Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

রমজানকে ঘিরে সক্রিয় ছিনতাইকারী চক্র

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২২, ০৫:৩৭ পিএম

রমজানকে ঘিরে সক্রিয় ছিনতাইকারী চক্র
Swapno

# বেশ কয়েকটি টিম মাঠে নেমেছে : ভারপ্রাপ্ত এসপি

 

রমজানকে ঘিরে কৌশল নিয়ে মাঠে তৎপরতা চালাচ্ছে অজ্ঞান ও মলম পার্টির কয়েকশ সদস্য। এই চক্রের সদস্যরা ক্রেতা সেজে রমজানের সময় বিভিন্ন মার্কেট এবং ভিড়ে মিশে যায়।

 

সুযোগ বুঝে ভিড়ের মাঝে নারীদের ব্যাগ থেকে টাকা পয়সা ছিনতাই, চুরি করে নিয়ে যায়। আবার অনেক সময় মানুষদের অজ্ঞান করে তার সব কিছু লুটপাট করে নিঃস্ব করে নেন অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা। বিশেষ করে এই চক্রের হোতারা বিভিন্ন ব্যাংকের সামনে থেকে ব্যাংক থেকে বের হওয়া ব্যক্তিদের টার্গেট। করে। আর এতে করে অনেক অসহায় মানুষ তীল তীল করে জমানো টাকা হারিয়ে সর্ব হারা হন।

 
খোঁজ নিয়ে জানাযায়, যাত্রী বেশে গাড়িতে উঠে প্রথমে পাশের যাত্রীর সঙ্গে সখ্য তৈরি করে। ইফতারের সময় নিজে এবং আশপাশে যাত্রীবেশে থাকা চক্রের অন্য সদস্যদের ইফতার খাইয়ে বিশ্বাস অর্জন করে।

 

এরপর আগে থেকে চেতনানাশক ওষুধ মিশ্রিত ইফতারের খাবার (জুস, ডাব, পানি) টার্গেট ব্যক্তিকে খাইয়ে অজ্ঞান করে লুটে নেয় সর্বস্ব। আবার ইফতারির সময় ফেরিওয়ালা সেজে নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশ্রিত খাবার নিয়ে মানুষকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তা খাওয়ায়। তাদের টার্গেট করা ব্যক্তিকে আগ্রহী করে চেতনানাশক ওষুধ মিশ্রিত খাবার দেয়। ওই খাবার খেয়ে সাধারণ মানুষ অজ্ঞান হয়ে পড়লে সুযোগ বুঝে সর্বস্ব লুটে নেয় তারা।


আবার কখনো সিএনজি চালক সেজে গাড়িতে যাত্রী ওঠায়। এরপর কিছু দূরে গিয়ে পানি খাওয়ার কথা বলে গাড়ি থামায়। নিজে খাওয়ার পাশাপাশি যাত্রীকে খাওয়ার অনুরোধ করে। পরে যাত্রী অজ্ঞান হয়ে পড়লে নির্জন কোনো স্থানে যাত্রীকে ফেলে দিয়ে মালামাল নিয়ে চম্পট দেয়। আর এ ক্ষেত্রে সন্ধ্যার পর থেকে রাতের সময়কে বেছে নেয় তারা। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন মার্কেটে প্রবেশ করে নারীদের টার্গেট করে তাদের ব্যাগ ছিন্তাই করে পালিয়ে যায়। তাদের এই চক্রের সাথে প্রতিটি গ্রুপে অন্তত ৫ জন করে থাকে। আবার অনেক সময় আরও বেশি থাকে।


এদিকে নগরীর, ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল, ২ নম্বর রেলগেট মোড়, চাষাঢ়া মোড়, ১ নম্বর রেলগেট, বাস স্ট্যান্ড, বন্দর টার্মিনাল ঘাট, নগরীর মাকের্ট গুলো সহ প্রায় ১০টি স্পটে এ রকম শতাধিক ভয়ঙ্কর প্রতারক তৎপর রয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও বসে নেই।

 

জেলার বিভিন্ন থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের প্রায় সব ইউনিট ছিনতাইকারী, অজ্ঞান ও মলমপার্টির সদস্যদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে। সচেতন মহল জানান, সরল ও নিরীহ মানুষদের টার্গেট করে তাদের সঙ্গে কৌশলে আলাপচারিতার মাধ্যমে ইফতারির খাদ্যদ্রব্যসহ চা, ডাব, পানি ও জুস ইত্যাদি বিভিন্ন খাবার খাওয়ার অনুরোধ করে। রাজি হলে তাদের চেতনানাশক ট্যাবলেট মিশ্রিত চা, ডাব, পানি ও জুস খাওয়ায়। খাবার খেয়ে যাত্রীরা অজ্ঞান হলে তাদের সঙ্গে থাকা টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে পালিয়ে যায়।


এছাড়া নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মানুষদের এবং মার্কেটে আসা ক্রেতাদের কৌশলে ও সরলতার সুযোগে নাক, মুখ ও চোখে চেতনানাশক মলম লাগিয়ে তাদের কাছ থেকে টাকা, মোবাইল, ব্যাগ ও স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেয়।


গত কয়েকদিন আগে ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে পাইকপাড়া কাকুলি আক্তার নামে এক নারী ডাক্তার দেখাতে আসে তখন ছিনতাইকারীর এক সদস্য তার ব্যাগ ছিনতাই করে নিয়ে যায়। তখন তিনি চিৎকার করেও তেমন কোন সহযোগিতা পান নাই। এই রমজান আসলেই মানুষ মার্কেটে হুমড়ি খেয়ে পরে। সারা বছরের তুলনায় এই সময় মানুষ একটু বেশি কেনা কাটা করেন। আর অপরাধ চক্রের সদস্যরা এই সময়ে সুযোগ কাটিয়ে অনেক মানুষকে নিঃস্ব করে। এই সময় প্রশাসন হতে মানুষকে সচেতন থাকার আহবান জানানো হয়। সেই সাথে সকলকে সচেতন থাকতে হবে।


এবিষয়ে জেলা ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ‘আমাদের পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ হতে বড় বড় মার্কেট গুলোতে বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে। সেই সাথে ছিনতাইকারী বা অজ্ঞান পার্টির সদস্যদের ধরার জন্য আমাদের অভিযান হচ্ছে। পাশাপাশি এই রমজানে শহরের ব্যাংক এবং মার্কেট গুলোতে আমাদের পুলিশ প্রশাসনের সাদা পোশাকধারীসহ একাধিক টিম কাজ করছে। কোন অপরাধকেই ছাড় দেয়া হবে না।’
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন