# নৈমত্তিক অত্যাচারে বিরক্ত গ্রাহক
# জালের মতো ছড়িয়ে দালাল, সুরাহার উদ্যোগ নেই
তিতাসের হয়রানি নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই। এর মধ্যে গ্যাস সরবরাহ না থাকা, এক মাসের বকেয়া থাকলেই কোন সতর্ক বার্তা না দিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা, নতুন সংযোগের অনুমতি না থাকার পরও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেয়া, এবং অবৈধ সংযোগ কারীরা নিয়মিত মাসোহারা না দিলে তিতাসের কর্মকর্তার মাধ্যমে তাদের হয়রানি করা ইত্যাদি ইত্যাদি।
তবে তিতাসের লাইনে গ্যাস থাকুক আর না থাকুক অর্থাৎ লাইনে গ্যাস সরবরাহ না থাকলেও প্রতিমাসে গ্রাহকদের বিল দেওয়া বাধ্যতামূলক। অন্যদিকে গ্যাস সরবরাহ নাই কেন, এই অভিযোগ শোনাও তিতাস কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব না বলে জানান তারা। এই বিষয় জানাতে হবে সরাসরি সরকারকে। বর্তমানে বৈধ সংযোগ যতগুলো আছে অবৈধ সংযোগ তার চেয়েও অনেক বেশি আছে বলে বিভিন্ন সংস্থার জরিপে উঠে এসেছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায় এসব অবৈধ সংযোগ কিন্তু কোন ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠান এককভাবে দিচ্ছে না।
এখানে জড়িত আছে স্থানীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি, পঞ্চায়েত প্রধান এবং এদের প্রত্যেকটি বিভাগের সাথে তিতাসের কোন না কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীর আঁতাত আছে বলে জানা যায়।
বেশিরভাগ অবৈধ সংযোগ উচ্ছেদের প্রাক্কালে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানিয়ে দেয়া হয় কোন অঞ্চলে অভিযানে যাওয়া হবে। ফলে সেখানকার অবৈধ সংযোগকারীরা সীমিত সময়ের জন্য তাদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখে এবং তারা চলে আসলে পুনরায় সংযোগ দেওয়া হয়। অন্যদিকে যেসব জায়গায় তিতাসের অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় সেসব লাইন কিন্তু আর বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকে না।
একদিকে সিন্ডিকেটের এসব অসাধু চক্রের সদস্যরা অবৈধ উপায়ে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। অন্যদিকে সরকার শত শত কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিততো হচ্ছেই, একই সাথে এসব গ্যাসের চাহিদা মিটাতে সরকারকে বেশি দামে গ্যাস কিনে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে প্রতি বছর। এরই মধ্যে তিতাসের অনেক সাধারণ মানের কর্মকর্তা বা কর্মচারীও এখন বিশাল অর্থ বৈভবের মালিক হয়ে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গেছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এরই মধ্যে এসব দুর্নীতির সাথে তিতাসের কারা কারা জড়িত আছে সেই বিষয়ে তদন্তের মাঠে নেমেছে দুদক।
তিতাসের সূত্রে জানা যায় ৬টি ভাগে এই সংযোগ গুলো দেওয়া হয়। এগুলো হলো ১. আবাসিক (নন মিটার ও মিটার যুক্ত সংযোগ) ২. বাণিজ্যিক সংযোগ, ৩. ক্যাপটিভ সংযোগ, ৪. সাধারণ শিল্প ৫. সিএনজি ও ৬.ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প (চুনা) সংযোগ। ২টি জোনে ১৯টি গ্যাস সরবরাহ স্টেশনের মাধ্যমে এগুলো সরবরাহ করা হয়।
জোন-১ আবিবি-নারায়ণগঞ্জ এলাকা:- ১) সিদ্ধিরগঞ্জ টিবিএস, ২) গোদনাইল টিবিএস, ৩) আদমজী ইপিজেড ডিআরএস, ৪) কদমতলী ডিআরএস, ৫) পাগলা ডিআরএস, ৬) ফতুল্লা ডিআরএস, ৭) পঞ্চবটি ডিআরএস ও ৮) মুক্তারপুর ডিআরএস।
জোন-২ আবিবি-সোনারগাও এলাকা:- ১) গজারিয়া টিবিএস, ২) মেঘনা ঘাট টিবিএস, ৩) সোনারগাও টিবিএস, ৪) লক্ষণখোলা ডিআরএস, ৫) হরিপুর টিবিএস, ৬) দ্বিঘী বারাবো টিবিএস, ৭) তারাবো টিবিএস, ৮) ভুলতা ডিআরএস, ৯) আড়াইহাজার টিবিএস, ১০) কাঞ্চন ডিআরএস ও ১১) দেওয়ানবাগ ডিআরএস।
নাসিক বন্দরের ২২ নং ওয়ার্ডের এক নারী গ্রাহক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গ্যাস সংযোগ বন্ধ হওয়ার অনেক আগেই তিনি এক ঠিকাদারের মাধ্যমে গ্যাস সংযোগের জন্য টাকা জমা দেন। সে সময় টাকা জমার রশীদসহ তার কাছে বেশ কিছু কাগজপত্র তুলে দেওয়া হয়। লাইন বন্ধ হওয়ার কয়েক দিন আগে তাকে বিল জমা প্রদানের বই সরবরাহ করা হয়।
তারপর থেকে তিনি নিয়মিত বিল জমা দিয়ে যাচ্ছেন। এর মধ্যে বিভিন্ন সময় তিনি কাঁচপুরে অবস্থিত আঞ্চলিক অফিসে গিয়েও বিল জমা প্রদান করেছেন। কিন্তু বছর তিন-এক আগে তার এক প্রভাবশালী প্রতিবেশির সাথে তার দ্বন্দ্ব হলে তার বাসায় তিতাসের অফিস থেকে তল্লাশি আসে। তখন সে তার জমা বহি দেখালে তারা তাকে অফিসে দেখা করতে বলে। পরে তিনি কাঁচপুর অফিসে দেখা করে জানতে পারেন কম্পিউটারে তার নামে কোন টাকা জমা হয়নি।
হাজীগঞ্জ এলাকার ইমরুল কায়েস জানান, তিনি ২০১১ সালে গ্যাস লাইনের নতুন সংযোগ বন্ধ থাকাবস্থায় যখন শুনছিলেন শীঘ্রই সংযোগ দেওয়া শুরু হবে তখনই স্থানীয় এক ঠিকারের সাথে ২৫ হাজার টাকায় চুক্তি করি। তিনি আশ্বাস দিয়েছিলেন নতুন সংযোগ শুরু হওয়ার সাথে সাথেই তিনি সংযোগ পাবেন। যখন নতুন করে সংযোগ দেওয়া শুরু হয় তখন তাকে দেই দিচ্ছি করে সময় পার করে দেন তার মধ্যে অতিরিক্ত আরও প্রায় ৮ হাজার টাকা নেন তার কাছ থেকে।
কিন্তু এর মধ্যে নতুন করে আবারও সংযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি আর সংযোগ পাননি। এ বিষয়ে ঠিকাদারের সাথে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ তিনি জানিয়েছেন আমিতো টাকা জমা দিয়ে দিছি। টাকা ফেরত দিব কিভাবে। সরাসরি সংযোগ না নিয়ে দালালের মাধ্যমে সংযোগ নিতে চেয়েছেন কেন জানতে চাইলে তিনি জানান, এক আত্মীয়ের সাথে তার নতুন লাইনের জন্য আমি তিতাসের অফিসে কয়েকদিন গিয়েছি।
কিন্তু সেখানে কোন কাগজপত্রই বড় অফিসারের সই হয় না। কোন না কোন অজুহাতে শুধু সময়ক্ষেপণ করেন। আসলে টাকা ছাড়া কিছুই হয় না। তাই এসব ঝামেল দুর করতে বাধ্য হয়েই ঠিকাদারের শরণাপন্ন হতে হয়েছে।


