Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

শামীম হত্যাকাণ্ডে আলীর জবানবন্দি প্রদান

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২২, ০৫:১১ পিএম

শামীম হত্যাকাণ্ডে আলীর জবানবন্দি প্রদান
Swapno

# মাদকস্পটের টাকা উত্তোলনকে কেন্দ্র করেই এই হত্যাকাণ্ড

 

মাদকস্পটের টাকা উত্তোলনকে কেন্দ্র করে ফতুল্লার ইসদাইরে প্রকাশ্য দিবালোকে শামীমকে (৩০) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সরমী বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ্য সহ অজ্ঞাতনামা আরো ১০-১২ জন কে আসামী করে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছে।

 

বুধবার (৬ মার্চ) বেলা সাড়ে বারোটার দিকে ফতুল্লা থানার ইসদাইর রাবেয়া স্কুলের পশ্চিম পার্শ্বের রেল লাইন সংলগ্ন রাস্তায় অভিযুক্তরা কুপিয়ে ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে শামীমকে। মামলায় আসামী করা হয়েছে রাজ্জাক বাহিনী প্রধান রাজ্জাক ((৪২), আলী ওরফে ডাকাত আলী (৪৫),রাজ্জাকের দুই পুত্র জসিম(২২),অসিম(১৯), ফরিদ(৪০),

 

আলম((৩০), রায়হান((৩২), জাকির(৩৫), জামান( ৪০), আল-আমিন (২৮), শান্তসহ (২০) অজ্ঞাতনামা ১০/১২ জনকে। মামলার এজাহার নামীয় আসামী আলী ওরফে ডাকাত আলী ও প্রধান আসামী রাজ্জাকের পুত্র অসিমকে ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আসামী আলী ওরফে। ডাকাত আলী বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) দুপুুরে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইমরান মোল্লার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।

 

সেখানে ঘটনার আদ্যোপন্ত বর্ণনা দিয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোর্ট ইন্সপেক্টর আসাদুজ্জামান। নিহত শামীম মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর থানার পাড়াগাও গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে। সে স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে শ্বশুড় বাড়ী ফতুল্লার দাপা ইদ্রাকপুর এলাকার শহীদ হোসেনের বাড়িতে ভাড়া থাকে।
নিহত শামীম জেলা কারাগারে আটক ফতুল্লা থানার তালিকাভুক্ত দাপা ইদ্রাকপুর এলাকার শহিদ হোসেন ওরফে ডাকাত শহিদের জামাতা।

 

নিহত শামীম তার স্ত্রী সহ দু বছর পূর্বে দুই হাজার পিছ ইয়াবা নিয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের গ্রেফতার হয়। তাছাড়া ২০২১ সালে ইসদাইরে সংঘটিত রুবেল হত্যা মামলার আসামী ছিলো।


জানা গেছে, বুধবার সকাল সাড়ে ১২টার দিকে ফতুল্লার ইসদাইরে মাদক নিয়ে বিরোধে একটি ভাঙ্গারীর দোকানের ভিতর শামীমকে কুপিয়ে হত্যা করে মাদক ব্যবসায়ী রাজ্জাক বাহিনী। আদর্শ ইসদাইর এলাকায় আনোয়ারুল হকের মালিকানাধীন জমিতে টিনশেড ঘর ভাড়া নিয়ে ভাঙ্গারী ব্যবসার আড়ালে মাদকের স্পট নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে রাজ্জাকের বিরুদ্ধে। রাজ্জাক ইসদাইর এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী মনির উদ্দিন আহাম্মদের বাড়ির ভাড়াটিয়া

 


প্রত্যক্ষদর্শী চা দোকানদার জামাল জানান, বুধবার একটি পত্রিকায় প্রকাশিত মাদক নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় রাজ্জাক দোষারোপ করে শামীম কে । একারনে শামীমের সাথে তর্কে লিপ্ত  হয় রাজ্জাক। এক পর্যায়ে রাজ্জাকের নেতৃত্বে জসিম, জাকির, আলম, মহসিন, আলী ওরফে ডাকাত আলী, শান্ত, রায়হান ও রাজ্জাকের পুত্র অসিম প্রায় ১৪/১৫ জন মিলে আমাকে ও শামীমকে তার ভাংগারী দোকানে ঢুকিয়ে সার্টার লাগিয়ে দেয়।

 

এ সময় শামীমের সঙ্গে ওদের ধস্তাধস্তির ফাঁকে আমি দোকান থেকে বের হয়ে যায়। তারপর আমাকে মাথায় রড দিয়ে আঘাত করেছে। শামীমকে বাচাঁতে চিৎকার দিলেও কেউ এগিয়ে আসেনি। জামাল আরো জানান, রাজ্জাকের নেতৃত্বে শামীম কে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে।


জামালের মা তানিয়া বেগম জানান, তার ছেলে জামালের চাষাঢ়া রেলস্টেশন এলাকায় চায়ের দোকান রয়েছে। দুইদিন আগে সেখানে মাদকের স্পটে মাদক বিক্রি করতে নিষেধ করায় রাজ্জাক গ্রুপের সঙ্গে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে জামালকে মারধর করে। পরে তিনি বাঁধা দিতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। ওই ঘটনায় মঙ্গলবার তিনি ফতুল্লা মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।

 

ওই অভিযোগের সূত্র ধরে রাজ্জাক ও তার অনুগামীরা বুধবার সকালে তার ছেলে জামালকে ডেকে নিয়ে মারধর করতে থাকে। এসময় জামালকে দিয়ে আমাকেও বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে আসা হয়। আমি এসে দেখতে পাই আমার ছেলে জামালকে ভাঙ্গারীর দোকানে আটকে মারধর করা হচ্ছে। এসময় আমি কাকুতি মিনতি করলেও রাজ্জাক বাহিনী শোনেনি।

 

আমাকেও শেকল দিয়ে আটকে রেখে মারধর করা হয়। এসময় শামীম আসলে তাকে আটকে রাজ্জাক বাহিনী বলে, তোর কারনেই জামাল ও তার মাকে আটকেছিলাম। নইলে তো তুই আসতি না। এই কথা বলেই তারা শামীমকে এলোপাথারি কোপাতে থাকে। শামীমের সঙ্গে শত্রুতার বিষয়ে তিনি বলেন, কিছুদিন আগে মিলন মাদকের স্পট চালাতো। রাজ্জাক তখন ৫০-৬০ হাজার টাকা আনতো। সেই স্পট নিয়ে নাকি শামীমের সঙ্গে রাজ্জাক বাহিনীর বিরোধ ছিল বলে শুনেছি।


জামালের স্ত্রী স্বপ্না বেগম জানান, আমার স্বামী জামালের দোকানের পাশেই রাজ্জাক ও তার লোকজন হিরোইন ও গাজার স্পট চালু করেছে। আমার স্বামী সেখানে মাদক বিক্রি করতে বাধা দেওয়ায় তাকে মারধর করতে থাকে। আমার শাশুড়ি খবর পেয়ে ছুটে গেলে তাকেও আটকে রেখে মারধর করে। পরে শামীম আমার স্বামীকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে শামীমকেও কুপিয়ে হত্যা করা হয়।


নিহত শামীমের পিতা আলমগীর হোসেন জানান, কি কারণে শামীমকে হত্যা করা হয়েছে সেটা তিনি জানেন না। তিনি খবর পেয়ে ছুটে এসেছেন।
শামীমের স্ত্রী শরমী জানান, বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় কোন একজন ফোন করে জানান তোমার স্বামীকে রাজ্জাকের ভাঙ্গারীর দোকানে রাজ্জাকসহ কয়েকজন মিলে কুপিয়ে ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে লাশ শনাক্ত করেছি। এদিকে শামীমের বিরুদ্ধে হত্যা, মাদক সহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা যায়।


এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২১ সালের ২৯ জুন চাষাঢ়ায় রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকাতে মাদকের স্পট নিয়ে বিরোধে রাজমিস্ত্রী রুবেল হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছিল। চাষাঢ়ায় রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকাতে মাদকের একটি স্পট পরিচালনা করতো মানিক ও শামীম গ্রুপ। দীর্ঘদিন ধরেই তারা এই স্পট নিয়ন্ত্রণ করতো। তৎকালে স্পটটিতে ভাগ বসাতে শুরু করে ইসদাইর বুড়ির দোকান এলাকার জুয়েল ও সোহাগ গ্রুপ।

 

ওই স্পটটি নিয়ন্ত্রণ করা নিয়েই শামীমের সঙ্গে রাজ্জাক গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ চলে আসছিল। ফতুল্লা মডেল থানার ওসি রকিবুজ্জামান জানান, শামীম হত্যাকান্ডের ঘটনায় ওয়াসিম ও আলী নামের দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত বাকী আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মামলা দায়ের করেছে। ঘটনার সাথে জড়িত অপর আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছে পুলিশ।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন