Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

ছয় মাসেই তিন চেয়ারম্যানের কপাল পুড়ছে

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২২, ০৬:১৬ পিএম

ছয় মাসেই তিন চেয়ারম্যানের কপাল পুড়ছে
Swapno

# জবাব সন্তোষজনক না হলে বরখাস্ত : স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সচিব

 

অবশেষে সকল জল্পনা কল্পনা শেষে নারায়ণগঞ্জে বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং নৌকার বিরুদ্ধে অবজ্ঞা করে বিতর্ক বক্তব্য দিয়ে সমালোচনার মাঝে পরেন। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাইয়ের নেতৃত্বে ডিসি এবং পুলিশ সুপার বরাবর স্বারকলিপি প্রদান করেন।

 

এই তিন চেয়ারম্যান হলেন সোনারগাঁ উপজেলার বারদি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লায়ন মো. বাবুল, বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসে প্রধান এবং সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন। তারা প্রত্যেকেই ইউনিয়ন নিবাংচনের ২য় ধাপে গত বছর রভেম্বর মাসের ১১ তারিখ নির্বাচনে নির্বাচিত হন।

 

শপথ গ্রহনের দায়িত্ব নেয়ার তাদের এখনো ৬ মাস পরিপূর্ণ হয় নাই। কিন্তু তার আগেই বিতর্ক মন্তব্য করা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় তাদের শোকজ করেন। এই শোকজের জবাব যদি সন্তুষ্ট জনক না হয় তাহলে তারা বরখাস্ত হতে পারেন। আর এনিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা সমালোচনা চরছে। একই সাথে সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেন বছর না যেতেই তাদের কপাল পুরতে যাচ্ছে।

 

নাকি তাদের শাস্তির জন্য শোকজ করা হয়েছে। তবে সর্বশেষ জবাবের পর তা জানা যাবে।   এদিকে প্রধানমন্ত্রী ও জাতির পিতাকে নিয়ে বেফাঁস বক্তব্য ও নৌকাকে কটুক্তি করায় নারায়ণগঞ্জের এই তিন বিতর্কিত ইউপি চেয়ারম্যানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। ২৭ মার্চ এই নোটিশ পাঠানো হয়।

 

নোটিশে জাতির পিতা এবং প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে বেফাঁস বক্তব্য দেয়ায় আইনানুযায়ী কেন এই তিন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে না, তা চিঠি পাওয়ার ১০দিনের মধ্যে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠাতে বলা হয়েছে। চেয়ারম্যানরা হলেন- সোনারগাঁয়ের বারদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুব রহমান বাবুল ওরফে বাবুল,

 

বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান, আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন। এর আগে, ২৩ ফেব্রুয়ারি এই তিন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে স্মারকলিপি দেয় জেলা আওয়ামীলীগ।

 

এরপর জেলা প্রশাসক তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে ২৮ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগে চিঠি পাঠান। স্থানীয় সরকার বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, তিন চেয়ারম্যানের জবাব সন্তোষজনক না হলে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হবে।

 

উল্লেখ্য, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি একটি ঘুড়ি উৎসবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বন্দরের কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান বলেন, আমি ভিন্নমতের মানুষ। আমি যাই করি না কেন আওয়ামী লীগ করি বা জাতীয় পার্টি করি আমি ওসমান পরিবারের সৈনিক। ওসমান পরিবারের কর্মী। আমি বঙ্গবন্ধুকে চিনি না, কে শেখ হাসনিা তা চিনি না।

 

আমি শেখ মুজিবুর বুঝি না, আমি বুঝি শুধু ওসমান পরিবার। এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে সোনারগাঁয়ের বারদী ইউনিয়নের পাইকপাড়া দেওয়ান বাড়ির বাৎসরিক ওয়াজ মাহফিলে বক্তব্য রাখতে গিয়ে চেয়ারম্যান লায়ন মাহবুবুর রহমান বাবুল বলেছেন, আমি বারদীর ম্যাজিস্ট্রেট, প্রধানমন্ত্রী বারদী আসলেও আমার হুকুম লাগবে।

 

প্রশাসন আমার পক্ষে কাজ করবে, কারো ফোনে প্রশাসন আসবে না। আমি বাবুল যদি বলি সুইচ অফ, দিস ইস অফ। কারণ আমার যোগ্যতায় আমি চেয়ারম্যান হয়ে আসছি। একই দিনে আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন বলেছেন, আমি নৌকা না নিলে আরও বেশি ভোট পেতাম।

 

অন্য কেউ হলে পাসই করতো না। আমি পাশ করতে পারছি। আমি নৌকা নিয়ে নির্বাচন করায় ৯৫ ভাগের জায়গায় ৯০ ভাগ ভোট পেয়েছি। রাজনৈতিক মহল বলছেন তারা নৌকা না নিলে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে পারতেন না। নৌকা নিছে বিধায় তাদের মাঝে দুজন চেয়ারম্যান হতে পারছে। তারা কি জবাব দেন তার অপেক্ষায় আছে সচেতন রাজনৈতিক মহল।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন