# চুক্তিবদ্ধ ইলেক্ট্রিশিয়ানরা দালালের ভূমিকায় কাজ করে : গ্রাহক
# মিটারের মূল্য পরিশোধ হলে মিটার ভাড়া বন্ধ হয়ে যাবে : এজিএম
ডিজিটাল বাংলাদেশ ও ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে অন্যান্য ব্যবস্থার সাথে সাথে আধুনিকায়ন করা হয়েছে বৈদ্যুতিক গ্রাহক সেবার মান। তারই সূত্র ধরে আমাদের দেশের যে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয় এর সদ্বব্যবহার, অগ্রিম রাজস্ব আদায়, ওভারলোড নিয়ন্ত্রণ, পরিমিত বিদ্যুৎ ব্যবহারে উৎসাহিত করা, বিলিং এর জনবল খরচ হ্রাস করা, বিলিং ওভারহেড (কাগজ/কালি) হ্রাস করাসহ বিভিন্ন সুবিধা তৈরির জন্য ২০১১ সালে প্রি-পেমেন্ট মিটার এর প্রবর্তন করেন।
যা বর্তমানে ডিজিটাল পি-পেইড মিটার নামে পরিচিত। বর্তমানে এই মিটারসমূহের বিলিং ব্যবস্থা আরো আধুনিকায়ন করে অন-লাইনের মাধ্যমে পেমেন্টের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। তাই এখন আর বিল পে করার জন্য ব্যাংকে কিংবা বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন হয় না।
এই বিল পে করার জন্য প্রত্যেকটি এলাকায় কাস্টমার সার্ভিসের ব্যবস্থাতো আছেই একই সাথে ইচ্ছে করলে ঘরে বসেই মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিল পে করে দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ নিরবিচ্ছিন্ন রাখা যায়। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিদ্যুৎ বিল বিলিং সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালনা করা হয় এবং বিদ্যুৎ বিলের তথ্য সকল গ্রাহকদের এসএমএস এর মাধ্যমে জানানো হয়।
বর্তমানে পল্লী বিদ্যুতের যে প্রি পেইড মিটারের সংযোগ দেওয়া হচ্ছে বা আছে তাতে বিদ্যুতের ইউনিট অনুযায়ী যে খরচ হয় তার বাইরেও গ্রাহককে কিছু অতিরিক্ত খরচ করতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া এবং ভ্যাট। এর মধ্যে ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া প্রতি মাসে একবার নেওয়া হয় কিন্তু যতবার টাকা লোড করা হবে তার প্রতিবারই শতকরা ৫ টাকা হারে ভ্যাট প্রদান করতে হবে।
আবাসিক সংযোগে ডিমান্ড চার্জের হার প্রতি কিলো ওয়াট সংযোগের জন্য মাসে ৩০ টাকা এবং মিটার ভাড়া প্রতিমাসে ৪০ টাকা দিতে হবে। তবে মিটার ভাড়া কত মাস পর্যন্ত দেওয়া হবে কিংবা আজীবন দেওয়া হবে কি না তার নির্দিষ্ট কোন তথ্য গ্রাহকদের জানানো হয়নি।
অর্থাৎ ২ কিলোওয়াটের একটি সংযোগে যদি কোন মাসে একবার ৫০০ টাকা লোড করা হয় তাহলে তা থেকে ডিমান্ড চার্জ ৬০ টাকা (৩০ টাকা হারে) মিটার ভাড়া ৪০টাকা অর্থাৎ ১০০ টাকা এবং তার সাথে শতকরা ৫টাকা ভ্যাট কাটার পর প্রায় ১২০ টাকার মতো কেটে নিয়ে মিটারে যোগ হবে ৩৮০টাকার মতো।
এখানে গ্রাহকদের সুবিধার জন্য কিছু শর্ট কোড দেওয়া হলো। ০০ ইমারজেন্সি ক্রেডিট চালু করা, ৮০১ বর্তমান টাকার পরিমান, ৮১৩ গত দিনের বিদ্যুতের ব্যাবহার, ৮১৪ বর্তমান মাসের বিদ্যুত ব্যাবহার পরিমান, ৮১৫ গত রিচার্জের তারিখ,
৮১৬ গত রিচার্জের সময়, ৮১৭ গত রিচার্জের পরিমান, ৮২০ গত মাসের বিদ্যুতের ব্যাবহার, ৮২১ গত দুই মাসের বিদ্যুতের ব্যাবহার, ৮২২ গত তিন মাসের বিদ্যুতের ব্যাবহার, ৮২৩ গত চার মাসের বিদ্যুতের ব্যাবহার, ৮৩০ গত রিচার্জ টোকেন কোড দেখার জন্য।
বন্দরের বিভিন্ন গ্রাহকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পল্লী বিদ্যুতের মিটার সংযোগ প্রদান কালে প্রতিটি গ্রাহককে মিটারের সার্ভিস ম্যানুয়েল দেওয়ার নিয়ম থাকলেও কোন সার্ভিস ম্যানুয়েল তাদেরকে প্রদান করা হয়নি। শুধুমাত্র ব্যালেন্স চেক করা এবং ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স লোন নেওয়া এই দুটি কোড ছাড়া সাধারণ গ্রাহকরা মিটারের অন্য কোড নাম্বারই জানে না।
যার ফলে ছোট খাট সমস্যা হলেই গ্রাহকদের ছুটতে হয় পল্লী বিদ্যুতের অফিসে। সেখানে গিয়ে পড়তে হয় দালালদের হাতে। গ্রাহকদের অভিযোগ এই তালিকা তারা ইচ্ছে করেই দেয় না। কারণ এতে সামান্য কোন সমস্যা দেখা দিলেই পল্লী বিদ্যুতের কারিগরদের ডাকতে হয় এবং এতে করে তাদের আলাদা একটি আয়ের ব্যবস্থা থাকে। কিন্তু সাধারণ সমস্যা যদি এই তালিকা দেখে গ্রাহকরাই সমাধান করে ফেলে তাহলে তাদের লাভ হবে কি করে।
যদিও এই লাভের অংশের সাথে অফিসের বড় কর্তারা জড়িত থাকে না। তবে অফিসের কিছু নিম্নশ্রেণির কর্মকর্তার সাথে হাত মিলিয়ে পল্লী বিদ্যুতের সাথে চুক্তিবদ্ধ ইলেকট্রিশিয়ান হয়ে যারা ফিল্ডে কাজ করে, তারা এই সুযোগটা বেশি নেয়। দালালের ভূমিকা পালন করে পল্লী বিদ্যুতের সেসব কর্মকর্তা ও গ্রাহকদের সাথে মধ্যস্থতা করে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকায় চুক্তি করে তারা। এর বাইরেও ফ্রি সার্ভিসের অনেক সার্ভিসেই তারা বকশিশের নাম করে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা আদায় করে নেয়।
নারায়ণগঞ্জ পবিস-১ (সদর দপ্তর) এর এজিএম (এমএস) প্রকৌশলী মো. জাফর সাদিক খান জানান, আগেকার এনালগ মিটারের ডিমান্ড চার্জ মাস শেসে বিলের সাথে নেওয়া হতো। এখনকার মিটারগুলো প্রি-পেইড হওয়ায় সেগুলো তা টাকা লোড করার সময়ই কেটে নেওয়া হয়। আগেকার সিস্টেমে সংযোগের সময় মিটারের মূল্য নিয়ে নেওয়া হতো, কিন্তু প্রি-পেইড মিটারের সংযোগের সময় কোন মূল্য নেওয়া হয় না।
তাই মিটারের মূল্য কাটা হয়ে গেলে তখন থেকে আর মিটার ভাড়া নেওয়া হবে না। তবে তিনি দাবি করেন প্রত্যেক গ্রাহককে মিটার সংযোগের সময় সার্ভিস ম্যানুয়েল দেওয়া হয়েছে। আবাসিক বিদ্যুতের ইউনিট চার্জের বিষয়ে তিনি জানান, বিদ্যুৎ খরচ হিসেবে লাইফ লাইনে ০ থেকে ৫০ ইউনিট পর্যন্ত ৩ টাকা ৭৫ পয়সা টাকা করে বিল কাটা হয়।
এছাড়া সাধারণ সংযোগে প্রথম ধাপে ০ থেকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত প্রতি ইউনিটে ৪ টাকা ১৯ পয়সা, দ্বিতীয় ধাপে ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত প্রতি ইউনিটে ৫ টাকা ৭২ পয়সা, তৃতীয় ধাপে ২০১ থেকে ৩০০ ইউনিট পর্যন্ত প্রতি ইউনিটে ৬ টাকা,
চতুর্থ ধাপে ৩০১ থেকে ৪০০ ইউনিট ৬ টাকা ৩৪ পয়সা, পঞ্চম ধাপে ৪০১ থেকে ৬০০ ইউনিট পর্যন্ত প্রতি ইউনিটে ৯ টাকা ৯৪ পয়সা এবং ষষ্ঠ ধাপে ৬০০ ইউনিটের উর্দ্ধে ইউনিট প্রতি ১১ টাকা ৪৬ পয়সা হারে বিদ্যুত বিল কেটে নেওয়া হয়।


