Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

প্রভাবশালী মহল জড়িত বলে ত্বকী হত্যার বিচার হয়নি

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২২, ০৭:২৩ পিএম

প্রভাবশালী মহল জড়িত বলে ত্বকী হত্যার বিচার হয়নি
Swapno

গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ রাশেদ খান বলেছেন, ‘নারায়ণগঞ্জে ২০১৩ সালে ত্বকীর মতো মেধাবী ছাত্রকে হত্যা করেছিল। বিচার হয়নি। ২০১৪ সালে র‌্যাব একটি প্রতিবেদন দাখিল করতে চেয়েছিল, প্রেস ব্রিফিংও করেছিল। কিন্তু সেই প্রতিবেদন দাখিল করে নাই র‌্যাব।

 

কারণ ত্বকী হত্যার সাথে একটি প্রভাবশালী মহল জড়িত। প্রভাবশালী মহলটির বিচার করলে শেখ হাসিনা সরকারের গদি টিকবে না বলে ত্বকী হত্যার বিচার হয়নি।’ শুক্রবার (১ মার্চ) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে এক গণসমাবেশে এইসব কথা বলেন তিনি।’


তিনি আরও বলেন, ‘সাতখুন মামলার বিচার প্রক্রিয়াও চলছে। এই বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলেও মনে হয় না। সাতখুন মামলার আসামি তৎকালীন র‌্যাবের অধিনায়ক তারেক সাহেব প্রভাবশালী সাবেক এক মন্ত্রীর জামাতা। সুতরাং বিচার হওয়ার কোন সুযোগ নাই।’


রাশেদ খান বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ ভোটাধিকারের জন্য পথে-প্রান্তরে চিৎকার করছে। খাদ্যের জন্য টিসিবির গাড়ির পেছনে লাইন ধরছে। এই হচ্ছে দেশের বাস্তবতা। কিন্তু ক্ষমতাসীনদের এই বাস্তবতা স্বীকার করে না। তারা বলে, আমরা নাকি ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় ধনী হয়ে গিয়েছি। ১০ টাকা কেজি চালের কথা বলে ৭০ টাকায় খাওয়ানো হচ্ছে। সরকার ঘরে ঘরে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ঘরে ঘরে মামলা দিয়েছে।’


তিনি বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের অগ্নিকন্যা সিটি করপোরেশনের মেয়র আইভী আপার ভেতরে যথেষ্ট সহনশীলতা রয়েছে। তাকে আমি শ্রদ্ধা জানাই। তিনি মানুষকে রাজনীতি করার যথেষ্ট সুযোগ দেন, ভিন্নমতকে সহ্য করেন। শামীম ওসমান এমপি হতে পারেন কিন্তু কোন মন্ত্রী না। তাকে সারা বাংলাদেশের মানুষ চেনে। তাকে চেনার অনেক কারণও আছে। অনেক কথাই বলতে চাই কিন্তু বলতে পারি না। বাংলাদেশের মানুষ অনেক কথাই বলতে চায় কিন্তু বলতে পারি না। ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট এই কারণেই তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু আমরা থেমে যাবো না।’


গণঅধিকার পরিষদের এই নেতা বলেন, ‘মানুষ খাবার ও মানবাধিকারের জন্য চিৎকার করছে। মুক্তিযুদ্ধের তিনটি ছিল- সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার। কিন্তু এই তিন মূলনীতির বাস্তবায়ন এখনও হয়নি।’ গণঅধিকার পরিষদের অন্য নেতারা বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতি আগেও জনগণের হাতে ছিল না। এখন রাজনীতিবিদদের হাতেও নেই।

 

সবকিছু সিন্ডিকেটের হাতে চলে গিয়েছে। এই কারণে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে ব্যর্থ সরকার। মুক্তিযুদ্ধে আওয়ামী লীগের ভূমিকা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে সেই আওয়ামী লীগের আমলেই ১৯৭৪ সালে দুর্ভিক্ষ হয়েছিল। বাহাত্তরের পরে হেলিকপ্টারে ভোটের বাক্স নিয়ে যেতে হয়েছিল। আমরা আমাদের মাথাপিছু ২৬০০ টাকা আয়ের হিসাব চাই।

 

আমরা আমাদের ভোটের অধিকার চাই, ন্যায্য দামে চাল কিনে ভাতের অধিকার চাই।’ দুপুর তিনটা থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে এই সমাবেশ। যুব অধিকার পরিষদ জেলা কমিটির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার নাহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এই সময় আরও বক্তব্য রাখেন গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সাদ্দাম হোসেন, আবু হানিফ, এরশাদ সিদ্দিকী, জিসান মাহমুদ, যুগ্ম সদস্যসচিব সাইফুল্লাহ হায়দার,

 

আতাউল্লাহ, যুব অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি মঞ্জুর মোর্শেদ, সাধারণ সম্পাদক নাদিম হোসেন, ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি উম্মে হাবিবা আলভি, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান, যুব অধিকার পরিষদের দপ্তর সম্পাদক ইমরান আল নাজির, ছাত্র অধিকার পরিষদের জেলা সভাপতি আরিয়ান রিপন, সাধারণ সম্পাদক তাসরিফুল হক, মহানগরের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আফসার প্রমুখ।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন