Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

ত্বকীতে বিস্ফোরণ রাজাকারে সুনামি

Icon

শুভ্র কুমুদ

প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২২, ০৬:৫৮ পিএম

ত্বকীতে বিস্ফোরণ রাজাকারে সুনামি
Swapno

# ত্বকী হত্যার বিচার নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসেননি শামীম ওসামন
# রাজাকারকে মুক্তিযোদ্ধা বানানোর চেষ্টা নিয়ে বিতর্কে মুক্তিযোদ্ধারা

 

অগ্নিঝরা মার্চে নারায়ণগঞ্জেও অগ্নুৎপাত ঘটেছে। তবে দুটি আলোচিত বিষয়ই আবার নতুন করে আলোচনায় মাত্রা যোগ করেছে। ত্বকী হত্যার বিচার এবং শান্তিকমিটির অন্যতম সদস্য গোলাম রব্বী মুক্তিযুদ্ধেও সহায়ক ছিলেন এমন প্রত্যয়নপত্র নিয়ে প্রশাসনের দ্বারস্ত হওয়া বেশ কয়েক মুক্তিযোদ্ধা মার্চকে আরো বেশি উত্তপ্ত করে তোলেন।

 

এটি নিয়ে এখন অবধি তুমুল সমালোচনার ঝড় বইছে। মেধাবী ছাত্র ত্বকী হত্যার বিচার নিয়ে শামীম ওসমান ও তার পত্নী লিপি ওসমানের প্রথমবারের মতো বিচার দাবি এবং খসড়া চার্জশীট নিয়ে সন্ত্রাসনির্মূল ত্বকী মঞ্চের উত্তপ্ত জবাব-পাল্টা জবাবে গোটা মার্চেই নারায়ণগঞ্জ ছিল উত্তপ্ত।

 

তবে এসবের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে ত্বকী হত্যার বিচারে খসড়া চার্জশীট নিয়ে ওসমান পরিবারকে তুলোধুনো করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সিনিয়র আইনজীবী ও নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবুর রহমান মাসুমের বাড়ির গেটে বোমা হামলা এবং জেলা ও দায়রা জজ ও চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটসহ আইনজীবীদের উপস্থিতিতে খসড়া চার্জশীট আছে কিনা এমন প্রশ্ন যখন লিপি ওসমান ছুঁড়ে দিয়েছেন।

 

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পরপর রাজনীতেতে ক্ষয়িষ্ণু অবস্থায় থাকা একসময়ের প্রভাবশালী নেতা শামীম ওসমান প্রথমবারের মতো ত্বকী হত্যার বিচার চান, পরবর্তীতে ফেব্রুয়ারিতে আবারো আগের বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করে সংবাদ সম্মেলন করে  ত্বকী হত্যার বিচারে বিচার বিভাগীয় তদন্তের কথা জানাবেন বলেও ব্যক্ত করেন শামীম ওসমান।

 

তবে মার্চ মাস শেষ হলেও সেটি আর এখনো আলোর মুখ দেখেনি। তবে শেখ রাসেল পার্কের লেক মঞ্চে তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যার নবম বার্ষিকী স্মরণে সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চ আয়োজিত শিশু সমাবেশ ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে  শামীম ওসমানের ত্বকী হত্যার বিচার চাওয়া প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী আইভী বলেন, ‘ত্বকীকে কারা হত্যা করেছে, তা আপনি জানেন।

 

নাটক বাদ দিন, হত্যাকারী আপনার ঘরের। সৎসাহস থাকলে হত্যাকারীকে ধরিয়ে দিন। তখন বুঝব, আপনি এই বাংলাদেশের কত বড় নেতা।’ তবে এসবের উত্তর আর শামীম ওসমান দেননি। দৃশ্যপটে আসেন শামীম ওসমানের পত্নী লিপি ওসমান। তিনি বিচারক ও আইনজীবীদের নিয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ত্বকী হত্যার বিচারের ব্যাপারে খসড়া চার্জশীট নামে কিছু রয়েছে কিনা এমন প্রশ্ন তুললে বিষয়টিতে নেতিবাচক প্রভাব তৈরি হয়।

 

এই ঘটনার পরপরই চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত এক সমাবেশে সিনিয়র আইনজীবী ও সাংবাদিক মাহবুবুর রহমান মাসুম বলেন, ‘ত্বকী হত্যার পাঁচ আসামী প্রতি মাসে হাজিরা দিচ্ছে। ওই শীর্ষ বিচারকের আদালতে হাজিরা দিচ্ছে। জেলার শীর্ষ বিচারক তার সামনেই তো হয়। যারা বিচার করবে তাদের সামনে যদি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে এভাবে প্রশ্রয় দেয়া হয় তাহলে আইনের শাসন আর থাকলো না।

 

আইনের শাসন থাকবে না। তিনি আরও বলেন, আমরা যখন মামলার কূল কিনারা পাচ্ছিলাম না তখন আমরা হাইকোর্টে গেলাম। হাইকোর্ট র‌্যাবকে দায়িত্ব দিল এবং তারা এক বছরের মধ্যে শনাক্ত করলো তাদের নাম বললো। সেখানে এগারো কিলিং মিশনের কথা বলা হয়েছে। তারা বলেছে চার্জশীট রেডি চার্জশীট অচিরেই সাবমিট করা হবে। তাহলে আমরা যে চার্জশীটের কথা বলি এটা কি নাটক করি।

 

যে চার্জশীট সাবমিট হয় নাই যে চার্জশীট দাখিল হবে সেটাকে আমরা খসড়া বলবো না কেন। যতক্ষন পর্যন্ত কোর্টে সাবমিট না হবে তখন পর্যন্ত আমি এটাকে খসড়া বলতেই পারি।’ এই বক্তব্য দেয়ার রাতেই তার বাড়ির সামনের গেটে অজ্ঞাত ব্যক্তি বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটান। এঘটনায় মামলা দায়ের হলেও এখন অবধি কাউকে আইনের আওতায় আনতে পারেনি প্রশাসন। এনিয়ে সাংবাদিক ও আইনজীবীরা নানা কর্মসূচিও পালন করেছে।

 

এদিকে গণহত্যা দিবস ও স্বাধীনতা দিবসে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কুখ্যাত রাজাকার পুত্র গোলাম রব্বানীর ছেলে খালেদ হায়দার খান কাজলের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সুশীল সমাজ।  মুনতাসীর মামুনের লেখা ‘শান্তিকমিটি ১৯৭১’ বইয়ের ২২৫ পৃষ্টায় শান্তিকমিটির তালিকায় নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া ইউসিতে গোলাম রব্বানীর নাম স্পষ্ট উল্লেখ আছে।

 

এছাড়া নারায়ণগঞ্জে স্থানীয় ও সুশীল সমাজের কাছে পানির মত সহজ এক বিষয়, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক খালেদ হায়দার খান কাজলের বাবা গোলাম রব্বানী একজন কুখ্যাত শান্তিকমিটির সদস্য ছিলেন। এই সত্যটিকে মুছে দিয়ে রব্বানীকে মুক্তিযোদ্ধা বানানোর প্রয়াস নেন বেশ কয়েজন মুক্তিযোদ্ধা।

 

নারায়ণগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ থেকে ২৪ মার্চ বিকালে জেলা প্রশাসনের কাছে দেয়া প্রত্যয়ণপত্রে সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী, সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা সামিউল্লাহ মিলন, জেলার ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট নুরুল হুদা, সদ্য সাবেক নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান ভূইয়া জুলহাস, বীর মুক্তিযোদ্ধা খবির আহমেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী আবদুল মমিন,

 

বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট তারাজ উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহর আলী চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা রমিজ উদ্দিন রমু উল্লেখ করেন নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবের অস্ত্রাগারের চাবি বীর মুক্তিযোদ্ধা খবির আহম্মেদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিউদ্দিন সারোয়ার ওরফে বাবু সারোয়ারের হাতে তুলে দিয়েছিলেন।’ সুবিধা নিয়ে বিশেষ স্বার্থে কিছু মুক্তিযোদ্ধারা ইতিহাস বিকৃত করার ঘৃণ্য চেষ্টা করছে এমন অভিযোগ তুলেছেন নারায়ণগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধাসহ বিশিষ্টজনেরা।

 

নিন্দার ঝড় ওঠে সর্বত্র। মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীকে এই নীল নকশার কারিগর হিসেবেও দুষছেন তারা। তারা বলছেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর পর মৃত্যুর সামনে দাঁড়িয়ে এতো বড় জঘণ্য কাজের প্রয়াস কীজন্য নিতে গেলেন তারা। জীবন সায়াহ্নে এসে কী কী সুবিধা নিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা এমন চিহ্নিত রাজাকারকে তাদের দলে অন্তর্ভূক্ত করতে দ্বিধাবোধ করলেননা।  নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল তার প্রতিক্রিয়া বলেন, ‘এক কথায় বলতে গেলে, আমি এমন কাণ্ডে বিব্রত।

