Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

তারা ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে

Icon

পরিচয় প্রকাশ গুপ্ত

প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২২, ০৭:০৬ পিএম

তারা ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে
Swapno

# মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পাল্টে দিতে দেওয়ার ঘৃণ্য অপচেষ্টার পরিণতি হবে এটা

 

মাস দুই আগে পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীরপ্রতীক) মর্গ্যান গার্লস স্কুলের এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, এ দেশে বেশীরভাগ মুক্তিযোদ্ধাই আর্থিকভাবে সচ্ছল নন। এ কারণে অনেকেই তাদের অবজ্ঞা করে। মন্ত্রী গাজীর এ কথা যেমন সত্যি, তেমনি সত্যি, অসচ্ছলতার কারণেই অনেক নামধারী মুক্তিযোদ্ধা সামান্য সুবিধার বিনিময়ে মাথা বিক্রি করে ফেলেন।

 

আমরা স্যালুট জানাই সে মুক্তিযোদ্ধাকে যিনি এখনো সিনা টান করে, মেরুদণ্ড সোজা রেখে আদর্শ আঁকড়ে আছেন। যারা জীবন বাজি রেখে শক্তিশালী পাক বাহিনীকে দেশ থেকে তাড়াতে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন আমরা তাদের মাথা বিক্রি মেনে নিতে পারি না। এত কথার অবতারণা নারায়ণগঞ্জের ৪৭ জন  মুক্তিয়োদ্ধার চিহ্নিত রাজাকার গোলাম রাব্বানী খানকে মুক্তিযোদ্ধা বানানোর অপপ্রয়াসের কারণে।

 

উচ্ছিষ্টভোগী এসব মুক্তিয়োদ্ধাকে মনে রাখতে হবে, এভাবে  মাথা বিক্রি না করা বহু মুক্তিযোদ্ধা এখনো বেঁচে আছেন। হাজার হাজার মানুষ এখনো বেঁচে আছেন যারা একাত্তর দেখেছেন।

 

কে কিভাবে সমাজপতি হয়েছেন, সম্পদের পাহাড় তৈরী করেছেন  তারা তা দেখেছেন। কাজেই টাকা বা বিত্ত বৈভবের বদৌলতে যারা ইতিহাসকে নিজেদের পক্ষে নিয়ে নেবেন বলে ভাবছেন, তারা ভুল করছেন। এত সহজে ইতিহাস বদলে দেয়া যায় না। সরকার বা প্রসাশনকে ব্যবহার করেও ইতিহাস বদলে দেয়া যায় না। ইতিহাস চলে তার নিজস্ব গতিতে ও পথে। ইতিহাসকে ডিক্টেট করা যায় না। বরং, যে ইতিহাসকে পাল্টে দিতে চায়, সে ই ইতিহাসের আন্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়। এটাই ইতিহাসের নিয়ম। ইতিহাস কাউকেই ক্ষমা করে না।


আজ যারা জোট বেঁধে কালোকে সাদা, রাজাকারকে মুক্তিযোদ্ধা বানাতে চাচ্ছেন, তারাও একদিন ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবেন। তারা অবশ্যই সাচ্চা মুক্তিযোদ্ধা নন। হতে পারেন তারা সনদধারী মুক্তিযোদ্ধা। কারণ, ট্রেনিং নিতে নিতে দেশ স্বাধীন হয়ে গেছে, যুদ্ধ করতে হয়নি (যাদের সিক্সটিনথ্ ডিভিশন বলা হয়) এবং ১৬ ডিসেম্বরের পর সনদ কিনে বা জাল করে মুক্তিযোদ্ধা হয়েছেন এ দেশে এমন মুক্তিযোদ্ধারও অভাব নেই।

 

মুক্তিযোদ্ধা যাদুঘরের গবেষণা থেকে জানা যায়, একাত্তরে যারা জীবন বাজী রেখে যুদ্ধ করেছেন, এমন মুক্তিযোদ্ধাদের শতকরা ৮০ জনই গ্রামের কৃষকের সন্তান। সবচেয়ে মজার ব্যপার, এরা মুক্তিযুদ্ধের সনদও নেয়নি। না নেয়ার পেছনে এদের যুক্তি ছিল, মাটির টানে, হৃদয়ের টানে মুক্তযুদ্ধে গেছি, সনদ বা সুবিধা নেয়ার জন্যতো যাইনি। সে সময় তারা অবশ্য ভাবেওনি সনদ থাকলে ভবিষ্যতে ভাতা ও নানা সুবিধা পাওয়া যাবে।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন