Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে জোর দেওয়ার দাবি মেয়র আইভীর

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২২, ০৫:৪৫ পিএম

স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে জোর দেওয়ার দাবি মেয়র আইভীর
Swapno

স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে জোর দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। তিনি বলেন, কোভিডের সময় কাজ করতে গিয়ে দেখেছি আমাদের স্বাস্থ্যসেবায় কী পরিমাণ ঘাটতি আছে। চিকিৎসকরা জীবন বাজি রেখে কাজ করেছে। তারপরও তখন চেইন অব কমান্ড ছিল না।

 

কারণ এই ধরনের সংকটে এর আগে আমরা পড়ি নাই। যেহেতু এই ধরনের সংকট মোকাবেলা আমরা করতে পেরেছি সুতরাং আমাদের স্বাস্থ্যখাত ঢেলে সাজানো প্রয়োজন। স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাখাতে যদি আমরা জোর না দেই তাহলে এই জাতি দাঁড়াতে পারবে না। তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে চব্বিশ ঘন্টা চিকিৎসকদের পেতে হবে।

 

ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবাও যেন সরকারি হাসপাতালের মাধ্যমে পেতে পারে সেটি নিশ্চিত করতে হবে।বুধবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নারায়ণগঞ্জ নগরীর দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য ‘ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা ও মাইক্রো হেলথ ইন্সুরেন্স’ এর পাইলটিং কার্যক্রম উদ্বোধনী কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এইসব কথা বলেন। নগরীর আলী আহাম্মদ চুনকা নগর পাঠাগার ও মিলনায়তনে এই আয়োজন করা হয়।


তিনি আরও বলেন, খাদ্যে ভেজাল, অ্যান্টিবায়োটিকে আটা-ময়দা পাওয়া যাচ্ছে। খাদ্যের মধ্যে ভেজাল রোধে কাজ করতে হবে। এটি নিয়ে ব্যাপকভাবে আলোচনা করতে হবে। আমাদের পুরো স্বাস্থ্যসেবা ভারত আর ব্যাংককে চলে গেছে। ধনীদের জন্য ব্যাংকক, সিঙ্গাপুর আর মধ্যবিত্তদের জন্য ভারত। দেশে বড় বড় কিছু ক্লিনিক আছে কিন্তু সেগুলোতে কেবল তারাই যেতে পারছে যাদের পকেট ভর্তি টাকা।

 

এদিক থেকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। প্রধানমন্ত্রী এত কাজ করছেন, সুতরাং আমাদের চিন্তা-ভাবনাও পরিবর্তন আনতে হবে। স্বাস্থ্যসেবা ভালো করতেই হবে। দৈনন্দিন সমস্যাগুলো নিয়ে কথা না বলতে পারলে নিজের বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থাকি। এই কারণে এতগুলো কথা বললাম।ইউকে-এইড ও ইউএনডিপির অর্থায়নে এই ‘ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা ও স্বাস্থ্যবীমা’ প্রকল্প একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলেও মন্তব্য করেন সেলিনা হায়াৎ আইভী। এই প্রকল্প নারায়ণগঞ্জে স্থায়ী করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, যেকোন ধরনের পাইলট প্রকল্প নারায়ণগঞ্জ দিয়ে শুরু হয়।

 

এই প্রকল্প জনপ্রিয় হয়ে উঠলে পরে আর নারায়ণগঞ্জে ধারাবাহিকভাবে থাকে না। পাইলট প্রকল্পের পর এটি অন্য শহরের পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জেও যেন স্থায়ী হয় সেই অনুরোধ জানান আইভী।তিনি বলেন, বীমার বিষয়টি বর্তমান প্রজন্ম তেমন পরিচিত না। সরকার এতে জোর দিয়ে কাজ করতে চাচ্ছেন। এটিকে আবার জনপ্রিয় করে তোলা গেলে মানুষকে সেবা দেওয়া সম্ভব।

 

দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সকল সুযোগ-সুবিধা দিয়ে উন্নত ও সমৃদ্ধশীল দেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমাদেরও দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে এই কাজে সহযোগিতা করতে হবে।‘ডাক্তার ভাই’ নাম নিয়ে আপত্তি তোলেন সিটি মেয়র। তিনি বলেন, ভিডিওচিত্রে সেবাগ্রহীতা নারী, সেবা প্রদান করলেন নারী কিন্তু কার্যক্রমের নাম দেওয়া হলো ‘ডাক্তার ভাই’।

 

এইভাবে লিঙ্গভিত্তিক না করে নামটা নিরপেক্ষ দিতে পারলে ভালো হয়। এটা পরিবর্তন প্রয়োজন কেননা এই পুরুষশাসিত সমাজে পুরুষদের কর্তৃত্বের যেমন প্রয়োজন আছে তেমনি নারী ক্ষমতায়নেরও প্রয়োজন। নারীদের অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিলে আমরাও সম্মানিতবোধ করি। যে মা সন্তানকে নয় মাস পেটে রাখতে পারে সে নারী পারে না এমন কোন কাজ নাই।

 

কিন্তু নারীদের কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে অবহেলা থেকে যায়। বারবার আমাদের যোগ্যতার পরিচয় দিতে হয়। জীবন বীমা কর্পোরেশনের চেয়ারম্যানের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জে আপনাদের যেসব জায়গা-জমি ও অফিসগুলো পড়ে আছে সেগুলোকে কাজে লাগান। আপনাদের প্রয়োজনেই কাজে লাগান, অন্যকে ভাড়া দিয়ে নয়। প্রধানমন্ত্রী সবগুলো সেক্টরেই নজর রাখছেন।

 

কিন্তু আমাদেরই হয়তো কোথাও গাফিলতি থেকে যাচ্ছে।বক্তব্য শেষে উপকারভোগীদের কয়েকজনের হাতে ভাউচার কার্য ও হেলথ কার্ড তুলে দেন। এই কার্ডধারী ব্যক্তিগণ ডিজিটাল মাধ্যমে স্বাস্থ্য তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবহার, কাস্টমার কেয়ার নম্বরে কল করে ২৪ ঘন্টা চিকিৎসকের পরামর্শ, ই-প্রেসক্রিপশন, বহির্বিভাগ চিকিৎসা, হাসপাতালে ভর্তি বীমা ও জীবন বীমা সেবাগ্রহণ করতে পারবেন।

 

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জীবন বীমা কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান আসাদুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব মাসুম পাটোয়ারী, নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল বাসার, জেলা সিভিল সার্জন ডা. মুশিউর রহমান প্রমুখ।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন