Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

‘যানজটের সঙ্গে মানবজটের ও নিরসন চাই’

Icon

পরিচয় প্রকাশ গুপ্ত

প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২২, ০৬:০৭ পিএম

‘যানজটের সঙ্গে মানবজটের ও নিরসন চাই’
Swapno

# শহরবাসীর সাশ্রয়ে অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করতে হবে

 

শহরের প্রধান প্রধান সড়ক এখন ব্যাটারী চালিত রিকশা ও অটোরিকশামুক্ত হলেও মহল্লাগুলোতে সেই আগের চিত্রই অম্লান রয়েছে। এদিকে, প্রধান প্রধান সড়ক যানজটমুক্ত হলেও শহরবাসীর সাশ্রয়ীমূল্যে ও কাঙ্খিত সময়ে গন্তব্যে পৌছার ব্যবস্থাটি ভেঙ্গে পড়েছে। কারণ, ঘর থেকে বের হয়ে মহল্লার গলিতে পা রাখলেই আপনার সামনে পড়বে ব্যাটারিচালিত রিকশা বা মিশুক।

 

সে আপনাকে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে অস্বীকৃতি জানাবে। পুলিশের অজুহাত দেখিয়ে  বলবে, পুলিশ তাদের প্রধান সড়কগুলো পেরুতে দেবে না। উল্টো, জরিমানা গুনতে হবে নয়শ’ থেকে পনেরশ’ টাকা। শহরের মোড়ে মোড়ে পুলিশ ও কমিউনিটি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আপনি নাছোড়বান্দার ভূমিকা নিলে ব্যটারিচালিত রিকশা ও মিশুক চালকেরা অতিরিক্ত ভাড়া চুক্তি করে আপনাকে নিয়ে রওনা হবে।

 

মনে করুন, আপনি দেওভোগ পানির টাঙ্কি থেকে টানবাজার যেতে চান। দূর থেকে পুলিশের ইউনিফর্ম দেখিয়ে চালক আপনাকে নামিয়ে দেবে রহমতউল্লাহ ইনস্টিটিউটের পাশে এবং বলবে, আমার ভাড়া দিয়ে যান এবার পদচালিত (প্যাডাল) রিকশা নিয়ে। এ শহরে প্যাডাল রিকশা এখন শতকরা পাঁচ শতাংশেরও কম। তাই দেখা যাবে, আধঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকেও আপনি একটি প্যাডাল রিকশা জোটাতে পারেননি।

 

দু’একটি প্যাডাল রিকশা আসতে দেখলেও দেখবেন একটি রিকশার দিকে দৌঁড়ে যাচ্ছে এক ডজন যাত্রী।  এ প্রতিযোগিতায় পেরে না উঠে এবার হাটতে থাকুন গন্তব্যের দিকে। শহরের সাতটি প্রধান প্রবেশমুখে প্রশাসন বর্তমানে ব্যটারীচালিত রিকশা ও অটোরিকশা আটক করতে পুলিশ ও কম্যুনিটি পুলিশ মোতায়েন করেছে। ওদিকে, শহরের প্রধান বঙ্গবন্ধু সড়কে এসে মেশা গলিমুখগুলোতেও পুলিশ রয়েছে। তাই ব্যাটারীচালিত রিকশা বা মিশুক যাত্রীর জন্য বর্তমানে শহর দুর্গম হয়ে উঠেছে।


প্রশাসনের প্রতি শহরবাসির দাবী, যানজট নিরসনের সঙ্গে শহরবাসির সাশ্রয়ে যাতায়াতও অবাধ রাখতে হবে। যানজট নিরসনে রাজপথ থেকে ব্যাটারীচালিত রিকশা ও অটোরিকশা দূর করা হয়েছে এতে আমরা খুশী। তবে, মহল্লার অলি গলি থেকেও এ দুটি যান দূর করতে হবে এবং বিকল্প হিসেবে মানুষ সাশ্রয়ী মূল্যে শহরের সর্বত্র যেতে পারে এমন পরিবহনের ব্যবস্থা করতে হ্ব। একই সঙ্গে ফুটপাতে মানবজটও নিরসন করতে হবে। যাতে মানুষ স্বাধীনভাবে হেঁটে চলতে পারে। এজন্য প্রয়োজনে ফুটপাতের অবৈধ দখলদারদেরও উৎখাত করতে হবে।


উল্লেখ্য, রমজান উপলক্ষে শহর যানজটমুক্ত রাখতে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে প্রশাসন। এ ব্যপারে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ও এগিয়ে এসেছে। ইতিমধ্যে ব্যবসায়ী সেতা ও সাংসদ সেলিম ওসমান রমজানে শহর যানজটমুক্ত রাখতে আপদকালীন কমিউনিটি পুলিশ নিয়োগ দিতে পুলিশ সুপারকে ১০লাখ টাকাও পদান করেছেন। এরই মধ্যে একশ’ জন কম্যুনিটি পুলিশ নিয়োগ ও তাদের জ্যাকেট প্রদান করা হয়েছে।

 

এ কাজে আরও কমিউনিটি পুলিশ নিয়োগ দেয়া হবে বলে নারায়ণগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মুস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যানজটমুক্তির জন্য শহরে অবৈধ গাড়ি প্রবেশ বন্ধের পাশাপাশি শহরে  গাড়ির অবৈধ স্ট্যান্ডগুলোও উৎখাত করা হচ্ছে। এজন্য শহরের রাস্তা ও রাস্তা সংলগ্ন ফুটপাতও অবৈধ দখলমুক্ত করা হবে।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন