# তার বিচ্ছু বাহিনীর ৮ জন র্যাবের জালে গ্রেপ্তার
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার গোগনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফজর আলীর নানা অনিয়ম নিয়ে একের পর এক মুখ খুলতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে গোগনগর ইউনিয়নের নাগরিক সেবা নিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের কথা তুলে ধরেছেন মানুষ। সেই সাথে গৃহহীন নির্মানে মানুষের কাছে অর্থ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সচেতন মহল প্রশ্ন তুলে বলেন, যারা এই সকল অনিয়মকে নিয়মে পরিনত করে নানা অপরাধ করে যাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা আরও বেশি অনিয়ম করতে সাহস পায়। সূত্রমতে জানাযায়, এছাড়াও গোগনগরের ফজর আলীর রয়েছে বিচ্ছু বাহিনী। যারা বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে থাকেন। গত কয়েক দিন আগে এই সন্ত্রাসী বাহিনীর ৮ সদস্য র্যাবের জালে গ্রেপ্তার হন। তাদের সাথে দেশিয় অস্ত্র পাওয়া যায়।
এদিকে বঙ্গবন্ধুকে অবজ্ঞা, প্রধানমন্ত্রীকে অবমাননা এবং নৌকাকে অবজ্ঞা করে জেলার তিন চেয়ারম্যান বক্তব্য প্রদান করায় স্থানীয় মন্ত্রণালয় তাদের শোকজ করেছে। এই শোকজে তিন চেয়ারম্যানের জবাব সন্তুষ্ট জনক না হলে তারা বরখাস্ত পর্যন্ত হতে পারেন। রাজনৈতিক মহলের মতে এনিয়ে তারা অনেকটা আতঙ্কে আছেন।
এই তিন চেয়ারম্যান হলেন সোনারগাঁ উপজেলা বারদি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লায়ন মো.বাবুল, বন্দর উপেজলা কলাগাছিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন এবং আলীরটেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য শোকজ করা হলেও গোগনগর ইউপির চেয়ারম্যান ফজর আলীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ায় তিনি ফুরফুরে মেজাজে দিব্বি একের পর এক অনিয়ম করে যাচ্ছে।
যার প্রতিবাদ করার সাহস হারিয়ে ফেলছে মানুষ। কেননা এই জনপ্রতিনিধির মাথার উপর শহরের প্রভাবশালি পরিবারের আশীর্বাদ আছে। যার ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায়না। সচেতন মহলের মতে এই ভাবে যদি একের পর এক অনিয়ম চলতে থাকে তাহলে মানুষকে অসহায় থেকে তাদের কাছে জিম্মি হয়ে থাকতে হবে। এখনি তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় গোগগনগর এলাকা আরেক অপরাধের স্বর্গরাজ্য হতে পারে। তার লাগাম টেনে ধরতে হলে এখনি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
অন্যদিকে গত কয়েকদিন যাবৎ গণমাধ্যমে গোগনগর ইউনিয়নে জন্ম সনদ, ট্রেড লাইসেন্স, ওয়ারিশ সনদে মানুষের কাছে অতিরিক্ত টাকা আদায়। এছাড়াও সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নিজে গৃহহীন ঘর নির্মান প্রকল্প বরাদ্ধে ঘর যাদের দেয়া হবে তাদের থেকে কোন ভাবেই অর্থ না নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে। অথচ এই নির্দেশকে উপেক্ষা করে গোগনগরের মেম্বাররা এক একজনের কাছ থেকে এক এক ভাবে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। তা নিয়ে ভুক্তোভোগিদের গোপন রাখার জন্য বলেন।
গত কয়েকদিন আগে গোগনগর হতে ৮ সন্ত্রাসীকে দেশীয় অস্ত্র সহ গ্রেপ্তার করেন র্যাব ১১। সোমবার (২৮ মার্চ) সকালে র্যাব ১১ নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় এই ৮ আসামীকে হস্তান্তর করে।
এর আগে গত ২৭ মার্চ দুপুর ২টা ১০ মিনিটে গোগনগর ইউনিয়ন থেকে ১টি ছোড়া, ১টি চাপাতি, ২টি প্লাস্টিক লাঠি, ৩টি কাটের লাঠি ও ১টি হকস্টিক সহ ৮ আসামীকে গ্রেফতার করে। গ্রেপ্তার কৃত আসামীরা হলেন, রানা (৩৫), কাশেম (৩০), ইসমাইল (৩৮), মোহাম্মদ আলী (৪৩), মঞ্জুরুল (৩৪), সেলিম (২৫), মোস্তাফিজুর রহমান (৩৫) এবং সালাউদ্দিন (৩৫)।
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান তারা প্রত্যেকেই গোগনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফজর আলীর শেল্টারে এই বিচ্ছু বাহিনী অপকর্ম করেন। তাদের অপকর্ম নিয়ে কেউ মুখ খুললেই তাদের বাড়ীতে হামলা হয়।