 

নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন সেই মুক্তিযোদ্ধাদেও ব্যাপারে প্রশ্ন তুলে বলেন, গোলাম রব্বানী পাকিস্তানীদের মদদদাতা ছিল সে। আমরাই তো এটা দেখেছি। সে তো পাকিস্তানিদের সাথে আতাঁত করে চলেছে। যারা এখন সুযোগ সুবিধা নিয়ে গোলাম রব্বানীর পক্ষে সাফাই গাইছে, তারা এতোদিন কেন বলেননি।

 

কোন স্বার্থে তারা এই ভোল বদলেছে এটা তারা বলবে।  সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক সহকারী কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা এহসান কবির জানান, খালেদ হায়দার খান কাজলের বাবা গোলাম রব্বানী শান্তি কমিটির সদস্য ছিল এটি প্রতিষ্ঠিত সত্য। এখন অস্বীকার করলে তাতে কিছু আসে যায়না। সত্যকে কখনোই বিকৃত করা যায়না, যাবেনা।গোলাম রব্বানী একজন স্বাধীনতা বিরোধী ব্যক্তি ছিল। এভাবে চললে তো স্বাধীনতা বিরোধীরাই পুরো বাংলাদেশ দখল করে নেবে। এটা আমাদের জন্য অনেক লজ্জার।

 

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য এড.আনিসুর রহমান দিপু বলেন, ‘মোহাম্মদ আলী বিএনপির লোক। বিএনপির কাজ হচ্ছে স্বাধীনতা বিরোধীদের গাড়িতে পতাকা তুলে দেয়া। নিজামীর গাড়িতে তারাই পতাকা তুলেছিল। তারাই রাজাকারদের পুনর্বাসিত করেছিল। তার দলের একজন লোক মোহাম্মদ আলী এমন কাজ করবে এটাই স্বাভাবিক।

 

মুনতাসির মামুন শুধু বাংলাদেশে নন, গোটা উপমহাদেশে প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ। গবেষণা করে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করার জন্য ভারত-পাকিস্তান গিয়েছেন। তার ওই বই নিয়ে বাংলাদেশের কোথাও চ্যালেঞ্জ করলনা। নারায়ণগঞ্জের একটা মহল বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য বইয়ের একটি অংশ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

 

এটা একটা কালো নজির তৈরি হল। ইতিহাস বিকৃতির কালো নজির বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর থেকে শুরু হয়েছে জিয়াউর রহমানের হাত ধরে। জিয়াউর রহমানের শিষ্যরা এখন বিভিন্নভাবে লুকিয়ে আছে রাজাকারদের প্রতিষ্ঠিত করার জন্য। তারা তাদের আদর্শ চেঞ্জ করেনি, রঙ বদলে আছে।’

 

বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে জেলা প্রশাসনের কাছে দেয়া প্রত্যয়ণপত্রে আরও বলা হয়, গোলাম রব্বানী খান আদৌ স্বাধীনতা বিরোধী কোন কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না। তিনি মুসলিম লীগের একজন নেতা ছিলেন। এবং গোলাম রব্বানী খানের পিতা মরহুম আবদুস সামাদ খান ১৯৫৪ সালে বঙ্গীয় আইন পরিষদ নির্বাচনে ‘যুক্তফ্রন্টের’র মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে রূপগঞ্জ আসনে বিপুল ভোটে এমএলএ নির্বাচিত হয়েছিলো।

 

গোলাম রব্বানী খান কলেজ রোড এলাকার মরহুম আবদুল সামাদ খানের ছেলে ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অফ কমার্সের সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল’র পিতা। সাম্প্রতিক সময়ে গোলাম রব্বানী খানকে রাজাকার আখ্যা দিয়ে নানা ভাবে প্রচার করছিলেন একটি মহল। এর প্রেক্ষিতে ২০২১ সালে ১৬ মার্চ খালেদ হায়দার কাজল মুক্তিযোদ্ধা সংসদের হস্তক্ষেপ কামনা করে একটি লিখিত আবেদন করেন।

 

এরপর সেই বছরের ২৪ মার্চ বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে বিশাদ আলোচনা ও রাজাকারের তালিকা, বিভিন্ন প্রকাশিত বই পর্যালোচনা করে প্রমাণ পান ‘গোলাম রব্বানী খান স্বাধীনতা বিরোধী ছিলো না’। প্রত্যায়নপত্রে আরো বলা হয়, ‘মুনতাসীর মামুনে’র রচিত ‘শান্তি কমিটি-১৯৭১’ বইয়ে নির্দিষ্ট কোন তথ্যাদি বা প্রমাণাদী ছাড়াই মরহুম গোলাম রব্বানী খানকে শান্তি কমিটির সদস্য উল্লেখ করেন।

 

তবে শুধু মুনতাসীর মামুন কিংবা রীতা ভৌমিকের বইয়েও নয়। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে বিভিন্ন পত্রিকায় গোলাম রব্বানী শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন এমন সত্যতাও পাওয়া যায়। ১২ মে ১৯৭১ সালে দৈনিক আজাদ পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্ট থেকে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ শহরে শান্তি কমিটি গঠিত হয়েছিল। রিপোর্টে বলা আছে, সম্প্রতি এক প্রতিনিধিত্বমূলক সমাবেশে নারায়ণগঞ্জ শহর শান্তি কমিটি গঠন করা হয়।

 

জনাব এ. আজিজ সরদারকে উক্ত উপ-কমিটির আহবায়ক নির্বাচিত করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ পৌর এলাকার বিভিন্ন ইউনিয়ন কমিটির সদস্য সংখ্যা ১১৪ জন এবং ১৪ জনকে এই কমিটি সমূহের আহবায়ক নিয়োগ করা হইয়াছে। নিম্নে ১৪ জন আহবায়কের নাম দেওয়া হইল : গোদনাইল ইউসিতে-জনাব আলতাফ হোসেন, হাজীগঞ্জ ইউসিতে জনাব এমএ বাসেত, খানপুর (পশ্চিম) ইউসিতে জনাব লতিফ সরদার, খাপুর ইউসি জনাব সুলতান খান,

 

চাষাড়া ইউসি জনাব গোলাম রব্বানী খান, দেওভোগ ইউসি জনাব জহির হোসেন, নারায়ণগঞ্জ ইউসি জনাব জহির হোসেন, নারায়ণগঞ্জ ইউসি জনাব এসএ হালিম, শীতলক্ষ্যা ইউসি জনাব লাল মিয়া, পাইকপাড়া ইউসি জনাব আবদুল জলিল, সোনাকান্দা ইউসি জনাব ইসাক মিয়া, বন্দর ইউসি জনাব মোহাম্মদ আলী, কদমরসুল ইউসি জনাব আলহাজ্ব এ লতিফ, নবীগঞ্জ ইউসি জনাব মহিউদ্দিন আহমেদ, ধামগড় ইউসি জনাব (ইন্ডাষ্ট্রিয়াল) আলহাজ্ব আবদুর রফিক।’

 

এই ১৪ জন আহবায়কের মধ্যে চাষাড়া ইউসি জনাব গোলাম রব্বানী খান ছিলেন ওই সময়কার রাইফেল ক্লাবের সেক্রেটারি। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘গত রবিবার শান্তিকমিটির উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবভবনে মিলাদুন্নবী যথাযোগ্য মর্যাদার সহিত উদযাপিত হয়। নারায়ণগঞ্জের কিছু সুবিধাবাদী মুক্তিযোদ্ধা স্বাধীনতার ৫০ বছর পর শান্তি কমিটির চাষাড়া ইউসি এর আহবায়ক গোলাম রব্বানী খানকে মুক্তিযোদ্ধা বানানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন।

 

এঘটনায় ২৬ মার্চ সিদ্ধিরগঞ্জে এক অনুষ্টানে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আইভী নারায়ণগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘মুক্তিযোদ্ধারা যেন সত্য কথা বলে। কারণ, তাদের কাছ থেকে আমাদের সত্য শেখার সময় আসছে।

 

তারা যখনি রাজাকারদের মুক্তিযোদ্ধা বানাতে চায়, তখন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে লজ্জিত বোধ করি, অপমানিত বোধ করি, অনেক বেশি কষ্ট পাই। আমি জানিনা, নারায়ণগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধা কতিপয় কেন, কি কারণে রাজাকারদের মুক্তিযোদ্ধা বানাতে চাচ্ছে? ইতিহাস তাদেরকে ক্ষমা করবেনা, নারায়ণগঞ্জের জনগণও তাদের ক্ষমা করবেনা।’

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন