# গোলাম রাব্বানী সে সময় না’গঞ্জ শান্তি কমিটির একজন ছিলেন : হালিম আজাদ
জাতির জনকের কন্যা এবং স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি ক্ষমতায় আসার পর থেকে মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানের পারদ যেখানে উপরের দিকে উড়ছে। সেখানে নারায়ণগঞ্জ জেলায়; বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ শহর ও শহর সংলগ্ন এলাকাগুলোতে এই সম্মানের সূচক ততই দ্রুত তলানিতে গিয়ে ঠেকছে। আর কত অপমান ও বঞ্চনার পর এই তাদের এই উদ্যত্ব আচরণ শেষ হবে তা নিয়ে দেশপ্রেমিক ও মুক্তিযুদ্ধকে যারা শ্রদ্ধা, ভালবাসা ও আবেগ দিয়ে জড়িয়ে রাখেন তাদের মনে প্রশ্ন জেগেছে।
এখানকার রাজনৈতিক ও সুশীল সমাজের মতে, প্রত্যেকটা সেক্টরেই ভাল’র সাথে সাথে কিছু মন্দ দিকও আছে। আর যেই মুখগুলো একজন রাজাকারকে মুক্তিযোদ্ধা বানানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছেন, তারা কিন্তু সুবিধাবাদী মুক্তিযোদ্ধা। অর্থাৎ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নারায়ণগঞ্জ জেলায় বিভিন্ন মাধ্যম থেকে তারা সর্বোচ্চ সুবিধা ভোগ করছেন।
মুক্তিযোদ্ধারা সর্বোচ্চ সুবিধা পাবে এতে কোন সমস্যা নাই। কিন্তু তারা তাদের সাথে নারায়ণগঞ্জের যেসব মুক্তিযোদ্ধারা স্বাধীনতা সংগ্রামে জীবন বাজি রেখে, সব কিছুর মায়া ত্যাগ করে অস্ত্র তুলে নিয়েছিলেন সেসব অসহায় মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবাররা কতটা কষ্টে আছেন তা নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন না। নিচ্ছেন না তাদের কোন খোঁজ খবর।
যেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে বাংলাদেশের তৎকালীন সাড়ে সাত কোটি মানুষের স্বপ্ন পূরণে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়েছেন সেই বঙ্গবন্ধু নাম ভাঙিয়ে তারা এখন শহরের প্রভাবশালী একটি পরিবারের সাথে মিলে মিশে রাজাকার ও তাদের পরিবারকে নিয়ে গুনগান করত ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
ওসমান পরিবারের গুণ থাকতেই পারে। তার ভক্তরা তাদের গুণগান গাইবে এটাও স্বাভাবিক। কিন্তু বেশ কিছু যাবতই দেখা গেছে তাদের ভক্ত নামের কিছু অতি উৎসাহী চাটুকারদের বঙ্গবন্ধুকে, তার কন্যা দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবমাননা করে বক্তব্য দিতে। আর এবার সেই একই পরিবারের কিছু অনুগত মুক্তিযোদ্ধাকে দেখা গেল সেই পরিবার থেকে তাদের আদায়কৃত সুবিধাকে আরও পাকাপোক্ত করার জন্য এবার স্বীকৃত রাজাকারকে মুক্তিযোদ্ধা বানানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত হতে।
অবশ্য বেশ কিছুদিন যাবতই তারা স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এই রাজাকার পুত্রকে পাশে বসিয়ে রেখে এই প্রক্রিয়াকে মানুষের দৃষ্টি সহনীয় করার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু এবার যখন এই পরিবারের মদদে বঙ্গবন্ধুকে ও প্রধানমন্ত্রীকে অবমাননা করে কিছু সুবিধাবাদি পার পেয়ে যায়। তখন তাদেরও সাহস ও বিশ্বাস দুটোই বেড়ে যায়। তাই তারা এই সময়টাকেই বেছে নিয়েছে তাদের কার্য হাসিলের জন্য।
এরই মধ্যে বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলার আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ মুক্তিযোদ্ধা ও সূধী সমাজ। এরই মধ্যে এ বিষয়ে বিব্রত বোধসহ অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতিগণ। এ ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এর হ্যাট্রিক বিজয়ী মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী।
২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে একটি অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে সত্য শেখার সময় আসছে। কিন্তু সেই মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে কেউ যদি রাজাকারদের মুক্তিযোদ্ধা বানাতে চায়, তখন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে লজ্জিত বোধ করি। অপমানিত বোধ করি, অনেক বেশি কষ্ট পাই। জানি না কতিপয় মুক্তিযোদ্ধা কেন রাজাকারদের মুক্তিযোদ্ধা বানাতে চাচ্ছে।
এই বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও লেখক হালিম আজাদ বলেন, আমি নিজেও মুক্তিযোদ্ধা। এখানে যারা মুক্তিযুদ্ধের সময় অপরাধ করেছে তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ আছে। যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছে তাদেরও প্রমাণ আছে। সুতরাং এখানে যারা মুক্তিযুদ্ধ করেনি তাদেরকে জোর করে মুক্তিযোদ্ধা বানানোর কোন সুযোগ নাই, সেটা যতই অপচেষ্টা করা হোক না কেন।
গোলাম রাব্বানীর খানের বিষয়ে তিনি বলেন, সেতো সে সময় পাকিস্তানী বাহিনীর যে সংগঠন ছিল নারায়ণগঞ্জের সেই শান্তি কমিটির একজন ছিলেন। তাকে মুক্তিযোদ্ধা বানানোর চেষ্টা কখনও-ই সফল হবে না। বিশেষ পরিবারের সুবিধার বিষয়ে তিনি বলেন, কোন বিশেষ পরিবারের সুবিধা নিয়ে যদি কেউ কোন মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীকে মুক্তিযোদ্ধা বানানোর চেষ্টা করা হলে সেটা সফল হবে না। কারণ এগুলোর প্রমাণ আছে।


