Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

সরকারি নিয়ম বাদ দিয়ে ফজর আলীর নিয়ম চলে গোগনগরে

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২২, ০৬:৫৬ পিএম

সরকারি নিয়ম বাদ দিয়ে ফজর আলীর নিয়ম চলে গোগনগরে
Swapno

# ওয়ারিশ সনদ প্রতি ২ থেকে ৩ হাজার
# ট্রেড লাইসেন্স করতে সর্বনিম্ন ৩ হাজার
# জন্ম সনদ প্রতি ১ হাজার টাকা

 

সারা দেশে শিশুর জন্ম থেকে ৪৫ দিন পর্যন্ত সরকারি নিয়মানুয়ী জন্ম নিবন্ধনের কোন ফি নেওয়া হয়না।  তবে শিশুর  ৫ বছর পর্যন্ত ২৫ টাকা ও ৫ বছরের উপরে সব বয়সীদের ৫০ টাকা ফি নেয়ার নিয়ম করে দিয়েছে সরকার। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, সরকারের এই নিয়ম মানা হচ্ছেনা নারায়ণগঞ্জের সদর উপজেলার গোগনগর ইউনিয়নে।

 

এই ইউনিনে সেবা নিতে আসা একাধিক ভুক্তভোগীরা জানান, গোগনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজর আলী সরকারি বেধে দেয়া টাকার জায়গায় নিজেই নতুন নিয়ম করেছেন। তার নিয়মে প্রতি জন্ম সনদে ১ হাজার থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত ফি আদায় করছেন ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার কম্পিউটার অপারেটর এবং ইউপি সচিব মাহবুব। খোঁজ নিয়ে এমন অভিযোগের সত্যতাও পাওয়া যায়।

 

তবে ইউনিয়নে এ অভিযোগ নতুন নয়। সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে ইউপি চেয়ারম্যানের হুকুমে সচিব মাহবুব জন্মনিবন্ধন সনদে অতিরিক্ত ফি আদায় করেন বলে অনেকেই অভিযোগ করেছেন। এটা দেখারও কেউ নেই বলে জানান স্থানীয়রা। এই অনিয়মকে তারা এখন নিয়মে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এছাড়াও গোগনগরের চায়ের দোকানদার থেকে শুরু করে মুদি দোকানদার অভিযোগ করে বলেন, আগে চায়ের দোকানদার ইউনিয়ন পরিষদে ট্রেডলাইসেন্স এর জন্য ৫শ থেকে ৭শ’ টাকা দিতেন।

 

প্রতি বছর নবায়ন করতে গেলেও এমন টাকাই দিতে হত এই ছোট খাটো ব্যবসয়ীদের। তবে ফজর আলী চেয়ারম্যান হওয়ার পরে সকল ধরনের দোকানীদের মাইকিং করে ট্রেডলাইসেন্স নবায়ন করতে বলে। এমনকি যারা ট্রেডলাইসেন্স করে নাই তাদের লাইসেন্স করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়। আর এই সুযোগে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেন।

 

কিন্তু এবিষয়ে একাধিক ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে বলেন, ফজর আলী চেয়ারম্যান হয়ে গোগনগরে তার রাম রাজত্ব কায়েম করছেন। সরকারের নিয়ম বাধ দিয়ে নিজের নিয়ম চালু করেছে। তার নিয়মের বাহিরে কেউ যেতে পারবে না। সারা দেশে নিত্য পণ্যের মত ফজর আলী তার এলাকায় জন্ম নিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদ, ট্রেডলাইসেন্সসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবার নামে মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছেন।

 

আর এনিয়ে তার ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পর্যন্ত সাহস পায় না। তিনি হুমকি ধমকি দিয়ে মানুষকে জিম্মি করে রাখে। তাই সচেতন মহল প্রশ্ন তুলে বলেন, এই ভাবে যদি ফজর আলীর অনিয়ম চলতে থাকে তাহলে মানুষকে এলাকা ছেড়ে পালাতে হবে। কিন্তু তাদের পালাবার জায়গাটাও নেই। তাই বাধ্য হয়ে তারা তার এই অনিয়ম মেনে নিয়েছেন।

 

গোগনগরে এক চায়েক দোকানে আলাপচারিতায় দোকানি সবুজ জানান, আমরা চায়ের দোকানে চা, বিস্কুট বিক্রি করে অল্প কয়টা টাকা কামিয়ে ছেলে সন্তান নিয়ে কোন রকম সংসার চালাই। কিন্তু ফজর আলী চেয়ারম্যান হওয়ার আমাদের  দোকানে ট্রেড লাইসেন্স করার জন্য ৩ হাজার টাকা দিয়ে করতে হলো। যা আগে ৭শ’ টাকা দিয়ে করতাম।

 

মুদি দোকানদার থেকে আরও বেশি করে টাকা নিতাছে। তার এই অতিরিক্ত টাকা নেয়ার জুলুম আল্লাহ বিচার করবে। তার পাশেই আরেক দোকানদার শরীফ বলেন, ফজর আলী নির্বাচনে যে পরিমান অর্থ খরচ করেছে তার সেই টাকা তুলার জন্য আমাদের উপর এই জুলুম করছে। তার ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারে না,কিন্তু আল্লাহ তার বিচার করবে।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফকির বাড়ির এক ব্যক্তি জানান, আমি গেছি আমার ওয়ারিশ সনদ আনার জন্য তখন ইউনিয়নের সচিব মাহবুব বলেন, ২ হাজার ৫০০ টাকা দিতে হবে। তাকে বল্লাম কেন দিতে হবে, তখন দিনি বলেন এটা চেয়ারম্যানের নির্দেশ। এর বেশি কিছু বলতে পারবো না। তাই আমি ওয়ারিশ সনদ না নিয়ে চলে আসি। এছাড়াও তারা বিভিন্ন কোম্পানি থেকে ৩ থেকে চার গুন অর্থ আদায় করছেন।

 

গোগনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফজর আলী এই সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি জানান, কারো কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেয়া হলে কেউ যদি অভিযোগ করে আমি তার ব্যবস্থা নিবো। নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ জানান,  অফিসে এসে সরাসরি এসে কথা বলেন।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন