতা দিবসে নারায়ণগঞ্জের ১০ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মাননা প্রদান করেছে নুরুল ইসলাম স্মৃতি পাঠাগার। শনিবার (২৬ মার্চ) বিকেলে সদর উপজেলার তল্লা আজমেরীবাগ এলাকায় পাঠাগার প্রাঙ্গণে এ আয়োজন করা হয়।
সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে বীর মুক্তিযোদ্ধা জামশেদ হুসাইন, বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ ইউসুফ আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন টুলু, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা বোরহান উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আব্দুল মান্নান, বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী জাহাঙ্গীর, বীর মুক্তিযোদ্ধা মুনজুরুল আলম, বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিমউদ্দিন মিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা আফজাল মিয়াকে।
তাদের সকলকে সম্মাননা স্মারক, পাঞ্জাবী ও বই উপহার দেয়া হয়। এ সময় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। তারা তাদের সেক্টর ও মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ের পরিস্থিতি সম্পর্কে বর্ণনা করেন। তারা বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধ কঠিন জিনিস ছিল। বঙ্গবন্ধুর ডাকে আমরা জীবনের পরোয়া না করে যুদ্ধে গিয়েছিলাম।
লাখো শহীদের বিনিময়ে আমরা লড়াই করে এদেশ স্বাধীন করেছি। মুক্তিযোদ্ধারা আর বেশিদিন থাকবে না। নতুন প্রজন্মকে স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস জানতে হবে। আক্ষেপ করে বীর মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, স্বাধীনতার সুফল সঠিকভাবে ভোগ করতে পারছি না। কিছু অসাধু চক্র স্বাধীনতার স্বাদকে নষ্ট করছে। কিছু অসৎ লোকের কারণে দেশের এই পরিণতি।
এদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তারা। নুরুল ইসলাম স্মৃতি পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম কর কমিশনার মর্তুজা শরীফুল ইসলামের সভাপতিত্বে এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. মাহমুদা মালা, সরকারি তোলারাম কলেজের শিক্ষক রওনক জাহান, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব করিম রেজা, নাজমুল হাসান রুমি প্রমুখ।
তারা বলেন, সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের অনুষ্ঠানের প্রথম সারিতে বসা কিংবা স্টেজে কথা বলার সুযোগ কমই পান। অনেক সময় মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনের নেতারাই এ সুযোগ পান। তবে ব্যতিক্রমভাবে সম্মাননা প্রদানের আয়োজন করেছে নুরুল ইসলাম স্মৃতি পাঠাগার। যারা আজকে সম্মাননা পেলেন তারা বর্তমানে নেতৃত্ব পর্যায়ে না থাকলেও তাদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের কারণেই মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে এদেশ স্বাধীন হয়েছিল।
তারা এদেশে সবচেয়ে বেশি সম্মানীয় ব্যক্তি। এ সময় স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আবৃত্তি, গান, নৃত্য ও দাবা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশু-কিশোরদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।


