Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

চেয়ারম্যান মাকসুদের ছেলে শুভ’র টর্চার সেল আতঙ্ক

Icon

নীরব প্রকাশ

প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২২, ০৭:০০ পিএম

চেয়ারম্যান মাকসুদের ছেলে শুভ’র টর্চার সেল আতঙ্ক
Swapno

# এখানকার লভ্যাংশের বড় একটি অংশ বন্দরের রথী মহারথীরাও পায়
# টর্চার সেলের ভিতরে ভয় পাওয়ার মতো পরিবেশ : সফুরউদ্দিন মেম্বার
# বিষয়টা নিয়ে আমার কাছে আসলে বষয়টা মিমাংসায় পদক্ষেপ নিব : সানু

 

বন্দরের ধামগড় এলাকায় অবস্থিত টোটাল ফ্যাশন লিমিটেড নামক রপ্তানীমূখী পোশাক তৈরি কারখানার বাতিল (ওয়েস্টেজ) মালামালের ব্যবসার দখল নিয়ে যে সংঘাত তা অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ এবং বর্তমানে মামলা পাল্টা মামলায় দৃশ্যপট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। এই ঘটনায় খুনো খুনি হওয়ার মতো পর্যায়ে চলে যাচ্ছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন।

 

অথচ বর্তমানে যেই দুটি গ্রুপের মধ্যে এই দ্বন্দ্ব এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে কিছুদিন আগেও তারা ছিল একই গ্রুপের সদস্য। যেখানে অন্য আরেকটি গ্রুপ এই ব্যবসার নিয়ন্ত্রণে ছিল সেখানে আগের সেই গ্রুপকে হটিয়ে এই ব্যবসাকে দখল করার জন্যই তারা একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করেছিলেন। তখন সেই পক্ষ তাদের এই একাট্টা এবং ক্ষমতার দাপটের কারণে কোন প্রকার দাবি বা চেষ্টাও করেননি বলে জানিয়েছিলেন তারা।

 

এই ব্যবসায় অর্জিত টাকার একটি বড় অংশ বন্দরের রথী মহারথীরাও পায় বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে। কিন্তু কে ব্যবসার দখল নিবে এবং টাকা পয়সার নিয়ন্ত্রণ নিবে তা নিয়েই এই গ্রুপের মধ্যেই এখন বিভক্তি। দেখা দিয়েছে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষসহ জীবন মৃত্যুর প্রশ্ন। কিন্তু তার চেয়ে বড় আতঙ্কের বিষয়, এই বিভক্তিতে যে বিষয়টা উঠে এসেছে তাহলো বন্দরেও টর্চার সেল আছে বলে অভিযোগ করেছেন ধামগড় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সফুরউদ্দিন।

 

একদিকে মুসাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাকসুদ যেখানে একটি বড় অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয় সেখানে মাকসুদ চেয়ারম্যানের ছেলে মাহমুদুল হাসান শুভও আলাদা টাকার নিয়ন্ত্রণ নিতে উদগ্রীব হয়ে উঠে। শুধু তাই নয়। শুভ’র নেতৃত্বে ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল আছে যারা একটি টর্চার সেলের নিয়ন্ত্রণ করে বলেও অভিযোগ করেছেন সফুরউদ্দিন। যেখানে তাকে নিয়ে নির্যাতন করা হয় বলে জানিয়েছেন তিনি।

 

একদিকে লুটপাট, ইউপি সদস্যকে তুলে নিয়ে নির্যাতন অন্যদিকে অন্য একটি মামলায় সেই সফুরউদ্দিনকেই ফাঁসানোর চেষ্টা। এর ফলে মাকসুদ চেয়ারম্যান ও তার ছেলের উদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের মাত্রা যা এলাকায় একটি নতুন আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। অবশ্য শুভ ও মাকসুদের পরিবারের এই হিংস্র আচরণ বংশগত।

 

রাজাকার পুত্র মাকসুদ চেয়ারম্যান স্থানীয় এমপির স্নেহভাজনে থাকায় এবং বন্দর আওয়ামী লীগের একাংশের সমর্থন পাওয়ায় প্রশাসনও তাদের কর্মকাণ্ডে নিরব থাকে ফলে যেকোন অপকর্ম করে পার পেয়ে যায় তারা।

 

এর আগে কারখানার সাথে চুক্তিনামা কার নামে থাকবে, ব্যবসার টাকা পয়সা কার হাতে যাবে এনিয়েও কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। অন্যদিকে বন্দরে একটি নয়, দুটি নয়, একাধিক টর্চার সেল আছে বলে অভিযোগ করেন সফুরউদ্দিন। এসব টর্চার সেলে যাকে নেয়া হয় সে আর জীবন নিয়ে ফেরত আসতে পারে না বলে জানান তিনি। তিনি আরও জানান তার ভাগ্য ভাল যে তিনি জীবিত ফেরত আসতে পেরেছেন।

 

সেই টর্চার সেলের পরিবেশের কথা বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, সেখানকার যেই পরিবেশ তা দেখলে যেকোন লোকই ভয় পেয়ে যাবে। প্রশাসনের উচিৎ এই বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে নিয়ে এর এখানেই সমাপ্তি টানা এবং কোন প্রকার টর্চার সেল থাকলে তা খুঁজে বের করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া। তা না হলে খুব শীঘ্রই বন্দরবাসিকে এর মারাত্মক ফল ভোগ করতে হবে।

 

বিষয়টির সমাধানের বিষয়ে বন্দর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ সানু জানান, এই বিষয় নিয়ে যেই দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে তারা কেউ-ই আমার কাছে আসেনি। তাই এখনকার বিষয়ে কেউ আমাকে জানায়নি বলে আমি কিছু জানি না। কয়েক মাস আগে, ইউপি নির্বাচনের পরপর এক পক্ষ আমাকে জানাইছে যে, এই মালটা আমারা নামাইতাম, মালিক পক্ষ আমাদের দিত।

 

কিন্তু এখন মাকসুদ চেয়ারম্যানের ছেলে নিতেছে। অন্যদিকে মাকসুদ চেয়ারম্যান জানিয়েছে যে, মালিকের সাথে তাদের দরপত্র বনেনি। তারা দাম কম দেয়, তাই মালিক সরাসরি মাল বিক্রি করতেছে, আমিও বিক্রি করতেছি না। এই বিষয় নিয়ে ধামগড় ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান কামাল হোসেন যখন আমার সাথে কথা বলেছিল।

 

তখন আমি বলেছিলাম আগে তোমাদের শপথ হোক। কিন্তু এরপর মারামারি শুরুর পর কেউ আমার কাছে আসেনি। তিনি আরও বলেন, যদি তারা কেউ আমাকে বিষয়টা জানায়, তাহলে অবশ্যই আমি বিষয়টা মিমাংসায় পদক্ষেপ নিব।

 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন